Published : 02 Dec 2022, 10:45 AM
দৌলত উজির বাহরাম খাঁ রচিত কাব্য অবলম্বনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এবার মঞ্চে এনেছে অতুল প্রেমের আখ্যান ‘লাইলী মজনু’।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে নাটকটি। রুবাইয়াৎ আহমেদের নাট্যরূপ থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন ইউসুফ হাসান অর্ক।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রযোজনা হিসেবে নাটকটির মঞ্চায়ন হয়েছে।
রুবাইয়াৎ আহমেদ বলেন, “লাইলী-মজনুর প্রেম কাহিনীর জন্ম ইরানে। এর সত্যাসত্য বিষয়ে সুনিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায় না। এরপরও সত্যের অধিক সত্যরূপে হাজার বছর ধরে এই অনুপম প্রণয়োপাখ্যান সুফি কবিদের রচিত স্তবকে অর্জন করেছে কালোত্তীর্ণের মহিমা। ফার্সি ভাষার বেশ কয়েকজন কবি কাব্য সৃজন করেছেন এই কাহিনী অবলম্বনে।
“তাদের কাব্য পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলা ভাষার বেশ কয়েকজন কবিও নির্মাণ করেছেন আখ্যান। তবে প্রাচীনত্বের দিক থেকে দৌলত উজির বাহরাম খানই প্রথম বাংলা ভাষায় এ আখ্যান রচনা করেন। আমি তার রচিত ‘লায়লী-মজনু’ কাব্যের কাহিনী নির্যাসটুকু অবলম্বন করেই রচনা করেছি ‘লাইলী-মজনু’।”
কীভাবে তৈরি হল নতুন ‘লাইলী-মজনু’, সেই গল্প শুনিয়ে রুবাইয়াৎ বললেন, “আমার শিক্ষক ইউসুফ হাসান অর্ক হঠাৎ একদিন ‘লাইলী-মজনু’ অবলম্বনে পালা আঙ্গিকে নাট্য রচনার নির্দেশ দিলেন। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির অভিনয়কলা গ্রুপের শিক্ষার্থীরা এই নাট্য উপস্থাপন করবে পরীক্ষা প্রযোজনা হিসেবে। তাই পুনর্বার পাঠ করি বাহরাম খান রচিত কাব্যগ্রন্থটি। তারপর আশ্রয় করি নেত্রকোণা অঞ্চলের অনুপম সাহিত্য ‘মহুয়া’ গীতিকার গঠন কাঠামোর ওপর। তবে তা ক্রিয়াশীল ছিল প্রেরণারূপেই এবং অবশ্যই আমার শিক্ষকের ইঙ্গিতও ছিল সেদিকেই।”
তার ভাষায়, “স্বাধীন চৈতন্যে নির্মিত বিধায় একে মিশ্ররীতির সৃষ্টি বলাই সঙ্গত হবে, যেখানে সম্পন্ন হয়েছে পদ্য ও গদ্যের নির্বিবাদ বিবাহ।”
নির্দেশক ইউসুফ হাসান অর্ক বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ বর্ণনাত্মক নাট্যময়তার যে স্বকীয় পথে চলছে, তারই একটি নতুন পর্যায় ‘লাইলী মজনু’। ভিনদেশি কাহিনী হলেও কথন ও গীতময়তার মন্থন যোগে এ প্রযোজনার শরীরে দেশজ গন্ধমাদন যোগ করার প্রয়াস রয়েছে।”
নাটকে অভিনয় করছেন শফিউল্লাহ খান নিক্সন, সাকিনা ইসলাম ঈষিকা, রাহাত সরকার, নীল সরকার, অসীম, সাজিদ উচ্ছ্বাস, কৃষ্ণা সজ্জন পূজা, মোক্তাফী রওনক ঐতৃজা, রেফাত হাসান সৈকত, ফয়সাল আবির, অন্তরা সাহা লাকি, নূর-ই-নাজনীন (তমা), তানভীর পালোয়ান অপূর্ব, মীম সুলতানা দোলা, আবির হাসান, ইগিমি চাকমা, নির্ঝর অধিকারী ও প্রশান্ত প্রসাদ স্বর্ণকার।
মঞ্চ ও সংগীত পরিকল্পনায় আছেন ইউসুফ হাসান অর্ক; আলোক পরিকল্পনায় অম্লান বিশ্বাস; পোশাক পরিকল্পনায় শাহিনুর আক্তার প্রীতি; অঙ্গরচনা নূর-ই-নাজনীন, বৃষ্টি, জয়ন্ত ত্রিপুরা; কোরিওগ্রাফি কৃষ্ণা সজ্জন পূজা সেট নির্মাণ ও প্রপস তুষারধর, শহিদ মৃধা।