‘হাওয়া’র নির্মাতা বললেন, শালিক পাখিটি ছেড়ে দিয়েছিলাম

‘মামলার সাক্ষী শালিক পাখি’ শিরোনামে লেখা ফেইসবুক পোস্টে মেজবাউর রহমান সুমন লিখেছেন, পৃথিবী সর্বপ্রাণের হোক।

গ্লিটজ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 August 2022, 05:27 PM
Updated : 18 August 2022, 05:27 PM

‘হাওয়া’র সাফল্যে যেন হাওয়ায় ভাসছিলেন মেজবাউর রহমান সুমন, তার মাটিতে নেমে আসার উপক্রম হয়েছে যে খাঁচাবন্দি শালিক পাখি, তা প্রকৃতিতে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন এই চলচ্চিত্র নির্মাতা।

বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট আদালতে যাওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “পাখিটির দৃশ্য ধারণের পর আমরা তাকে প্রকৃতিতে মুক্ত করে দিয়েছিলাম। আর নৌকায় যে উড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখিয়েছি, সেটা কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে নির্মাণ করা।”

তবে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের অভিযোগ, পাখিটি খাঁচায় বন্দি করে দেখানোর মাধ্যমেই লঙ্ঘিত হয়েছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন। সেই সঙ্গে পাখিটিকে রেঁধে খাওয়ার দৃশ্যও আইন লঙ্ঘন করেছে।

সুমন আগেই বলেছিলেন, ওই পাখিটি মারা যায়নি, রান্নার দৃশ্যটিতে ব্যবহার করা হয়েছিল মুরগি।

গত ২৯ জুলাই ‘হাওয়া’ মুক্তির পর দর্শক মহলে বেশ সাড়া ফেলে। খরার মধ্যে চলচ্চিত্র অঙ্গনে সুবাতাস হিসেবেই দেখা হচ্ছিল সিনেমাটিকে।

Also Read: ‘হাওয়া’ সিনেমার বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলার আবেদন

তবে সিনেমায় শালিক পাখিকে খাঁচায় বন্দি রাখা, মেরে খাওয়া কিংবা শাপলা পাতামাছ ধরার দৃশ্যগুলো আইন লঙ্ঘনের নজির বলে প্রাণী অধিকারকর্মীরা অভিযোগ তোলেন।

এর পরিপ্রিক্ষিতে সিনেমাটি দেখার পর বুধবারই মামলার আবেদন নিয়ে আদালতে যায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্রকুমার বিশ্বাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিনেমাটিতে বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘন হয়েছে। একটি ভাত শালিককে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়, যা দেখে দর্শকদের মাঝে বন্যপ্রাণী বিষয়ে ভুল বার্তা যাবে। যা পরোক্ষভাবে আইনের লঙ্ঘন।”

এই আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে ‘হাওয়া’র নির্মাতার দুই বছরের জেলসহ জরিমানা হতে পারে।

এই অবস্থায় আত্মপক্ষ সমর্থনে ফেইসবুকের শরণ নিয়ে সুমন লিখেছেন, “নির্মাতা হিসাবে আমি এটুকুই বলতে চাই, হাওয়া’র পাখিটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর এই নির্মাণের জন্য যে সিনেমাটিক রিয়্যালিটি তৈরি করতে হয়েছে, সেটা সত্য নয়। ছবির শুরুতে ‘Disclaimer’-এ আমরা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি।”

নির্মাতা সুমন উল্টো প্রশ্ন ছুড়েছেন, “চান মাঝি যে তার প্রিয় পাখিটিকে খেয়ে ফেলে, সেটা কি শুধু ভোগ? নাকি সমাজের ভেতর জমতে থাকা হিংস্রতা? আর আমি শুধু ওই বোধটাকেই ইঙ্গিত করেছি। আর সেটা নির্মাণ করেছি সিনেমার ভাষার ভেতর দিয়ে।”

নিজের আগের কাজের সূত্র ধেরে তিনি আরও বলেন, “পাঁচ বছর আগে আমার ব্যান্ড মেঘদল এর জন্য নির্মাণ করেছিলাম ‘এসো আমার শহরে’। সেখানে এই নেক্রপলিস সিটিতে কিছু প্রতীকী বন্যপ্রাণীকে দেখিয়েছিলাম। ওদের শহরের ভেতর নানা জায়গায় দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এই মৃত নগরে মানুষহীন রাস্তাঘাটে বন্যপ্রাণী কেন ঘুরে বেড়াচ্ছে! তার উদ্দেশ্যই বা কি?

“আমি মনে করেছিলাম, এই নগর শুধু মানুষের নয়, অন্য প্রাণীর জন্যও আবাসস্থল হওয়ার কথা ছিল। প্রতিদিন এই শহরে অসংখ্য প্রাণীদের আমরা নিয়ে আসি শুধুমাত্র ভোগের জন্য। হয়ত মানুষের জীবনধারণের জন্য সেটা আমাদের করতেও হয়। কিন্তু মায়া তো নিঃশেষ হবার নয়। এই সর্বপ্রাণের মায়াই ওই মিউজিক ভিডিওতে দেখাতে চেয়েছিলাম।”

‘মামলার সাক্ষী শালিক পাখি’ শিরোনামে লেখা সুমন পোস্টের শেষ বাক্যে লিখেছেন, “পৃথিবী সর্বপ্রাণের হোক।”

এই পরিস্থিতিতে অনেকের সমর্থনও পাচ্ছেন সুমন। আরেক চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেইসবুকে লিখেছেন, “আমি জানি না ওই আইনটার মধ্যে আছেটা কী। কিন্তু আইন যদি বলেও সুমন দোষী, তাইলে পরিষ্কার কথা, ওই অচল আইন বদলান। এইসব সার্কাস বন্ধ করেন।”

Also Read: হাওয়া: ‘মিথে’র মোড়কে খুনোখুনি আর ঘোর লাগা এক সিনেমা

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক