Published : 26 Mar 2026, 09:04 AM
পাকিস্তানি নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। সেই ঐতিহাসিক দিনটির ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে বৃহস্পতিবার।
শুরুটা ১৯৪৭ সালে। ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার পর শুরু হয় পাকিস্তানি শাসন। দুই যুগ ধরে তাদের বৈষম্য আর বর্বরতার শিকার বাঙালি জাতি ক্রমেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
স্বাধিকারের দাবিতে জেগে ওঠা বাঙালিদের ওপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ঢাকায় তারা সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মানুষের উপর গণহত্যা শুরু করে।
পৈশাচিক এই বর্বরতার মধ্যেই ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি তার আগেই বাংলাদেশকে ‘স্বাধীন’ ঘোষণা করে দেশবাসীর উদ্দেশে তারবার্তা পাঠিয়ে যান। তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী ইপিআরের বেতারে তার এই ঘোষণা প্রচারিত হয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষণার পর বাংলাদেশে প্রতিরোধ শুরুর খবর আসতে থাকে। কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে ২৭ মার্চ বিবিসি জানায়, শেখ মুজিবুর রহমান গোপন বেতার থেকে জনসাধারণকে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।
সেই ডাক পৌঁছে যায় বাঙালির কানে কানে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এরপর প্রবাসী সরকার গঠন করা হলে তাদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ একটি সংগঠিত রূপ নেয়।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান ও আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির ঘটনা ঘটে। এত কষ্টের মাঝেও এই জাতি অসামান্য ত্যাগ ও দৃঢ়তা দেখিয়েছে।
অবশেষে, ১৬ ডিসেম্বর দখলদার পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালির বিজয়ের গল্প রচিত হয়। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
এই স্বাধীন দেশে আমরা অনেকেই জন্মেছি, যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু আমরা তাদের কখনো ভুলব না, যারা প্রাণের বিনিময়ে আমাদেরকে এই স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন।
প্রতিবেদকের বয়স: ১৭। জেলা: ঢাকা।