Published : 16 May 2026, 01:53 AM
একত্রিশেই থেমে গেল জীবন; ফুসফুসের জটিলতা ও লিভারের সংক্রমণে আক্রান্ত অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারকে ফেরানো গেল না।
উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ শুক্রবার রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে কারিনার মৃত্যুর খবর দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, “অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা kaarina kaisar একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।
“আমার মেয়ের কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
কায়সার হামিদ গ্লিটজকে বলেন, “রাত ১ টার দিকে চেন্নাইয়ে মারা যায়। হঠাৎ করেই ওর ব্লাড প্রেশার কমে গিয়েছিল। পরে তা আর নিয়ন্ত্রণে আসেনি।"
মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, "এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামীকাল হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে কীভাবে দেশে আনা যায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।"
লিভারের জটিলতা নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কারিনা। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় চেন্নাইয়ের ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে।
বুধবার চেন্নাই থেকে কারিনার মা লোপা কায়সার জানিয়েছিলেন, লিভার প্রতিস্থাপন বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল নেওয়ার মত শারীরিক অবস্থায় কারিনার নেই বলে চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন।
কারিনার ফুসফুসে অনেকটা তরল ও কফ জমে গিয়েছিল। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে স্থিতিশীল করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। তবে অস্ত্রোপচরের পর্যায়ে আর যেতে পারেননি তারা।
‘এ’ লেভেল শেষ করে পড়ালেখার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে একজন শিক্ষানবিশ হিসেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইংরেজি ডেস্কে কিছুদিন কাজ করেছেন কারিনা কায়সার।
দেশে ফিরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও গত কিছুদিন ধরে তিনি অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তার পরিচিতি তৈরি হচ্ছিল।
তার কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।