Published : 17 Jan 2026, 04:10 PM
অভিনেতা মোশাররফ করিম শুটিং সেটে নিয়মিত বই পড়েন। এই অভ্যাস তার নতুন নয়। অভিনেতার কথায়, কেবল মনের খোরাক যোগানোর জন্য নয়, বই পড়ার অভ্যাস অভিনয় দক্ষতা বাড়াতে কাজে লাগে, তৈরি করে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাও।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনের একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন মোশাররফ করিম। সেখানে বই পড়া প্রসঙ্গে কথা বলেন তিসি।
পড়ার মধ্য দিয়ে উপন্যাসের চরিত্র অনুভব করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেতা।
মোশাররফ বলেন, “আমি অভিনেতা হিসেবে যে জায়গা থেকে সব থেকে বেশি ফল পেয়েছি, সেটা হচ্ছে বই। আমি একটা উপন্যাস পড়লাম, উপন্যাসে একটা চরিত্রের বর্ণনা দেওয়া আছে, সেই চরিত্রটা কেমন করে হাঁটে, তার গায়ের বর্ণ, শিক্ষা-দীক্ষা, অর্থনৈতিক অবস্থাসহ নানান কিছুর মধ্য দিয়ে একটি চরিত্র উঠে আসে।
“একটা বই যখন আমি পড়ি, তখন সেই চরিত্রটা আমি দেখতে থাকি। তার হাঁটাচলা, কথা বলার ধরন, এক্সপ্রেশন সব কিছুই আমি কল্পনায় অনুভব করি। এটা কিন্তু একটি বড় চর্চা অভিনয়ের জন্য। আমি যা দেখছি সেই চরিত্রে, সেটা কিন্তু আমার মত করে দেখছি। বইয়ে লেখা সেই কথাগুলো আমার কল্পনায় একটা চরিত্র হয়ে উঠে।"

একজন দক্ষ অভিনেতা হয়ে উঠতে ‘পর্যবেক্ষণ জরুরি’ মন্তব্য করে মোশাররফ বলেন, সেই পর্যবেক্ষণ বই পড়ার মধ্যে তিনি পান।
"পর্যবেক্ষণ অভিনয়ের জন্য একটি বড় জিনিস। আর অভিনয়শিল্পীদের জন্য চারপাশের মানুষ পর্যবেক্ষণ করা অনেক কঠিন। আমরা বাসে উঠতে পারি না, বাসে উঠলে হয়ত বাসের চরিত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারতাম, কিন্তু আমরা বাসে উঠলে যাদের পর্যবেক্ষণ করতে উঠলাম তারাই অন্যরকম হয়ে যাবে। মাছ বাজারেও যেতে পারি না। তাই বই হল চরিত্র পর্যবেক্ষণের একটি বড় মাধ্যম।”
বই পড়ার উপযোগিতা নিয়ে এই অভিনেতা বলেন, “আনন্দের জন্য বই পড়া উচিত। যারা বই পড়ার অভ্যাস নেই, তারা হয়ত প্রথমে এক-দুই পাতা পড়লে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করবেন। কিন্তু একবার বই পড়ার মজায় ঢুকে পড়লে আর তা ছাড়তে পারবেন না। পণ্ডিত হবার জন্য নয়, আনন্দ নিয়েই বই পড়া উচিত বলে মনে করি।”
এক ঘণ্টার ওই অনুষ্ঠানে মোশাররফ করিম আরও কথা বলেছেন তার জীবনের নানা বিষয় নিয়ে। কে এম মোশাররফ হোসেন থেকে কীভাবে তিনি পর্দার মোশাররফ করিম হয়ে গেলেন, সে গল্পটিও করেছেন।

মোশাররফের অভিনয়ের হাতেখড়ি থিয়েটার থেকে। থিয়েটার চর্চার শুরুতে তিনি তার শিক্ষকদের দেওয়া একটি পরামর্শ এখনো মেনে চলেন।
মোশাররফ বলেন, "শিল্পীদের মন হতে হবে উদার। ঢাকায় এসে থিয়েটার চর্চা করার সময় শুরুতেই শিক্ষকদের কাছ থেকে শুনেছিলাম, যদি শিল্পী হতে চাও, সৎ মানুষ হতে হবে। প্রতিদিনই এই কথাটা আমি শুনতাম। সে কথাটিই সারা জীবন মনের ভেতর গেঁথে গেছে।"
নটক, ওটিটি ও সিনেমা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন মোশাররফ। গেল বছর নাটকের পাশাপাশি ওটিটিতে এই অভিনেতার ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’, ‘অন্ধকারের গান’, ‘মির্জা’, ‘ডিমলাইট’সহ বেশ কিছু সিরিজ ও সিনেমায় দেখা গেছে।
এছাড়া এর মধ্যে 'ইনসাফ' ও 'চক্কর' সিনেমাও করেছেন তিনি।