কল্পগল্প
Published : 07 Apr 2026, 11:41 PM
টিকু আর টিয়া ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে। আজ ভুলে জানালার পর্দাটা টেনে দেয়নি ওরা। টিকুর কেমন যেন লেগে ঘুমটা ভেঙে গেল মাঝ রাত্তিরে। মনে হলো, জানালায় ছোট্ট একটা ছায়া।
বিছানায় উঠে বসে তারা দেখল, ছোট্টমতোন এক অবয়ব লেপ্টে আছে জানালায়। বাইরে জোছনা। আগের দিনে হলে যেকোনো বাচ্চামানুষই ভয় পেত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আজকালকার বাচ্চারা ভয়টয় পায় না। ভূতের কথায় ভয়ের বদলে খিকখিক করে হেসে ওঠে ওরা।
টিকুও ভয় পেল না। টিয়ার যেন ঘুম না ভেঙে যায়, তাই আস্তে করে জানালা খুলল সে। খুলতেই দেখে এই এক হাত সমান ছোট্ট এক ছানা উস্কখুস্ক চুলে দাঁড়িয়ে আছে। তার শরীর বেয়ে যেন জোছনা ঝরছে। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে বলে উঠল, “ফাবো!”
টিকু বলল, “কী?” সে আবারও বলল, “ফাবো!” টিকু বলল, “সেটা কী? তুমিই বা কে? তুমি কি ভূতের ছানা?” ছোট্ট পুতুলের মতো মেয়েটা বলল, “ফাবো!”
ভারি মুশকিল, এসব ফা ফা ফু টাইপের আলাপ তো টিকু কোনোদিনও শোনেনি। টিয়াকে ডেকে তুলবে নাকি! ছোট্টমতোন ভূতের না জোছনার ছানাকে দেখে অবশ্য ক্ষতিকর মনে হচ্ছে না। বরং অনেক মিষ্টি সে। কিন্তু সে আসলে কে?
টিকু ইশারায় তাকে ভেতরে এসে বিছানায় বসতে বলল। ছোট্ট পুতুলের মতো মেয়েটি শাই করে নেমে বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে বসল। আবার বলল, “ফাবো!”
টিকু বলল, “দেখো, তোমার কথা তো আমি বুঝতে পারছি না। ফাবো মানে কী? তুমি কোথা থেকে এসেছ?” সে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল টিকুর দিকে। তারপর ছোট্ট আঙুল উঁচিয়ে আকাশের দিকে দেখিয়ে দিল। আকাশে মস্ত চাঁদ গা এলিয়ে বসে আছে।
“তুমি কি তাহলে চাঁদের দেশের মেয়ে?” জিজ্ঞেস করল টিকু। সে কিছু না বলে আবারও তাকিয়ে রইল। এবার আঙুল দিয়ে বিছানার পাশের টেবিলে রাখা দুধের গ্লাস দেখিয়ে দিল। বলল, “ফাবো!”
টিয়া দুধ না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েছে। রোজ রোজ ঘুমানোর আগে দুধ খেতে তার ভালো লাগে না। টিকু এবার কিছু একটা বুঝল। সে বলল, “তুমি দুধ খাবে?” সে আবারও বলল, “ফাবো!”
টিকু দুধের গ্লাসটা এনে তার সামনে রাখল। জোছনার মতো ছোট্ট মেয়েটি ছোট্ট দুই হাতে গ্লাসটি ধরে এক নিঃশ্বাসে দুধ খেয়ে নিল। এরপর খালি গ্লাসটি টিকুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “নে।” টিকু হেসে বলল, “নে মানে নাও? দাও আমি রেখে দিচ্ছি।”
টিকু খালি দুধের গ্লাসটা নিয়ে এবার পড়ার টেবিল রাখতে গেল। ফিরে এসে দেখে জোছনার মতো মেয়েটি আর নেই। জানালা দিয়েই চলে গেল! কোথায় গেল সে? নামটিও তো জানা হলো না। সে কে আসলে? নানান কথা ভাবতে ভাবতে টিকু ঘুমিয়ে পড়ল। এতকিছু যে ঘটে গেল, তা টিয়া টেরই পেল না।
পরদিন রাতে ঠিক একই সময়ে জানালায় সেই শব্দ হলো। টিকু ঝট করে উঠে দেখে সেই ছোট্ট পুতুল পুতুল মেয়েটি। জানালা খুলতেই সে বলল, “ফাবো!” টিকু পেছন ফিরে দেখে আজও টিয়া দুধ না খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। সে ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে দুধের গ্লাসটা এনে দিল।
ছোট্ট মেয়েটির গা দিয়ে জোছনা ঠিকরে পড়ছে। টিকু বুঝে নিল, সে চাঁদের দেশের মেয়ে। মেয়েটি ঢকঢক করে গ্লাসের সবটুকু দুধ খেয়ে নিল।
তারপর মিষ্টি হাসি হেসে হাত নেড়ে বলল, “তাতাহ্!” টিকুও এবার হাত নেড়ে বলল, “টাটা বাই!” টিকুর বুঝতে বাকি রইল না, “ফাবো মানে হলো খাবো।”
এরপর থেকে চাঁদের দেশের মেয়েটির জন্য আলাদা একটি গ্লাসে দুধ রেখে দেয় সে। রোজ রাতে ছোট্ট মেয়েটি এসে বসে টিকুর বিছানায়। রোজই কি তারা একে অপরকে একটু একটু করে বুঝে নিচ্ছে? টিকু কি ওর সব ভাষা শিখে ফেলছে? কে জানে…।