Published : 29 Jun 2025, 07:19 PM
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ আর প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন বিনোদন অঙ্গনের তারকারা।
অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে নির্মাতা ও সংগীতশিল্পীরাও ধর্ষণ, নির্যাতন এবং তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেওয়ার মত ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে, কেউ সরাসরি ফাঁসির দাবি করেছেন অপরাধীর, কেউ আবার ভিউয়ের লোভে ভিডিও শেয়ার করা মানুষদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ধর্ষণকে ‘গুরুতর সংকট’ বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ধর্ষণ এই দেশে যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ ক্ষেপে ওঠে শুধু তখনই, যখন কোনও ঘটনা ভাইরাল হয়—কিন্তু তা অল্প সময়ের জন্য। তারপর সবাই ভুলে যায়। কেউ কেউ আবার সেই বর্বরতার ভিডিও শেয়ার করে ‘বিনোদন’ বানায়। তারা অপরাধীর মতই দোষী।
“আমি রাগান্বিত, মর্মাহত, আর হ্যাঁ—ভীত। কারণ একজন নারী হিসেবে আমি আর নিরাপদ বোধ করি না। বাস্তবে না, অনলাইনেও না। ট্রমা নাটক নয়, ধর্ষণ মেনে নেওয়ার মত বিষয় নয়। এটা আর চলতে পারে না।"
অপরাধীর ফাঁসির দাবি জানিয়ে মিশা সওদাগর লিখেছেন, "দেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে থাকুক। প্রতিটি নারী নিরাপদে থাকুক। প্রতিটি অন্যায়ের ন্যায় বিচার হোক। প্রতিটি ধর্ষকের ফাঁসি হোক। মুরাদনগরে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের তীব্র ঘৃণা এবং নিন্দা জানাচ্ছি। ধর্ষকের ফাঁসির দাবি করছি।"
নুসরাত ফারিয়া লিখেছেন, ‘স্টপ রেপ।’
অভিনেত্রী তমা মির্জা লিখেছেন, ‘মুরাদনগর, কুমিল্লা! বীভৎসতা! লজ্জা…!’
জনসম্মুখে ধর্ষকের ফাঁসি চেয়েছেন অভিনেতা জিয়াউল রোশান। লিখেছেন, "কুমিল্লার মুরাদনগরের ঘটনায় ধর্ষকদের একটাই শাস্তি চাই। জনসম্মুখে ফাঁসি। তারা কোন দল করে, কোন ধর্মের সেটা জানা দরকার নাই, জানতেও চাই না। জাস্ট জনসম্মুখে ফাঁসি চাই।
“আর আপনারা যারা সমবেদনা জানিয়ে সেই ভিডিওটি শেয়ার করছেন, আবার কেউ কেউ ভিউ পাবার লোভে সেই ভিডিওটা আপলোড করছেন, আপনারাও সে ধর্ষণকারীর মতই অপরাধী। আপনারা ভিউখোর রাক্ষস। ফাজলামি ছেড়ে দেন আর অতি সত্বর এইসব ডিলেট করেন।"
কণ্ঠশিল্পী সিঁথি সাহা লিখেছেন, “কোন দেশে আছি? এ কি দেখলাম?”
হতাশা প্রকাশ করে নির্মাতা শিহাব শাহীন লিখেছেন, “পুলিশ এখনও (সুদিনের অপেক্ষায়) নিরাসক্ত, দায়সারাভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই আগের মতই নেতা-নেত্রী তোষণ করে উন্নতির উপায় খুঁজছে। পথেঘাটে চলতে ফিরতে গেলে এমনই বোধ হয়। বাংলাদেশে কিছুই বদলায় না। পুলিশও বদলাবে না।”
কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মুরাদনগরে একটি গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফজর আলী নামে এক ব্যক্তি আটক ও পিটুনির শিকার হয়। পরে ফজর সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর বিবস্ত্র ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা চলছে।
সেই ফজর আলীকে রোববার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়া নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।