Published : 19 Nov 2025, 12:46 PM
অনন্তলোকে পাড়ি দেওয়া ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ তার জীবদ্দশায় অসমিয়া, বাংলা ও হিন্দি ভাষায় বহু গান গেয়েছেন। সেসবের মধ্যে কিছু গান রয়ে গেছে অপ্রকাশিত। সেগুলোর মধ্য থেকে একটি বাংলা গান প্রকাশ্যে এসেছে।
জুবিনের ৫৩তম জন্মবার্ষিকী গেছে মঙ্গলবার। দিনটিতে ঢাকা থেকে প্রকাশ হয়েছে প্রয়াত গায়কের ‘অবুঝ পাখি’ শিরোনামের একটি গান।
গীতিকবি ও প্রযোজক জুলফিকার রাসেলের ইউটিউব চ্যানেল ‘জুটি’তে এসেছে গানটি। জুলফিকার রাসেলের লেখা এই গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন টুনাই দেবাশীষ গাঙ্গুলী।
রাসেল বলেছেন, তার লেখা ৭টি বাংলা গানে জুবিন কণ্ঠ দিয়েছিলেন ২০১৫-২০১৬ সালে। আসামে তার ব্যক্তিগত স্টুডিওতে গানগুলো রেকর্ড করেছিলেন জুবিন। পরে তারই পরে জুবিনের পরামর্শে বাংলার পাশাপাশি এসব গানের হিন্দি সংস্করণ করা হয়। বাংলা-হিন্দি মিলীয়ে ১৪টি গানের একটি হল ‘অবুঝ পাখি’। এর হিন্দি সংস্করণ শিগগিরই প্রকাশ হবে।
‘অবুঝ পাখি’ প্রকাশ্যে আনতে পেরে আবেগাপ্লুত জুলফিকার রাসেল বলেন, “আমার সৌভাগ্য হয়েছিল এই শিল্পীর কণ্ঠে বেশ কিছু গান করার। গানের ভিডিও শুট করার কথা ছিল মেঘালয়ে। এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন পরপারে। তার জন্মদিনে আমাদের প্রথম নিবেদন প্রকাশ হল।”
রাসেল বলেছেন, জুবিনের অপ্রকাশিত গানগুলো কীভাবে আলোর মুখ দেখবে তা নিয়ে রাসেল এবং সুরকার টুনাই দেবাশীষ গাঙ্গুলীর দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। তবে এই বিষয়ে সিন্ধান্ত নেওয়ার ভার তারা ছেড়ে দেন জুবিনের স্ত্রী গরিমা গার্গের উপরে।

প্রকাশিত গান প্রকাশ করা নিয়ে আলোচনার জন্য টুনাই গত ১৫ নভেম্বর আসামে গিয়ে গরিমার সঙ্গে দেখাও করেছেন বলে জানিয়েছেন রাসেল। তবে গরিমা কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় খুব বেশি আলোচনার সুযোগ হয়নি। সে সময় তিনি আপাতত জুবিনের জন্মদিন উপলক্ষে একটি গান দ্রুত প্রকাশের পরামর্শ দেন।
তাই দ্রুততম সময়ে লিরিক্যাল মিউজিক ভিডিও আকারে ‘অবুঝ পাখি’ এসেছে প্রকাশ্যে বলে জানিয়েছেন রাসেল।
টুনাই বলেন, “ক্ষুদ্র এই জীবনে অনেক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছি। অনেক শিল্পীর গান প্রকাশিত হয়েছে যেখানে মূল শিল্পী সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না। ডিজিটাল এই যুগে এর প্রয়োজনীয়তাও কমে গেছে। জুবিন গার্গের এই গান যখন প্রকাশ হচ্ছে তিনি উপস্থিত থাকবেন প্রয়োজনের সব বেড়াজাল উপেক্ষা করে। তিনি থাকবেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে। তার জন্মদিনে আজকের এই নিবেদন। নিবেদিত এই গানটি আমার আর আমার বন্ধু জুলফিকার রাসেলের পক্ষ থেকে কেবল আসামের জন্য নয়, সারাবিশ্বের জুবিন ভক্তদের জন্য।”
রাসেল ও টুনাই চাইছেন তাদের লেখা ও সুরে জুবিনের গাওয়া বাকি গানগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ করা হোক। এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত জুবিনের নামে থাকা ট্রাস্টে জমা দিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে ‘নর্থইস্ট ফেস্টিভ্যালে’ গাইতে গিয়েছিলেন জুবিন। সেদিন দুপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার পর অকালপ্রয়াণ হয় তার। তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য আছে, আছে প্রশ্নও। জুবিনের মৃত্যু নিয়ে তদন্তও চলছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারও হয়েছেন কয়েকজন।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের সংগীত জীবনে জুবিন গার্গ গেয়েছেন প্রায় ৩৮ হাজার গান, ৪০টি ভাষা ও উপভাষায়। শুধু আসামে নয়, গান দিয়ে তিনি ভারতীয় সংগীতজগতে এক অনন্য স্থান তৈরি করেছিলেন।
২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ইমরান হাশমি ও কঙ্গনা রানাউত অভিনীত গ্যাংস্টার সিনেমায় ‘ইয়া আলী’ গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান এ শিল্পী। এরপর ‘কৃশ থ্রি’ সিমেনার ‘দিল তু হি বাতা’ এর মত বেশ কয়েকটি হিট গানে খ্যাতি পেয়েছেন তিনি।
সিনেমায় অভিনয় ও পরিচালকের ভূমিকাতেও ছিলেন জুবিন। এর মধ্যে সুপার হিট হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা, মিশন চায়না, দীনবন্ধু ও মন জয়।
কলকাতার বাংলা সিনেমার বেশ কিছু জনপ্রিয় গান রয়েছে এই শিল্পীর কণ্ঠে। সংগীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে এই শিল্পী গেয়ছেন ‘মন মানে না’, ‘পিয়া রে’, 'যে দেশে', 'খোদা জানে', 'প্রেম কী বুঝিনি', 'চোখের জলে', 'বোঝে না সে বোঝে না', 'আয়না মন ভাঙা আয়না'সহ বহু গান।