মেলায় মুনতাসীর মামুনের বই ‘কী চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু’

ছয়টি প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বৈচিত্র্যময় দিকগুলো তুলে ধরেছেন লেখক।

কিডজ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Feb 2024, 08:10 PM
Updated : 28 Feb 2024, 08:10 PM

অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ওপর সংকলিত ভিন্নধর্মী প্রবন্ধের সংকলন ‘কী চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু’। এতে লেখক-ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুন তার লেখা ছয়টি প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধুর জীবনের বৈচিত্র্যময় দিকগুলো তুলে ধরেছেন।

‘কী চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু’-তে তিনি দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক অবস্থান। ‘বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিতে গণহত্যা ১৯৭১’-এ বিবৃত হয়েছে সদ্য স্বাধীন দেশে ফিরে গণহত্যা কীভাবে অনুভবে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু যে গান ও শিশুকিশোরদের ভালোবাসতেন তা জানেন ক’জন? এ বিষয় দুটি নিয়ে লেখা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রিয় গান’ ও ‘শিশুকিশোরদের বঙ্গবন্ধু’।

‘পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ পালনের এক অনুষ্ঠানে ছিলেন লেখক। সে অনুষ্ঠানের বর্ণনা আছে ‘পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন’ প্রবন্ধে। সবশেষ প্রবন্ধটি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইতিহাস চর্চার প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে।

অমর একুশে বইমেলায় বইটি প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। মুদ্রিত মূল্য ৪০০ টাকা।

‘কী চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু?’ শিরোনামে প্রবন্ধে লেখক লিখেছেন, “বাংলাদেশের কথা বলব অথচ বঙ্গবন্ধুর কথা আসবে না, তাতো হয় না। রাম ছাড়া কি রামায়ণ হয়! তাই আমার এ প্রবন্ধে তার কথা আসবে, কোন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন তার কথা আসবে আর আসবে, ৫০ বছরে সে বাংলাদেশ কোথায় এসে পৌঁছেছে। বঙ্গবন্ধু কী ছিলেন বাঙালির কাছে তা আজকের প্রজন্ম হয়তো অনুধাবন করতে পারবেন না। একটি কথা ভাবুন, একজন নেতা স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, সশরীরে নেই মাঠে, কিন্তু তাঁর হয়ে লড়াই করছেন বাঙালিরা, ৩০ লক্ষের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, ৫ লক্ষের বেশি নারী ধর্ষিত হয়েছেন, গ্রাম কী গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাঙালিকে দমানো যায়নি। এমন ঘটনা কখনো কোথাও ঘটেনি।”

গরিবদের চাল দেওয়া, নিজের গায়ের চাদর দিয়ে দেওয়া এ ধরনের নানা কাহিনি জানা যাবে ‘শিশু-কিশোরদের বন্ধু বঙ্গবন্ধু’ প্রবন্ধে। গত শতকের ষাটের দশকে বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের জন্য রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই গড়ে তুলেছিলেন 'কচি-কাচা' নামে একটি সংগঠন। কবি সুফিয়া কামাল, বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন, শিল্পী হাশেম খান এরা জড়িত ছিলেন এ সংগঠনের সঙ্গে।

লেখকের ছেলেবেলায় তারাও সভ্য ছিলেন এই সংগঠনের। শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশে সংগঠনটি বড় ধরণের ভূমিকা রেখেছিল। বঙ্গবন্ধুও খুব ভালোবাসতেন এই সংগঠনটিকে। বঙ্গবন্ধু মনে করতেন, শিক্ষা-সংস্কৃতির চর্চা না করলে ছেলেমেয়েরা মুক্তমনা হতে পারে না। তাই তিনি চাইতেন এই ধরনের শিশু সংগঠনগুলোর সঙ্গে যেন শিশু-কিশোররা জড়িত থাকে। 

১৯৬৩ সালে প্রেসক্লাবে কচি-কাঁচার মেলা আনন্দ মেলার আয়োজন করেছে। বঙ্গবন্ধু গেলেন সেখানে। বললেন, ‘এই পবিত্র শিশুদের সঙ্গে মিশে মনটাকে একটু হালকা করার জন্য এলাম।’

কচি-কাঁচার মেলার দাদাভাই ১৯৭২ সালে কঁচি-কাঁচার সদস্যদের দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ছবি আঁকিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী কীভাবে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে, নারী ও শিশুদের নির্যাতন করেছে, মুক্তিযোদ্ধারা কীভাবে দেশের জন্য লড়াই করেছে এগুলোই ছিল ছবির বিষয়বস্তু। ক্ষুদে শিল্পীদের বয়স ছিল ৫ থেকে বারো বছরের মধ্যে। দাদাভাই বাছাই করে কিছু ছবি নিয়ে গেলেন ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধুকে দেখাবার জন্য।

বঙ্গবন্ধু তখন রাশিয়া যাবেন। ছবিগুলো দেখে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘আমার দেশের শিশুরা এমন নিখুঁত ছবি আঁকতে পারে, এসব না দেখলে তা বিশ্বাস করা যায় না।’ তিনি বললেন, ছবিগুলো তিনি রাশিয়া নিয়ে যাবেন রাষ্ট্রীয় উপহার হিসেবে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতির উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। তিনি বলেছিলেন বাধ্যতামূলক অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা তিনি গড়ে তুলবেন পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য।

তিনি যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তখন ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সেখানে ৫ হাজার নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বাংলাদেশে তখন সবকিছুর অভাব। তারমধ্যেও তিনি শিশুদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের চিন্তা করছিলেন। তিনি জানতেন, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি হচ্ছে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা।

শিশুকিশোরের সঙ্গে এমন আরও স্মৃতি এবং তাদের জন্য বঙ্গবন্ধুর নেওয়া উদ্যোগ জানা যাবে এ বইটি থেকে। ‘বঙ্গবন্ধুর প্রিয় গান’ প্রবন্ধ থেকে জানা যাবে গানপ্রিয় এক নেতাকে। মুনতাসীর মামুনের ‘কী চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু’ বইটি পাওয়া যাবে মেলার সময় প্রকাশনের প্যাভিলিয়ন নাম্বার ৩০-এ।