১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বাবা শেষের দিকে বেশ আধ্যাত্মিক হয়ে গেছিলেন’: খালেদ খানের জন্মদিনে মেয়ে জয়িতা

“তার জন্মদিনে আমি এটাই চাই সে যেন স্বস্তিতে থাকে।”

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2026, 05:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

কখনো তিনি বলতেন, ‘ছি ছি ছি তুমি এত খারাপ’, কখনো বলতেন ‘ছি ছি ছি মাস্তান এত খারাপ’-এই সংলাপ প্রয়াত অভিনেতা খালেদ খানের। নব্বই দশকে ‘রূপনগর’ নামের ধারাবাহিক নাটকে এসব সংলাপ আউড়ে তিনি হয়েছিলেন জনপ্রিয়। টেলিভিশন নাটক ছাড়াও খালেদ খান আশির দশক থেকে মঞ্চ নাটকে খ্যাতি কুড়িয়েছিলেন। প্রয়াত অভিনেতার ৬৯তম জন্মবার্ষিকীতে তার মেয়ে সংগীত শিল্পী ফারহিন খান জয়িতা বাবার শেষদিনগুলো নিয়ে কথা বলেছেন।

খালেদ খান চলে গেছেন ২০১৩ সালে। মৃত্যুর আগে দীর্ঘ সময় রোগে ভুগেছেন তিনি। শেষের দিনগুলোয় খালেদ খানের জীবন দর্শনে পরিবর্তন এসেছিল বলে জানিয়েছেন জয়িতা।

তিনি বলেন, “আমার বাবা শেষের দিকে বেশ আধ্যাত্মিক হয়ে গেছিল। জীবন যাপন, জীবন দর্শনে বিশাল পরিবর্তন এসেছিল। কিছুটা দেখা যেত, কিছুটা দেখা যেত না। মাঝে মাঝে তার অদ্ভুত অদ্ভুত দর্শন শুনে মুচকি মুচকি হাসতাম। মনে হত পাগলের প্রলাপ!

“বয়স যত বাড়ছে আমার, আমার কাছে তার সেই সময়কার বেশিরভাগ কথাই ঠিক লাগা শুরু হয়েছে। জীবন কে অন্য ভাবে দেখতে পারার একটা ক্ষমতা আমার মধ্যে আসতে শুরু করেছে। এই যে অন্য ভাবে দেখা, সেই দেখা সহজ নয়, সেই দেখা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দেখা।”

খালেদ খানকে নিয়ে জয়িতা এসব কথা বলেছেন ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে। 

পরপারে খালেদ খান যেন ‘স্বস্তিতে থাকেন’ সেই প্রত্যাশা রেখেছেন জয়িতা।

“বাবা বেঁচে থাকলে এখন একদম অন্যরকম একটা বাবা হত, সে যেই জার্নির এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, সেটি আরো গভীর হত, আরো গোছানো হত, তার সাথে থাকার কারণে আমার জন্যেও হয়তো অনেক কিছুই সহজ হত। একা একা পথটা পাড়ি দিতে হত না। 

“তার জন্মদিনে আমি এটাই চাই সে যেন স্বস্তিতে থাকে, যেখানেই আছে। আর সে যে রকম হতে চেয়েছিল শেষমেশ, সেটা যেন আমি হতে পারি যদি বেঁচে থাকি।”

মঞ্চ ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা খালেদ খান জনপ্রিয়তা পান হ‌ুমায়ূন আহমেদের ধারাবাহিক নাটক 'এইসব দিনরাত্রি'তে অভিনয় করেও। ১৯৮১ সালে বিটিভিতে ‘সিঁড়িঘর’ নাটক দিয়ে টিভিতে অভিষেক হয়েছিল তার।

ছাড়া ‘কোন কাননের ফুল’, ‘মফস্বল সংবাদ’, ‘ওথেলো এবং ওথেলো’, ‘দমন’, ‘লোহার চুড়ি’, ‘সকাল সন্ধ্যা’সহ আরও বহু নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন।

নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের হয়ে মঞ্চে দেওয়ান গাজীর কিসসা, নূরুল দীনের সারাজীবন, দর্পনসহ ৩০টির বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। নির্দেশনা দিয়েছেন পুতুল খেলা, ক্ষুধিত পাষাণসহ ১০টির বেশি নাটক।

 ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর মারা যান খালেদ খান।