Published : 17 Oct 2025, 12:23 AM
গানে গানে মুগ্ধতা ছড়ালেন শিল্পীরা; বাঁশিতে ছড়িয়ে পড়ল বাউল গানের সেই পরিচিত সুর আর আলাপে উঠে এল মরমী কবি, দার্শনিক ও মানবতাবাদী লালন শাহের কথা।
এভাবেই সাঁইজিকে স্মরণ করে রাজধানী ঢাকায় হয়ে গেল মনোরম এক ‘লালন সন্ধ্যা’।
ফকির লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ আয়োজন করে ভারতীয় হাই কমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

এতে বাউল ও সংগীত শিল্পী, অভিনয় শিল্পী, নাট্যজন, সংগীতপ্রেমী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সম্মিলন ঘটে।
বাংলাদেশে লালন সংগীতের বরেণ্য শিল্পী প্রয়াত ফরিদা পারভীনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
পুরো অনুষ্ঠানটি ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতীক মরমী কবি, দার্শনিক ও মানবতাবাদী লালন শাহকে উৎসর্গ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন,
“ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্থায়ী আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন ফকির লালন শাহের জীবন ও সংগীতে প্রতিফলিত হয়। লালনের অন্তর্ভুক্তি, সম্প্রীতি, করুণা এবং মানবতার দর্শন জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে উভয় জাতিকে তাদের যৌথ সাংস্কৃতিক যাত্রায় অনুপ্রাণিত করে চলেছে।”
ফরিদা পারভীনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, “তার সংগীত প্রজন্ম ও জাতির মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেছে। উভয় দেশের অসংখ্য উৎসবে তার পরিবেশনাগুলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সেতু হিসেবে কাজ করেছে।
“এই অনুষ্ঠান কেবল স্মরণের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপনের জন্যও আয়োজিত হয়েছে।”
ফরিদা পারভীনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা সাবেক হাই কমিশনার মুচকুন্দ দুবে অনুবাদিত হিন্দিতে ফরিদা পারভীনের গাওয়া গানের ভিডিওচিত্র দেখানো হয়।
অনুষ্ঠানে ছিল তার স্বামী একুশে পদকপ্রাপ্ত বংশীবাদক গাজী আব্দুল হাকিমের বাঁশি পরিবেশনা।
এরপর ফরিদা পারভীনের শিষ্য নাসরীন আক্তার বিউটি গান পরিবেশন করেন। তার হাতে গড়া অচিন পাখি কালচারাল একাডেমির শিক্ষার্থীরা সমবেত সংগীত পরিবেশন করে।
সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল চন্দনা মজুমদার ও কিরণ চন্দ্র রায়ের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা, যারা সমসাময়িক বাংলাদেশে লালন ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য খ্যাতি পেয়েছেন।
এ পর্বে কুষ্টিয়ার টুনটুন বাউল ও তার দলের গাওয়া লালন গীতি দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে লালন বিশ্ব সংঘের লেখক আবদেল মান্নান লালন সাঁইয়ের শিক্ষা, দর্শন, জীবন ও কর্ম এবং আজকের বিশ্বে এর প্রাসঙ্গিকতা কীভাবে বাড়ছে তা নিয়ে বক্তৃতা দেন।
এদিনের লালন সন্ধ্যার পর্দা নামার আগে ছিল সুমির নেতৃত্বে ‘লালন’ ব্যান্ডের পরিবেশণা। তাদের প্রাণবন্ত ও আধুনিক ঢংয়ের পরিবেশনার মাধ্যমে লালনের বার্তা কীভাবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়।
অভিনেতা আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক এন ম্যারি জজ। অনুষ্ঠান শেষে সংগীত পরিবেশন করা শিল্পীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।