Published : 13 Jun 2026, 07:52 PM
ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা আর রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পোশাক পরে আলোচনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গায়ক, সংগীত পরিচালক ও ডিজে সঞ্জয় দেব।
কানাডার টরন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে গান পরিবেশন করেন সঞ্জয়। শুক্রবার রাতে তার পরিবেশনার পর থেকে দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা তাকে নিয়ে।
বর্ণিল পোশাকে সঞ্জয়ের ছবি দিয়ে সবাই পোস্ট দিচ্ছেন; গর্বের কথা বলছেন এমন একটা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করায়।
কানাডায় বিশ্বকাপের খেলা মাঠে গড়ানোর আগে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফিফার নতুন গান 'সির সির' পরিবেশন করেন সঞ্জয়; তার সঙ্গে ছিলেন নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি হিপহপ তারকা ভেজেড্রিম।

অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় সঞ্জয়ের গায়ে যে জ্যাকেট ছিল তাতে এক হাতা জুড়ে ফুটে উঠেছিল সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নকশা, জাতীয় ফুল শাপলা এবং বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার অনুষঙ্গ।
গান গাওয়ার সময়ও নাচের তালে তালে সঞ্জয় তার জ্যাকেটের হাতার দিকে ইঙ্গিত করে এই বিশেষ নকশাগুলো দেখান।
জ্যাকেটের এই হাতার একটি ছবি ফেইসবুকে দিয়ে সঞ্জয় লিখেছিলেন, “তুমি আমার সঙ্গে যাচ্ছ। ফিফা বিশ্বকাপে।”
সঞ্জয়ের এই পোশাক এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে এভাবে উপস্থাপনের ভাবনা দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংগীত অঙ্গনের তারকাদেরও আবেগাপ্লুত করেছে।
এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তিন দেশেই খেলা শুরুর আগে আলাদা করে উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়, যেটির প্রথমটি হয় বৃহস্পতিবার রাতে মেক্সিকোতে। কানাডার পর যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় অনুষ্ঠান হয় শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোরে।
ফেইসবুকে সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা লিখেছেন, “তোমাকে নিয়ে আমরা গর্বিত সঞ্জয়।”
ফেইসবুকে এক পোস্টে রাকিব মোসাব্বির নামের এক দর্শক লিখেছেন, “সঞ্জয় বাংলাদেশ সংগীত ইতিহাসে প্রথম যে কিনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সর্বশ্রেষ্ঠ স্পোর্টস ইভেন্ট ফিফায় নিজের দেশকে রিপ্রেজেন্ট করলো। সঞ্জয় আমরা তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমাকে অভিনন্দন ও শুভকামনা।"
মুনিয়া রহমান নামে একজন লিখেছেন, “গর্বের এক মুহূর্ত, ইতিহাসের অংশ হওয়ার এক মুহূর্ত। বিশ্বমঞ্চে সঞ্জয়, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশ।"
সঞ্জয় দেবের শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে। তার জন্ম মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। বাবা সন্তোষ দেব ও মা মিতা দেবের সঙ্গে প্রায় দুই যুগ আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানেই সংগীতচর্চার মধ্য দিয়ে নিজেকে তৈরি করেছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে অংশ নেওয়ার আগে এক ভিডিও বার্তায় সঞ্জয় বলেন, “আপনারা আমার হৃদস্পন্দন শুনতে পাচ্ছেন কি না, আমি জানি না। আমি আমার বাবা-মাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। আমি গর্বিত আমার শিকড় নিয়ে, কারণ আমি যেখান থেকে এসেছি, সেখান থেকে উঠে এসে এত বড় একটি মঞ্চে পৌঁছানো সবার ভাগ্যে জোটে না। এই অর্জন আমার কাছে অনেক বড় কিছু। তবে আমি মনে মনে সবসময়ই জানতাম, কোনো না কোনো দিন এই মুহূর্তটি আমার জীবনে আসবেই।”

তিনি বলেন, “আমি যখন প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসি, তখন ঠিকমত ইংরেজি বলতে পারতাম না। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাটা তখন বেশ কঠিন ছিল। আমাদের চেহারা ও বাহ্যিক অবয়ব ছিল ভিন্ন। স্বাভাবিকভাবেই, কোনো নতুন পরিবেশে গেলে সেখানকার স্থানীয় শিশুরা নবাগতদের সহজে মেনে নিতে চায় না; আমাকেও জীবনের সেই কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।”
সঞ্জয় স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে গান পরিবেশন করবেন, সেই স্বপ্ন তার পূরণ হয়েছে।
তিনি লেখেন, “আমার মনে হয়, এই দীর্ঘ যাত্রাপথে কেউ যেন আমার শরীরে সুরের এক অদ্ভুত মন্ত্র ঢুকিয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন আমাকে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে হয়; গান তৈরি করতে না পারলে আমি যেন দিশেহারা হয়ে পড়ি। জীবনের ডায়েরিতে আমি সবসময় লিখে রাখতাম যে আমি জীবনে কী কী অর্জন করতে চাই, আজকের এই মুহূর্তটি ছিল তারই একটি।"