২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আন্তঃনগর সিনেমা আসছে ওটিটিতে

ছয়জন নারী-পুরুষের তিনটি সমান্তরাল গল্প, আবার এক গল্প ঢুকে যায় আরেক গল্পে; নির্মাতা বলছেন, এটা  নগরেরই গল্প।

আন্তঃনগর সিনেমা আসছে ওটিটিতে

আন্তঃনগর সিনেমার দৃশ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jun 2023, 09:43 PM

Updated : 04 Jun 2023, 10:32 PM

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে গৌতম কৈরী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আন্তঃনগর’। সিনেমাটি পরিচালনার পাশাপাশি গল্পও লিখেছেন তিনি।

নির্মাতা গৌতম কৈরী সিনেমার গল্প নিয়ে গ্লিটজকে বলেন, “আমাদের এই নগরী কোটি-কোটি ভালোবাসার সুতোয় বাঁধা। কোটি কোটি মানুষের নগরীতে ইট-পাথরে মিশে আছে প্রেম-ভালোবাসা, আশা-হতাশা, পাওয়া-না পাওয়ার শতসহস্র গল্প।

“তেমনই ৩ জোড়া জীবনের গোপন, গভীর, অদেখা গল্পের সমাহার আন্তঃনগর। মফস্বল শহর গৌরিপুরে একটি নির্বাক প্রেম সুন্দরভাবে ডানা মেলতে থাকে প্রজাপতির মতো।”

সিনেমায় অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, রুনা খান, সোহেল মন্ডল, শবনম ফারিয়া, আশিষ খন্দকার, জয় রাজ, নাফিস আহমেদ এবং নবাগত প্রান্তর দস্তিদার ও নিদ্রা নেহা।

আগামী ৮ জুন থেকে দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে দেখা যাবে সিনেমাটি।

সিনেমার গল্পে দেখা যাবে, সমাজের বাঁধা ডিঙ্গিয়ে শুভ (প্রান্তর) আর পূর্ণিমা (নিদ্রা) প্রেমে পড়ে। অসম্ভব এই বাস্তবতায় শুভ আর পূর্ণিমা পালিয়ে চলে আসে ঢাকায়।

Image

আন্তঃনগর সিনেমার দৃশ্য।

অন্যদিকে মারুফ-মৌসুমীর মাঝে শুরু হয় অবিশ্বাস। মারুফ (সোহেল মন্ডল) কাজ করেন নিউ মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে। মৌসুমী (শবনম ফারিয়া) কাজ করেন একটি বিউটি পার্লারে। মারুফ ভিতরে ভিতরে প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে ওঠে। মৌসুমীর চাপা কান্না শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যায় তাদের? 

ইলিয়াস (শ্যামল মাওলা) সিএনজি অটোরিকশা চালান। রোজিনা (রুনা খান) বিউটি পার্লারে কাজ করেন। রোজিনা-ইলিয়াসের মাঝে দেখা যায় সমাজের যাঁতাকল থেকে বের হয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা। ইলিয়াস ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন অবৈধ কাজে। 

সিনেমায় ভিন্ন ভিন্ন এই জীবনগুলো নগরের নানান মোড় ঘুরতে ঘুরতে এক অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এক জীবন জড়িয়ে যায় অন্য জীবনের ভিতর। এক রাতের ব্যবধানে এক জটিল ঘূর্ণাবর্তে পড়ে যায় সবগুলো জীবন।

নির্মাতা গৌতম কৈরী বলেন, “এই সিনেমায় মূলত তিনটি গল্প সমান্তরালভাবে চলতে থাকে। ওইযে বলে না, রেললাইন বহে সমান্তরাল। চলতে চলতে এক গল্প অন্য গল্পের ভিতর ঢুকে যায়। আমি বলতে চাই এক জীবন অন্য জীবনের ভিতর ঢুকে যায়। যেহেতু নগরীর গল্প, তাই আন্তঃনগর নামটা সম্পূর্ণ কনসেপ্টটাকে ধারণ করে বলেই আমার মনে হয়েছে। এটা প্যারালাল ন্যারেটিভ স্টোরি বা হাইপার লিংক সিনেমা।

Image

আন্তঃনগর সিনেমার পরিচালক গৌতম কৈরী।

“একটা রেললাইনের উপর দিয়ে দুইটা রেললাইন ক্রস করে আবার কিছু দূর গিয়ে এক লাইনে চলতে থাকে। ব্যক্তি জীবনেও আমরা কিন্তু অন্যের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছি, অন্যেরটা ওইভাবে সার্বক্ষণিক দেখা হয় না বলে টের পাই না। আন্তঃনগরে তিনটি গল্পকে আলাদা মনে হবে না। এক সুতার গল্পই মনে হবে।”

এই সিনেমাটি নির্মাণ বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল জানিয়ে গৌতম কৈরী বলেন, “প্রথমত তিন জোড়া কাপল। তাদের অর্থনৈতিক, মানসিক অবস্থা বিচার করে লোকেশন বছাই। আন্তঃনগরে দর্শক নানা রকমের লোকেশন দেখতে পাবে, যেগুলো গল্পের সাথেই মিশে আছে। অনেক লোকেশন এবং সব রিয়েল লোকেশনে শুটিং একটা বড় চ্যালেঞ্জ সবসময়ই। নিউ মার্কেটের ভিতর শুটিং, মোহাম্মদপুর, সরদঘাটে, পার্লারে শুটিং। আর আর্টিস্টদের সেই মনস্তাস্তিক জার্নির ভিতর দিয়ে নিয়ে যাওয়াটাও পরিচালক হিসেবে সবসময় নজরে রাখতে হয়েছে।”