Published : 03 May 2026, 09:46 PM
‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমাটি যখন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে, তখন গুরুতর অভিযোগ এনেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও তার স্বামী অভিনেতা ওমর সানি।
তাদের অভিযোগ, মূলত একটি নাটক হিসেবে নির্মিত কাজকে 'সম্মতি ছাড়াই' পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার ফেইসবুকে এক ভিডিও বার্তায় ওমর সানী বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রে দৃশ্যধারণ করা এই কাজটি প্রথমে নাটক ছিল এবং পরে টেলিফিল্মে রূপান্তরের কথা বলা হয়। কিন্তু এখন সেটিকে চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর নিয়ে মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজক হাসান জাহাঙ্গীরকে উদ্দেশ্য করে ওমর সানী বলেছেন, “কাজটি একদমই সঠিক নয়।"
ওমর সানি তার সেই ভিডিওতে মৌসুমীর দুইটি অডিও বার্তা বাজিয়ে শোনান।
সেখানে মৌসুমী বলেন, “‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ'টা একদমই এক ঘণ্টার একটা নাটক ছিল। আর এক ঘন্টার নাটক যেমন হয়, একটা ছোট গল্প, ঠিক ওইরকমই একটা ছোট গল্প। যেখানে প্রবাসে এক নারীর সংগ্রাম ও জটিল সম্পর্কের গল্প তুলে ধরা হয়।
"একটা মেয়ের এই দেশে আসার পর তার আমেরিকাতে সংগ্রামের সময়টা এবং তার একজনের সাথে বিয়ে হয়, কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ যাকে বলে। কিন্তু সে এই কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ থেকে সে বের হতে পারে না। ওই লোকটা তাকে অনেকভাবে উত্ত্যক্ত করে, বিরক্ত করে–এই ধরনের একটা ছোট গল্প নিয়ে এই 'কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ' গল্পটা সাজানো ছিল।"
মৌসুমী বলছেন, নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের অনুরোধে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য এতে কাজ করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি দিন শুটিং করা হয়।
অভিনেত্রী বলেন, "আমি যেহেতু আমেরিকায় আছি, আমাকে অনুরোধ করার কারণে আমি কাজটা করি। দুই দিনের শুটিং করার কথা, কিন্তু কাজটা দুই দিনে শেষ করতে পারিনি, আমি তিন দিন সময় দিয়ে করে দিলাম, যে ঠিক আছে কাজটা শেষ হোক।
“তারপরে সে (হাসান জাহাঙ্গীর) এটা আবার কিছুদিন পর আমাকে এসে বলল আপু এটা তো এক ঘণ্টার নাটকের চেয়ে একটু ফুটেজ বেশি হইছে, তো আমার এটা বিক্রি করতে গেলে যে খরচ হইছে আমার টাকা উঠতেছে না, আমি এটা টেলিফিল্ম বানাতে চাচ্ছি।"
টেলিফিল্মের বিষয়ে আপত্তি করেননি জানিয়ে মৌসুমী বলেন, "হাসান বলেন ‘ঢাকারও কিছু অংশ শুট করার পর এটা টেলিফিল্মের একটা ভালো ডিউরেশন হয়ে গেছে। তো এটা এখন যদি আমরা টেলিফিল্ম করি আপনার কোনো আপত্তি আছে?’ তখন আমি বললাম কোনো আপত্তি নেই। যদি গল্পটা সুন্দর হয় টেলিফিল্ম আকারে করতে পারো তোমরা। কিন্তু আমাকে তো টেলিফিল্মের অ্যামাউন্টটা দিতে হবে। তখন ও বললো যে ‘ঠিক আছে আমি সেটা অ্যারেঞ্জ করব আপনার জন্য’।"
এমনকি অতিরিক্ত কিছু দৃশ্যের জন্য আরও একদিন শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা বলেন মৌসুমী।

কিন্তু সম্প্রতি চলচ্চিত্র হিসেবে সেন্সর সনদ নিয়ে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন মৌসুমী।
তার ভাষ্য, এ বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি এবং চলচ্চিত্রের আদ্যোপান্ত সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
"হঠাৎ শুনলাম এটা সিনেমা আকারে সেন্সর পেল, সে এটাকে সিনেমা বানাতে চাচ্ছে। তো আমি খুবই অবাক হলাম যে আমাদের সেন্সর বোর্ডে এটা কীভাবে সিনেমা আকারে পাস হলো বা কী হলো জানি না।
“আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কথা বলতে চাই, বিষয়টা এরকম ছিল না। একটা গল্প দিয়ে আমাকে হুট করে একটা সিনেমার কাজ করিয়ে নিল, কিন্তু সিনেমার আদ্যোপান্ত কোনো কিছু আমি জানি না। কোথায় আমাকে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাও জানি না এভাবে ‘কাটপিসের’ মত ব্যবহার করা ঠিক হয়নি।”
মৌসুমী বরেন, “এটা আমি আশা করিনি হাসান জাহাঙ্গীরের কাছে। আমি খুব কষ্ট পেলাম।"
মৌসুমী অভিযোগ করেন, কাজটির জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিকও তিনি পাননি।
ডাবিংসহ কারিগরি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "এভাবে অসম্পূর্ণ একটি কাজ চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি পাওয়া উচিত নয়।"
ওমর সানি ইতিমধ্যে পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি এবং শিল্পী সমিতিতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান না হলে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।
অভিযোগের বিষয়ে হাসান জাহাঙ্গীর গ্লিটজকে বলেন, তাকে 'উদ্দেশ্যপ্রণিত ভাবে' হেয় করা হচ্ছে।
“উনারা যেটাকে নাটক টেলিফিল্ম বলছেন, সেটা হচ্ছে 'পিএস চাই সুন্দরী' নামের টেলিফিল্ম। যেটি গত বছরের ঈদুল আযহায় মুক্তি দিয়েছি। 'কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ' সিনেমা। এটা নাচ, গান, অ্যাকশন দৃশ্যের সিনেমা। আমি আনকাট সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছি।
“ওমর সানি ভাই আমার শ্রদ্ধাভাজন মানুষ, উনি কেন এমন আচরণ করছেন তা আমার বোধগম্য নয়। উনার সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই।"
পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এই পরিচালক বলেন, “আমি যখন কাজটা করি, তখনই উনাকে ডলারের মাধ্যমে উনার পাওনা পরিশোধ করি। যার মাধ্যমে আমি মৌসুমী ম্যাডামের শিডিউল নিয়েছি তার মাধ্যমেই আমি পাওনা পরিশোধ করি।
“তবুও যদি মৌসুমী ম্যাডাম সিনিয়র শিল্পী, উনার যদি মনে হয় আমার কাছে পাওনা বাকি, তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমি সেটা দিয়ে দিব। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণিতভাবে আমাকে এইভাবে হেয় করে একটা ভালো সিনেমার ক্ষতি করে কী লাভ হচ্ছে আমার জানা নেই। আমার এমন মানহানি করলে আমিও মানহানির মামলা করব।"
প্রবাসজীবনের কঠিন বাস্তবতায় একজন নারীর জীবনে তৈরি হওয়া জটিলতার গল্প নিয়ে বানানো হয়েছে ‘কন্ট্র্যাক্ট ম্যারেজ’। সেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী।
দুই বছর আগে নির্মাণ করা সিনেমাটি চলতি বছরের মার্চে সেন্সর সার্টিফিকেশন সনদ পেয়েছে। আগামী ১৫ মে দেশের প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর।