Published : 30 Apr 2026, 08:07 PM
আমেরিকান ‘কান্ট্রি মিউজিকের’ জনপ্রিয় শিল্পী ডেভিড অ্যালান কো মারা গেছেন।
ফক্স নিউজ লিখেছে, ৮৬ বছর বয়সে বুধবার তার মৃত্যু হয় বলে স্ত্রী কিম্বারলি জানিয়েছেন।
কিম্বারলি বলেন, সে আমাদের সময়ের অন্যতম সেরা গায়ক, গীতিকার ও পারফর্মার। তাকে কখনোই ভোলা যাবে না।
“দীর্ঘ বছর সে ছিল আমার স্বামী, আমার বন্ধু, একান্ত বিশ্বাসভাজন ও আমার জীবন। কখনোই তাকে ভুলব না। আমি চাই না অন্য কেউ কখনো তাকে ভুলে যাক।”
অ্যালান কোর মৃত্যুর সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তবে কো এর এক প্রতিনিধি ‘দ্য মিউজিক ইউনিভার্সকে’ বলেন, স্থানীয় সময় বিকাল ৫টার দিকে আইসিইউতে এ গায়কের মৃত্যু হয়। তিনি ছিলেন সংগীত জগতের এক ‘অমূল্য সম্পদ’। সকল ভক্ত-অনুরাগীর প্রতি তিনি ছিলেন কৃতজ্ঞ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রারম্ভে ১৯৩৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর অ্যাক্রনে জন্মগ্রহণ করেন অ্যালান কো। তার ছোটবেলা ঘটনাবহুল ও নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে কেটেছে। সেই সময়ে তিনি সংশোধনাগারেও কাটিয়েছেন।
সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি চলে যান যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে। ‘কান্ট্রি মিউজিকের’ ধারার কেন্দ্র ছিল ন্যাশভিল। সংগীতকে পেশা হিসেবে নিতে এ শহরে আসার পর ১৯৭০ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘পেনিটেনশিয়ারি ব্লুজ’ প্রকাশ করেন।
অন্য শিল্পীদের জন্যও গান লিখতে শুরু করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে তানিয়া টাকারের গাওয়া ‘উড ইউ লে উইথ মি’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, যা ছিল অ্যালান কো এর লেখা।
একক শিল্পী হিসেবেও সাফল্যের দেখা পান তিনি। ১৯৭৫ সালে তার ‘ইউ নেভার ইভেন কলড মি বাই মাই নেম’ গানটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা দশটি গানের তালিকায় জায়গা করে নেয়।
অ্যালান কো আরও কিছু অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে প্রকাশ করেন ‘নাথিং স্যাক্রেড’ অ্যালবাম। ১৯৮২ সালে আসে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড অ্যালবাম’। আশির দশকে ‘দ্য রাইড’ আর ‘মোনা লিসা লস্ট হার স্মাইল’ এর মত জনপ্রিয় গানের মধ্য দিয়ে তিনি সফলতার দেখা পান।
হেভি মেটাল ব্যান্ড ‘প্যানটেরা’ এর সদস্যদের সঙ্গে ‘রেবেল মিটস রেবেল’ নামে একটি প্রজেক্টেও কাজ করছিলেন তিনি, যেখানে কান্ট্রি মিউজিক ও মেটাল সংগীতের এক অনন্য মিশ্রণ ঘটেছিল।
কোনো কিছু পরোয়া না করার মত জীবনযাত্রা আর আমেরিকান সংগীতের মূলধারার প্রথা ভাঙার কারণে ‘আউটল’জ আউটল’ হিসেবে পরিচিতি পান ‘অ্যালান কো। তার গানের কথায় মাদক আর আপত্তিকর বা খোলামেলা বিষয়বস্তুর কারণে বেশ বিতর্কের মুখেও পড়েন।
প্রভাবশালী আমেরিকান ম্যাগাজিন ‘রোলিং স্টোন’ এর তথ্যমতে, ২০১৫ সালের দিকে অ্যালান কো আর্থিক সংকটে পড়েন। সে বছর কর সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয় এবং বকেয়া কর বাবদ প্রায় ১০ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অ্যালান কো বেশ কিছু শারীরিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন। ২০২১ সালে তিনি কোভিডেও আক্রান্ত হয়েছিলেন।