বিএসএমএমইউর ব্লাড, বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট কেন্দ্রে প্রথম অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন

৬৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিন দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার অপেক্ষায়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Feb 2024, 03:03 PM
Updated : 5 Feb 2024, 03:03 PM

ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও এক ব্যক্তির অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে; তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন কেন্দ্রের প্রথম।

এনামুল হক নামে ৬৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠছেন। নারায়ণগঞ্জের এ বাসিন্দা মাল্টিপল মাইলোমা, এক ধরনের রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

অস্ত্রোপচারের ১৮ দিন পর সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লাড, বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট অ্যান্ড স্টেম সেল থেরাপি’ সেন্টারে গত ১৮ জানুয়ারি ওই ব্যক্তির অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হয়।

তিন দিন পর এ রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। তবে এরপরও নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে রোগীকে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান চিকিৎসকরা।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাউদ্দিন শাহ বলেন, বিএসএমএমইউ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন) করা হচ্ছে। তবে সেটি সংখ্যায় খুব বেশি নয়। এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও দেশের হাসপাতালগুলোতে সেভাবে গড়ে ওঠেনি।

বিএসএমএমইউতে এ অস্ত্রোপচারে খরচ হয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। একই চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয় হওয়ার তথ্য দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক সালাউদ্দিন শাহ বলেন, বিশ্বে লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, মায়েলোমাসহ রক্তের ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ধরনের রোগের চিকিৎসায় অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Also Read: চট্টগ্রামেই হলো অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন

দুই পদ্ধতিতে এ কাজ করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এরমধ্যে ‘এলোজেনিক বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন’ পদ্ধতিতে দাতার শরীর থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করে রোগীর শরীরে দেওয়া হয়। আর ‘অটোলোগাস’ পদ্ধতিতে রোগীর নিজের শরীর থেকে স্টেম সেল নিয়ে তা আবার রোগীর শরীরে দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে আসা ওই রোগীর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়।

ডা. সালাহ উদ্দিন বলেন, ৬৩ বছর বয়সী এনামুল হক শারীরিক জটিলতা নিয়ে

চার মাস আগে বিএসএমএমইউতে আসেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার তার শরীর মাল্টিপোল মায়েলোমা বা রক্তের জটিল ক্যান্সার ধরা পড়ে। হেমাটোলোজি বিভাগে তার চিকিৎসা শুরু করা হয়।

“আমরা তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের সিদ্ধান্ত নিই। নানা প্রক্রিয়া শেষ করে গত ৭ ডিসেম্বর তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। গত ১৭ জানুয়ারি রোগীর শরীর থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হয়। ওইদিনই রোগীর কন্ডিশনিং থেরাপি দেওয়া হয়। ১৮ জানুয়ারি রোগীর শরীরে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন হয়। ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের ১৮ দিন পরে রোগীর শরীরের কোনো ধরনের জটিলতা দেখা যায়নি।”

সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রথম রোগী হিসেবে এনামুল হকের বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সরকারের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ সেন্টারে মাসে ৩ থেকে ৫টা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন করা সম্ভব।”

এনামুল হকের ছেলে রিয়াজুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আব্বা এখন ভালো আছেন, কথাবার্তা বলছেন। কিন্তু শরীর একটু দুর্বল। চিকিৎসকরা বলেছেন, এটা কাটতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।