Published : 05 Jul 2023, 06:14 PM
চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে চিত্রনায়ক শাকিব খানের করা মামলায় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রহমত উল্লাহ অভিযুক্ত হয়েছেন।
বুধবার ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সৈয়েদা হাফসা ঝুমার আদালতে আসামির উপস্থিতিতে মামলার অভিযোগ গঠন হয়।
বিচারক আগামী ৯ অগাস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ঠিক করে দিয়েছেন বলেও জানান শাকিব খানের আইনজীবী খায়রুল হাসান।
এজলাসে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো রহমত উল্লাহকে অভিযোগ পড়ে শোনান হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
এ সময় আদালতের অনুমতি ছাড়া রহমতের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন শাকিবের আইনজীবী। বিচারক তাকে সায় দেন।
আগে ২৩ মার্চ দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আরাফাতুল রাকিবের আদালতে রহমত উল্লাহ বিরুদ্ধে মামলাটি করেন শাকিব খান।
তার আগে রহমত উল্লাহ বাংলাদেশে এসে শাকিব খানের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন। এই নিয়ে বিরোধে তারা দুজনই পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি কয়েকটি মামলা করেন। তার মধ্যে শাকিব খানের একটি মামলা বিচারের পর্যায়ে গেল।
পুরানো খবর:
শাকিব খানের মামলায় রহমত উল্লাহর নামে সমনপুরানো খবর:
এবার শাকিব খানের বিরুদ্ধে রহমত উল্লাহর মামলাপুরানো খবর:
শাকিব খানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা রহমত উল্লাহরপুরানো খবর:
এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শাকিব খানের মামলাশুটিংয়ে আটকে থাকা সিনেমা ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ নিয়ে তাদের বিরোধের সূত্রপাত। পাঁচ বছর আগে কাজ শুরু হলেও সিনেমাটি এখনও মুক্তি পায়নি।
চিত্রনায়ক শাকিব খান এই সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ। আর অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রহমত উল্লাহ নিজেকে এই সিনেমার সহপ্রযোজক বলে দাবি করছেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আশিকুর রহমান।
গত ১৫ মার্চ দেশে এসে শাকিব খানের বিরুদ্ধে পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ করেন রহমত উল্লাহ।
তাতে শাকিব খানের বিরুদ্ধে প্রযোজকের আর্থিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগ করার পাশাপাশি বলা হয়, ২০১৭ সালে সিনেমার শুটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এক নারী সহপ্রযোজককে ‘ধর্ষণ’ও করেন শাকিব খান, যা নিয়ে মামলাও হয় সেখানে।
এর প্রতিক্রিয়ায় গুলশান থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে গিয়ে রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন শাকিব খান। এরপর রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে ‘চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন শাকিব খান। এরপর তিনি আদালতে গিয়ে মামলা করেন।
শাকিব বলছেন, সিনেমার শুটিংয়ের জন্য ২০১৬ সালের ৩০ অগাস্ট অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যেতে নায়িকা ভিসা না পাওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অস্ট্রেলীয় নারীকে নায়িকা করার প্রস্তাব দেন রহমত। তবে তাতে রাজি না হওয়ায় নাখোশ হন রহমত।
মামলায় বলা হয়, তখন শুটিং শেষে শাকিবকে বিশ্রামের জন্য ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক নারীসহ আরও দুই/তিন জন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। সেখানে রহমতের দেওয়া পানীয় পান করে শাকিব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ওই অবস্থায় সেই নারী শাকিবকে হোটেল কক্ষে পৌঁছে দিয়ে আসেন। শাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তার জ্ঞান ছিল না।
সেই ঘটনার পর থেকে রহমত তাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছেন বলে শাকিব খানের অভিযোগ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রহমত পরে শাকিবকে ফোন করে বলেন, ‘তুমি রাতে ওই নারীর সঙ্গে কী করেছ, সবকিছুর ভিডিও ক্লিপ আমার হাতে। তুমি যদি আমাকে এক লাখ ডলার চাঁদা না দাও, তাহলে সব ভিডিও ক্লিপ এবং (ওই নারী)কে নিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে তোমার নামে অভিযোগ করব। তাহলে তুমি বাংলাদেশে যেতে পারবে না’।
তখন ভয় পেয়ে রহমতকে ৫ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার দিয়েছিলেন বলে শাকিব দাবি করেন। এরপরও রহমত নানা সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নেন বলে এই চিত্রনায়কের দাবি। তিনি বলেন, অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দিলে ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক মাধ্যমে কুৎসা রটানো হতে থাকে।
সবশেষ গত ১৬ মার্চ রহমত দেশে এসে এক লাখ ডলার চাঁদা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন শাকিব খান। তারপরই তিনি মামলা করেন।
এদিকে রহমত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শাকিব খানের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি মানহানির মামলা করেন। সেই মামলার প্রতিক্রিয়ায় শাকিব তাকে ‘বাটপার’ বললে মানহানির অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা করেন রহমত। তাতে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
অন্যদিকে শাকিব ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রহমতের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।
এরপর রহমত উল্ল্যাহর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেকটি মামলা করেন শাকিব খান। ওই মামলার তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সব মিলিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে শাকিব ও রহমতের চারটি মামলা হয়েছে।