Published : 26 Apr 2026, 02:22 PM
আর্থিক প্রতারণা মামলায় বাবা দেব প্রসাদ রায়ের গ্রেপ্তার ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগের ঘটনায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরী।
রোববার ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন, বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ‘কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই’।
প্রায় ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা এক মামলায় দেব প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গেল ১৬ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসান।
পূজা চেরীর বাবার গ্রেপ্তারের এই বিষয়টি সামনে আসে শনিবার।
এ ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পূজা চেরী বহু ফোন ও বার্তা পাচ্ছেন বলে পোস্টে তিনি লিখেছেন। তাই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।
পূজা লিখেছেন, বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। গত ১০-১২ বছর ধরে তিনি মিডিয়ায় কাজ করছেন এবং নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের ব্যয় নিজেই বহন করছেন।
তিনি আরও লিখেছেন, বাবার কোনো ব্যবসা বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি বর্তমানে তিনি কোনো প্রোডাকশন হাউজ বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত নন।
এই পরিস্থিতি 'মানসিকভাবে কষ্ট' দিচ্ছে জানিয়ে পূজা লিখেছেন, একজন শিল্পী হিসেবে আমি সবসময় দর্শকদের ভালোবাসা এবং সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছি। পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক, তবে এটি একান্তই তার (বাবার) ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। আমি আশা করি, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সত্য উদঘাটিত হবে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নিবেন।
একই সঙ্গে এ ঘটনায় তাকে বা তার কাজকে জড়িয়ে না দেখতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
দেব প্রসাদ রায়কে নিয়ে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বলেছে, চলচ্চিত্র প্রযোজনা ব্যবসার কথা বলে ‘বন্ধু’ মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সাড়ে ৫ কোটি টাকা নেন দেবু প্রসাদ।
পরে একই ব্যবসার কথা বলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মাধ্যমে আরো ৫০ লাখ এবং ২০২৪ সালের ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সম্পাদনের মাধ্যমে নগদ আরো ৬ কোটি টাকা নেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন নম্বরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানোর কথা মামলায় বলেছেন মিজানুর রহমান।
সর্বশেষ গেল ৩০ মার্চ আরো ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বাদী মিজানুর রহমানের দাবি, টাকা নেওয়ার দীর্ঘদিন পার হলেও অভিযুক্ত কোনো টাকা ফেরত দেননি।
ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, “মামলার তদন্ত চলছে। আমরা লেনদেনের স্টেটম্যান্টগুলো যাচাই করছি।”
আরও পড়ুন: