Published : 14 Jan 2026, 01:12 PM
একসময় নিয়মিত অভিনয় ও উপস্থাপনায় সক্রিয় থাকা অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস বর্তমানে অভিনয় থেকে বেশ দূরে। পর্দার চেয়ে পারিবারিক জীবন ও বাবার কৃষিকাজ সামলানোর দায়িত্ব তার সময়ের বড় একটা অংশ জুড়ে দখল করে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এখন খুলনায় অবস্থানরত এই অভিনেত্রী গ্লিটজকে জানিয়েছেন, অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার তেমন কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
মৌটুসীর কথায়, জীবনের এই পর্যায়ে অভিনয়ের অনুপস্থিতি তাকে তেমনভাবে নাড়া দেয় না; বরং গল্প, সময় ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মিললেই কেবল কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
মৌটুসী বলেন, “অভিনয় নিয়মিত হওয়া হবে না। মাঝে মাঝে করতে পারি আবার একেবারেই নাও করতে পারি। অভিনয়ে নিয়মিত আর হব না কখনোই, আমাকে ঢাকা ও খুলনা মিলিয়ে থাকতে হয়। খুলনায় আমি কৃষি কাজের সাথে যুক্ত, তাই প্রতি মাসেই একটা নির্দিষ্ট সময় আমাকে খুলনায় থাকতে হয় সবকিছু দেখাশোনার জন্য। ঢাকায় আমার সংসার, আবার খুলনায় আমার বাবার বাড়ি দুটো সংসারই আমাকে সামলাতে হয়। খুলনা ঢাকা করতে করতেই আমার সময় চলে যাচ্ছে।”
মৌটুসী জানিয়েছেন, তার বাবা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। অবসরের পর খুলনায় পারিবারিক জমিতে কৃষিকাজে সময় দিতেন। দুই বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর সেই দায়িত্ব তিনি নিজেই তুলে নিয়েছেন।
“উনার বিদায়ের পর আমি মনে করেছি এই দায়িত্বটা আমারই নেওয়া উচিত। তাই এখন এখানকার কাজগুলো আমি দেখাশোনা করছি।”
কাজটি নিয়ে বড় কোনো পরিকল্পনা আছে কী না জানতে চাইলে মৌটুসী বলেন, “কৃষি কাজ নিয়ে বড় কোনো পরিকল্পনার স্বপ্ন দেখা কঠিন। কারণ যারা উৎপাদন করে তারা পণ্যের সঠিক দাম পায় না। তারা পণ্য বিক্রি করে খরচটা উঠে গেলেই মনে করেন যাক এবার বেঁচে গেলাম, ক্ষতি তো আর হয়নি। কৃষকদের এই অবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে হয় না, সারাজীবনই তাদের সঙ্গে এটাই হয়ে এসেছে। তাই বড় কোনো স্বপ্ন আমি দেখি না।
“আমি ছোট পরিসরে কীটনাশক মুক্ত সবজি উৎপাদনের চেষ্টা করি। প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় অনেক কৃষকই কীটনাশক মুক্ত সবজি উৎপাদনে আগ্রহ দেখায় না, কারণ যেই খরচ প্রয়োজন তা উঠে আসে না। তবে কৃষি নিয়ে বড় পরিসরে কিছু করতে হলে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।”
তবে অভিনয়কে একেবারে বিদায় জানাননি মৌটুসী। গেল মাসে বিজয় দিবসের একটি বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাকে। সম্প্রতি 'মুক্তির ওপারে' নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

‘মুক্তির ওপারে’ চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌটুসী বলেন, “'মুক্তির ওপারে' সিনেমার পরিচালক আফজাল হোসেন মুন্নার সঙ্গে আমার পারিবারিক বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। উনার কাছ থেকে গল্পটি শুনে এই গল্পের সঙ্গে আমি দ্রুত নিজেকে কানেক্ট করতে পেরেছি। তাই আমি সব চিন্তা বাদ দিয়ে কাজটির সঙ্গে যুক্ত হই, কারণ আমার বিশ্বাস ছিল তিনি কাজটি সুন্দর করে তুলে আনতে পারবেন।”
অভিনয় কমিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মৌটুসী জানিয়েছেন, অধিকাংশ গল্পের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে না পারায় অনেক প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি।
“আমার কাছে অনেক সিনেমার প্রস্তাব আসে কিন্তু সেগুলো আমি হৃদয় থেকে যুক্ত করতে পারি না। আমার কাছে মনে হয় এই গল্পগুলো বারবার বিভিন্নভাবে আগেও তৈরি হয়েছে, এইখানে আমার দেওয়ার কিছু নেই। দর্শক হিসেবে আমি নিয়মিত সব ধরনের কাজ দেখি। যেমন, 'দেলুপি' সিনেমাটি আমার খুব ভালো লেগেছে। সব সিনেমাই দেখা হয় তবে আমি কোনো কাজের সমালোচনা করতে চাই না কারণ আমাদের দেশে সিনেমা চলছে এটাই আনন্দের বিষয়।”
অভিনয়ে অনুপস্থিতি নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
“আমাকে পর্দায় না দেখা যাওয়া খারাপ লাগে না। তাই কাজ করার তাগিদও খুব একটা অনুভব করি না।”
ওটিটি বা মঞ্চের কাজে ফেরার পরিকল্পনা আছে কীনা প্রশ্নে মৌটুসী বলেন, “মঞ্চে কাজ করা সম্ভব নয় কারণ এটি অনেক সময়ের ব্যাপার। একটি নাটকের জন্য অন্তত তিন মাস রিহার্সাল করতে হয় যা আমার বর্তমান জীবনযাত্রার সাথে মানানসই নয়।
“আর ওটিটির কাজ গল্প ও সময়ের উপর হয়ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। একটা হিট প্রোডাকশনের চেয়ে একটা ভালো কাজ করা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, গল্পটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাকে মাঝে মধ্যেই কাজে দেখতে পারবেন দর্শক।”
বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে মৌটুসী জানিয়েছেন, বর্তমানে অভিনয়ের বাইরে তার পেশাগত ব্যস্ততা বেড়েছে। তিনি পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত, পাশাপাশি সন্তানকেও সময় দিতে হয়। সব মিলিয়ে আগের মত অভিনয়ে ব্যস্ত হওয়ার সুযোগ অভিনেত্রীর আর নেই।