Published : 16 Dec 2025, 12:35 PM
বিজয়ের মাসে বড়পর্দায় ফের দেখা যাবে একাত্তরের দুঃসহ দিনগুলোতে দুই নারীর বেদনামাখা লড়াই ও বেঁচে থাকার গল্পের সিনেমা ‘নকশী কাঁথার জমিন’।
আকরাম খান পরিচালিত সিনেমাটি গেল বছরের ২৭ ডিসেম্বর দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান।

ফেইসবুকে এক পোস্টে সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীর খবর দিয়ে জয়া আহসান লিখেছেন, “বিজয়ের মাসে রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে দেখা যাবে 'নকশীকাঁথার জমিন' সিনেমা।”
আগামী ২০ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৫ টায় রয়েছে সিনেমাটির প্রদর্শনী।"
সিনেমটির টিকেট মূল্য ধরা হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য দেড়শো টাকা; এবং অন্যান্যদের জন্য ২০০ টাকা। হল ভাড়া এবং আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে বিশেষ প্রদর্শনীর জন্য টিকেটের ব্যবস্থা রেখেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ‘বিধবাদের কথা’ গল্প অবলম্বনে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা তুলে আনা হয়েছে এই সিনেমায়।
চিত্রনাট্যে দেখা যাবে, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই বোন রাহেলা ও সালেহার গল্প। যুদ্ধের সময় তাদের পরিবারের মধ্যে একটা বিভক্তি তৈরি হয়। নিজেদের বাড়ির মধ্যেই যুদ্ধটা যেন চলতে থাকে। যুদ্ধের পর তারা দেখতে পায় মুক্তির সংগ্রামে তাদের জীবনের সবই হারিয়ে গিয়েছে। পরে তারা নকশি কাঁথার বুননে তাদের জীবনের সংগ্রামের আখ্যানটা নকশায় ফুটিয়ে তুলেন।
এতে দুই বোনের চরিত্রে জয়া আহসান ও ফারিহা শামস সেঁওতি কাজ করেছেন; দুই ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরেশ যাকের ও রওনক হাসান।
গুরুত্বপূর্ণ আরও দুই চরিত্রে আছেন দুই ভাই দিব্য জ্যোতি ও সৌম্য জ্যোতি।
নিজের চরিত্রটি নিয়ে জয়া আহসান বলেছিলেন, “আমার রাহেলা চরিত্রের একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। চরিত্রটি এমন বড় বোন রাহেলা হবে পাথরের মত একটা মানুষ। তার কোনো অভিব্যক্তি নেই, সে কখনো কাঁদে না। রাহেলা খুশি হলেও বোঝা যাবে না, দুঃখ পেলেও বোঝার উপায় নেই। তার কোনো অনুভূতি থাকবে না।
“এই চরিত্র করতে গিয়ে আমার চ্যালেঞ্জ এটাই ছিল যে আমি কখনোই চোখের পাতা ফেলতে পারব না। শুটিংয়ে এই জিনিসটা মাথায় রেখে কাজ করতে হত। আমাদের স্বভাবতই কয়েকবার করে আমরা চোখের পাতা ফেলি কিন্তু সেটা না করাই ছিল চ্যালেঞ্জ।”
সিনেমার গল্প নিয়ে জয়া বলেন, “আমাদের দেশের আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গল্পের সিনেমা এটি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নারীদের যে বেদনা, সে সময়টা তারা কীভাবে জীবনযাপন করেছেন, যুদ্ধের পরেও তাদের যে জীবন সেটাও উঠে এসেছে সিনেমায়।”
‘নকশী কাঁথার জমিন’ এর আগে ভারতের বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে।
এছাড়া ৫৩তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ায় (আইএফএফআই) আইসিএফটি-ইউনেসকো গান্ধী মেডেলের জন্য মনোনীত হয়েছিল সিনেমাটি।
আরও পড়ুন: