২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

হাম-ডেঙ্গুর সঙ্গে মৌসুমি ‘ফ্লু’, হাসপাতালে হিমশিম

“বাড়ির আশপাশে পরিচিত অনেকের জ্বর, সর্দি শুনতেছি। ডেঙ্গুর কথাও শুনতেছি। আর ডেঙ্গুতে মানুষ মরার কথা শুনে মনে হয়, জ্বরের সঙ্গে দেশের সবখানে যমদূত আসছে।’’

আব্দুস সবুর লোটাস আব্দুস সবুর লোটাস

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 12:28 AM

Updated : 22 Sep 2026, 12:28 AM

দেড় বছরের শিশু রোজা ইসলাম জ্বর, নিউমোনিয়াসহ একাধিক ইনফেকশনে ভুগছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা প্রয়োজন। কিন্তু আইসিইউতে শয্যা না পেয়ে ঢাকার শিশু হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করছিলেন রোজার বাবা সিরাজুল ইসলাম।

সোমবার শিশু হাসপাতালের করিডরে দেখা হয় এই অভিভাবকের সঙ্গে। তিনি জানালেন, তাদের বাসা কুষ্টিয়ায়। সেখানে এক সপ্তাহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার পর বলা হয়েছিল হাম। কিন্তু রোজার শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত ২টায় ঢাকায় নিয়ে আসেন। এখানে চিকিৎসকরা বলছেন, রোজার হাম হয়নি।

“তবে নিউমোনিয়াসহ একাধিক ইনফেকশনের কথা বলছেন ডাক্তরারা। কিন্তু চার দিন ধরে কয়েকটা হাসপাতালে ঘুরে আইসিইউ সিট পাচ্ছি না। সবার পরামর্শ দিল ‘শিশু হাসপাতালে যাও’। কিন্তু এখানেও সিট নেই।”

শুধু এই অভিভাবক নয়, এমন আরো অনেকে আইসিইউ বা একটি শয্যার জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছেন।

রাজধানীর দুটি বড় হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুসারে, গত কয়েক মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই জ্বর-সর্দি, কাশি নিয়ে তুলনামূলক বেশি রোগী আসছে। এর মধ্যে শিশুদের ক্ষেত্রে হাম এবং বড়দের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বেশি। এছাড়া জ্বরের রোগীও আছে।

শিশু হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা বশির উদ্দন বলেন, “হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে রোগীর চাপ এখন বেশি। প্রতিদিন যতগুলো আইসিইউ শয্যা ফাঁকা হয়, তার দ্বিগুণের বেশি চাহিদা থাকছে।”

এ হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের আইসিইউ শয্যা আছে ৬৮টি। যার মধ্যে এনআইসিইউ, পিআইসিইউ ১৬টি করে, আরআইসিইউ ১১ শয্যা, এসআইসিইউ ৮টি।

চিকিৎসকরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর এই সময়টায় জ্বর, সর্দি-কাশির রোগী অনেক বেশি। এগুলা সাধারণ ‘সিজনাল ফ্লু’ হলেও এবার ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছে।

রাজধানীর বারেক মোল্লার মোড়ের বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন তার ছোট ভাই সাদ্দামকে নিয়ে

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এসেছেন।

তিনি বললেন, ‘‘আমার ছোট ভাই স্বাভাবিক কাজ-কর্ম করে খায়। কিন্তু গত সপ্তাহে প্রথম জ্বর আসে। দুদিনে ভালো না হওয়ায় এখানে আসি, টেস্ট করার পর ডেঙ্গু পজেটিভ এসেছে।’’

ইলিয়াস বলেন, “বাড়ির আশপাশে পরিচিত অনেকের জ্বর, সর্দি শুনতেছি। ডেঙ্গুর কথাও শুনতেছি। আর ডেঙ্গুতে মানুষ মরার কথা শুনে মনে হয়, জ্বরের সঙ্গে দেশের সবখানে যমদূত আসছে।’’

ডেঙ্গু ও হামের প্রাথমিক লক্ষণও জ্বর। ফলে রোগীরা বুঝতে পারছেন না আসলে কী হয়েছে। চিকিৎসা নিতে একটু দেরি হলে শরীরে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বর হলেই প্রথমে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। আর শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখে হামের বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। এসব রোগ মোকাবিলায় প্রাথমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্য সেবায় পরীক্ষা বা রোগী নির্ণয়ের ব্যবস্থা ছাড়া মৃত্যু ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. নন্দিতা পাল বলেন, “প্রচুর মানুষ এখন জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে অনেকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। দেশের পরিস্থিতি অনুসারে এখন জ্বর হলেই তিন দিনের মধ্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে।

‘‘ডেঙ্গু পরীক্ষা না করে জ্বর ভালো হলেই অনেকে ধরে নেন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জ্বর ভালো হওয়ার পর অনেক সময় শরীরের আরো জটিল পরস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’’

এই চিকিৎসক বলেন, শুরুতে রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসা করা সহজ হয়। কিন্তু দেরি হলে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

“আবার অনেকে বাড়িতে নিজের মত করে স্যালাইন নেন। এটি একদমই ঠিক নয়।”

ডা. নন্দিতা সতর্ক করে বলেন, “রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুসারে স্যালাইন শরীরে দেওয়ার মাত্রা ঠিক করতে হয়। তাই রোগী বা বিশেষজ্ঞ ছাড়া কেউ নিজের মত করে স্যালাইন দিলে সেটি খুব ভালো কিছু বয়ে আনে না। যে কোনো অবস্থায় লিকুইড নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে। বিভিন্ন তরল, ভালো খাবার খেতে হবে।

“জ্বর শেষ হলে ব্লাড প্রেশার মাপতে হবে। কারণ জ্বর ভালো হলে অন্য আরো বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যেতে পারে, সেগুলো খুব ভালোভাবে দেখতে হয়।’’

এই চিকিৎসক বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু-হাম দেশজুড়ে চলছে, তাই জ্বরের লক্ষণ কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।

হাসপাতালে রোগীর চাপ

সোমবার সরেজমিনে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, দুই হাসপাতালের ডেঙ্গু এবং হাম ওয়ার্ডে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পাঁচ তলার বারান্দা জুড়ে শতাধিক রোগী বেড পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে ১ হাজার ২৪৬ জন রোগী এসেছেন। এর মধ্যে নিউমোনিয়া ৩৯ জন, সাধারণ ঠান্ডা নিয়ে ২৮৯ জন, অ্যাজমা নিয়ে ১৭ জন, স্কিনের সমস্যা নিয়ে ২৫০ জনের বেশি, ডেঙ্গু নিয়ে ৩৭ জন, ডায়রিয়া নিয়ে ৫১ জন।

চলতি বছর এ পর্যন্ত হাম নিয়ে ২ হাজার ৭৯৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এ হাসপাতালে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ১৯ জনসহ মোট ৯৭ জন রোগী এখন ভর্তি রয়েছে। হাসপাতালের হাম ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা ১০০টি।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে এ হাসপতালে ৩ হাজার ২০৫ জন রোগী হামের চিকিৎসা নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনসহ বর্তমানে ৬৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

আর চলতি বছর ৩ হাজার ৬৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৮৮ জনসহ বর্তমানে ২৪২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ।

এ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় বেশিরভাগ ডেঙ্গু পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসছে। রোগীর এত চাপ, আমরা শরীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভর্তি নিচ্ছি। তারপরও বারান্দায় অনেকের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

“আবার শিশু ওয়ার্ডে এত ভিড় যা কল্পনার বাইরে। অক্সিজেন সিলিন্ডার না থাকায় অনেক সময় জটিল পরস্থিতির বাচ্চাদের অন্য হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে।”

রাজধানীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতাল বর্তমানে হাম ডেডিকেটেড হিসেবে সেবা দিচ্ছে। ফলে এখানে হামে আক্রান্ত ছাড়া অন্য কোনো রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। তবে কোভিডের পর গত বছর এই হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা হয়েছে।

এই হাসপাতাল ছাড়া রাজধানীর সরকারি সব হাসপাতালে পাশাপাশি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ও হামের চিকিৎসা চলছে। একে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, হাম অতি সংক্রামক ভাইরাস।

চট্টগ্রামে ‘এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, হামে সংক্রমিত শিশুদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিশুই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল থেকে হামে আক্রান্ত হয়েছে, যা হাসপাতালগুলোর সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে।

গবেষণার ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে বছরব্যাপী টিকা কর্মসূচি চালু রাখা এবং হাম আক্রান্তদের আইসোলেশন কঠোরভাবে অনুসরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘‘হামের পরিস্থিতি হয়ত আর কিছুদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ে এবার ভয় হচ্ছে। প্রচুর রোগীর চাপ বাড়ছে, তার মধ্যে কিছু রোগীর হামের পর ডেঙ্গু হয়েছে তাদের নিয়ে বেশি ভয় পাচ্ছি।”

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নন্দ দুলাল সাহা বলেন, ‘‘আমরা রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। চিকিৎসকরা প্রচুর পরিশ্রম করছেন। কেউ হাসপাতালের বারান্দায় থাকতে চাইলেও ফিরিয়ে দিচ্ছি না।”

হাম-ডেঙ্গুতে প্রতিদিন গড়ে ৮ জনের মৃত্যু

গত প্রায় ৬ মাস ধরে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। এর প্রভাব যাচ্ছে মূলত শিশুদের ওপর দিয়ে।

পাশাপাশি অগাস্ট মাস থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপও মারাত্মক রূপ পেয়েছে। মশাবাহিত এই রোগ শিশু থেকে বয়স্ক সবাইকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলছে।

ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে হামের সংক্রমণ ধরা পড়লেও সরকার ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিতভাবে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ শুরু করে। তখন থেকে এ পর্যন্ত হামে এক হাজার ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুসারে মার্চ মাসে ৩৮, এপ্রিলে ২৩৮, মে মাসে ৩০৯, জুনে ১৩৩, জুলাই মাসে ১১৯, অগাস্টে ১৩৬, ২১ সেপ্টেম্বরে এ পর্যন্ত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মার্চের ১৫ তারিখ থেকে প্রথম ৩০ দিনে ২ হাজার ৫০০ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরের জুলাই মাস পর্যন্ত সব মাসে ৫ হাজারের নিচে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল। পরে অগাস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে এই রোগী ভর্তির সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

মৃত্যুর হিসেব বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুন-জুলাই মাসে মৃত্যু কমলেও সেটা অগাস্ট মাসে আবার বেড়েছে। রোগী ভর্তির সংখ্যাও মাঝের তুলনায় অগাস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বেড়েছে।

অন্যদিকে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত ১৯০ মারা গেছে। যার মধ্যে জানুয়ারি মাসে ২ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ২ জন, মে মাসে ১ জন, জুন মাসে ১৩ জন, জুলাই মাসে ৩৬ জন, অগাস্ট মাসে ৪৩ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আর চলতি বছর জানুয়ারি মাসে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০৯ জন, মার্চ মাসে ৩৫৩ জন, এপ্রিল মাসে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন, জুন মাসে ২ হাজার ৯০৭ জন, জুলাই মাসে ৯ হাজার ২০৬ জন, আগস্ট মাসে ২০ হাজার ৫৩৬ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ২৭ হাজার ৭৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। যার মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

সেপ্টেম্বর মাসের ২১ দিনে হাম ও ডেঙ্গু মিলিয়ে মোট ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ৮ জনের বেশি রোগী মারা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সরকারি পদক্ষেপ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক বলছেন, মৃত্যু ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘‘রোগীদের সঠিক সময়ে চিহ্নিত করতে না পারলে মৃত্যু ঠেকানো কঠিন। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করা যাচ্ছে না বলেই তৃতীয় পর্যায়ে রাজধানীর হাসপাালগুরোতে রোগীর ভিড় বাড়ছে। কিন্তু ঢাকায় যত বেশি শয্যা বা আইসিইউ বাড়ানো হোক, এভাবে মৃত্যু ঠেকানো যাবে না।’’

তিনি বলেন, “দেশের গরীব মানুষদের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে যেন তারা ঘরেই সেবা পেতে পারে। এছাড়া প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে সেভাবে রোগীদের পরামর্শ দিতে হবে। শুধু বড় হাসপাতালে যেনো ভিড় না হয়। কারণ বেশি রোগীর চাপে সেবা ব্যহত হতে পারে। রোগী অনুসারে সঠিক সেবা বা পরামর্শ দেওয়াই বেশি কার্যকরী।”

২৬ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, দেশে বর্তমানে হামে আক্রান্ত শিশুদের ‘প্রায় সবাই টিকাবিহীন’। তাই আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী নতুন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে।

‘ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এ কর্মসূচি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু চলমান হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনে টিকা পায়নি বা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এ সময়ে ৬ মাস বয়সে পৌঁছানো এবং টিকা গ্রহণের উপযুক্ত নতুন শিশুদেরও কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।”

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় সরকারের ‘সব ধরনের প্রস্তুতি’ রয়েছে এবং হাসপাতালে স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে মোবাইল হাসপাতাল ও সেনাবাহিনীও প্রস্তুত রাখার কথা বলেন তিনি।

রোগীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “ডেঙ্গুর অধিকাংশ চিকিৎসাই উপজেলা পর্যায়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু অনেক রোগী সরাসরি টারশিয়ারি পর্যায়ের (বিশেষায়িত) হাসপাতালে চলে আসায় এসব হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।”