Published : 19 Jul 2025, 01:29 PM
সতের বছর আগে কথাসাহিত্যিক-নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ তার ‘আমার আছে জল’ সিনেমার জন্য একটি গান লিখে ডেকেছিলেন গায়ক হাবিব ওয়াহিদকে। তার ইচ্ছে ছিল সে সময়ের তারকা শিল্পী হাবিব গাইবেন গানটি।
হাবিব গানটি তৈরি করলেন, কিন্তু হুমায়ূন ঠিক ‘যেভাবে চেয়েছিলেন’ সেটি ফুটে ওঠেনি। গানের পেছনের এই গল্প হাবিব করেছেন গ্লিটজের সঙ্গে।
গানের কথাগুলো ছিল-"বাদলা দিনে মনে পড়ে ছেলেবেলার গান, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান, যদি ডেকে বলি, এসো হাত ধরো, চলো ভিজি আজ বৃষ্টিতে।"
হাবিব ওয়াহিদ কেবল গানে কণ্ঠই দেননি; সুর ও সংগীতায়োজনও তারই করা। এই গানের দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন জাহিদ হাসান, মেহের আফরোজ শাওন, ফেরদৌস আহমেদ ও বিদ্যা সিনহা মীম।
পরে এই গানটিতেই কণ্ঠ দিয়েছিলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। এছাড়াও পরে গেয়েছিলেন দিলশাদ নাহার কণাসহ আরও অনেক শিল্পী।
গ্লিটজের সঙ্গে গানটি তৈরির পিছনের ভাবনা, হুমায়ূনের সঙ্গে আরও কাজ না করতে পারার আক্ষেপের কথা বলেছেন হাবিব।
‘আমার আছে জল সিনেমার’ হাবিবের গাওয়া ‘চলো বৃষ্টিতে ভিজি’ গানটি ফেইসবুকে ভিডিও, রিলসে প্রায়ই দেখা যায়।
সেটা চোখে পড়েছে কী না প্রশ্নে হাবিব বলেন, "হ্যাঁ, এটা তো এমন সময়েরই গান। এত বছর পরও মানুষ এই গানটি মনে করে সেটা ভালো লাগার।"
গানটিতে কাজের প্রস্তাব এসেছিল কীভাবে জানতে চাইলে হাবিব বলেন, হুমায়ূন আহমেদের মাধ্যমেই কাজের কথা এসেছিল।
“সিনেমার গল্প শোনাতে হুমায়ূন আহমেদ আমাকে ধানমন্ডিতে ডেকেছিলেন। গল্পটা শুনি, গানের কথাগুলো দেখে গান নিয়ে আলোচনা করে চলে আসি। কিছুদিন পর গান তৈরি করে আবার তার কাছে যাই। গানটি তিনি পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু উনি যেইভাবে গানটি চেয়েছিলেন তেমনটা হয়নি।
"গানটি শুনে হুমায়ূন আহমেদ আমাকে বলেন, "হাবিব গানটি আমার পছন্দ হয়েছে। কিন্তু আমাদের একটা গ্যাপ আছে, আমি তো আনন্দের গান চাইনি, গানে কষ্টের ভাব রাখতে হবে। অর্থাৎ গানটা স্যাড মুডে চেয়েছিলেন তিনি।"
এরপর আবার গানটি তৈরি করে নিয়ে যাওয়ার পর সেটিই চূড়ান্ত হয় সিনেমার জন্য।
পরে এই গানটি সাবিনা ইয়াসমিন গেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন হাবিব। হুমায়ূন আহমেদের চাওয়াতেই গানটি সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়ে করিয়েছিলেন হাবিব।
"হুমায়ূন আহমেদ সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়ে গানটির আরেকটি ভার্সন তৈরিও করিয়েছিলেন আমাকে দিয়ে। উনার অনেক ইচ্ছে ছিল সাবিনা ইয়াসমিন গানটা করুক। গানটা এখনো আছে অনলাইনে। সাবিনা ইয়াসমিনের মত কিংবদন্তী শিল্পীর সঙ্গে এই গানটা করার অভিজ্ঞতা অন্যরকম ছিল।"
তবে সিনেমা মুক্তির আগে না পরে গানটি সাবিনা ইয়াসমিন করেছিলেন সেটা মনে করতে পারলেন না হাবিব।
হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আর কোনো স্মৃতি আছে কী না প্রশ্নে হাবিব বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত উনার সঙ্গে আমার একটাই কাজ হয়েছে। ওইরকমভাবে আর স্মৃতি নেই। একবার দুইবার দেখা হয়েছিল। যতটুকু দেখা হয়েছিল বেশি অভিজ্ঞতা নেই। উনার সম্পর্কে বেশি কিছু বলার নেই।"

আক্ষেপ ঝরিয়ে হাবিব বলেন, "একজন সুরকার হিসেবে কিছুটা আক্ষেপ কাজ করে উনার সঙ্গে যদি আরেকটু বেশি কাজ হত। উনি বেঁচে থাকলে হয়ত আরও কাজ হত একসঙ্গে, ভালো ভালো কাজ হত।"
হুমায়ূন আহমেদের তার ‘আমার আছে জল’ গল্প থেকে এই নামেই সিনেমাটি বানিয়েছিলেন ২০০৮ সালে। সিনেমার গল্পে দেখা যায় একটি পরিবার একসঙ্গে বেড়াতে যায়। যেখানে মা, বাবা, তাদের দুই মেয়ে নিশাত ও দিলু, নিশাতের মেয়ে থাকে। তাদের সঙ্গে যান জামিল নামের নিশাতের শৈশবের এক বন্ধু।
পরিবারটির সঙ্গে আরও থাকেন সাব্বির নামের এক ফটোগ্রাফার, যিনি নিশাতকে পছন্দ করেন। বিদেশ থেকে এসেছেন তিনি। নিশাতের স্বামী মারা গেছেন কয়েক বছর হল। মা-বাবা চাইছেন নিশাত আর সাব্বির যেন বিয়ে করে সংসার বাঁধে।
কিন্তু নিশাতের পছন্দ তার শৈশবের বন্ধু জামিলের প্রতি। অন্যদিকে, নিশাতের বোন দিলুও জামিলের প্রেমে পড়ে যায়। গল্পটিতে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং এক করুণ পরিণতির কাহিনীতে গিয়ে শেষ হয়।
সিনেমায় নিশাত চরিত্রে শাওনকে, জামিল চরিত্রে জাহিদ হাসান এবং সাব্বির চরিত্রে ফেরদৌস অভিনয় করেছেন। আর দিলু চরিত্রে কাজ করেছেন মীম।
আরও অভিনয় করেছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, মুনমুন আহমেদ, এজাজুল ইসলাম, মনিরা মিঠু, জয়ন্ত চট্টপাধ্যায়।