Published : 25 Apr 2026, 03:38 PM
তেত্রিশ বছর, লম্বা এই সময়ে ‘খলনায়কের’ অনেককিছু পাল্টে গেছে। পাল্টে যাওয়া রুপেই প্রকাশ্যে এলেন ‘বাল্লু বলরাম’ চরিত্রের সঞ্জয় দত্তও।
১৯৯৩ সালের ‘খলনায়ক’র সিক্যুয়েল ‘খলনায়ক রিটার্নস’র টিজারে দেখা গেল রণক্লান্ত অথচ কঠোর, রুক্ষ চেহারার সঞ্জয়কে।
শুক্রবার তার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন টিজার। এর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে- ‘কুছ কাহানি খাতাম না হোতি... ওহ দোবারা শুরু হোতি হ্যায়, খলনায়ক রিটার্নস’।
অভিনেতার পোস্টারও প্রকাশ করা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এলোমেলো চুলে ঢাকা চোখে ভয় ধরানো অভিব্যক্তি, গলায় মোটা শিকল জড়ানো আর আগুনজ্বলা হাতে চুরুট- পোস্টারের এমন ছবির ক্যাপশন লেখা হয়েছে ‘হার কাহানি কা এক ওয়াক্ত হোতা হ্যায়...ওর উসকা ওয়াক্ত আ গায়া হ্যায়, 'খলনায়ক রিটার্নস'।
দর্শকরা আবারও সঞ্জয় দত্তের ম্যাজিক দেখতে যাচ্ছেন, তা অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যায় পিজারে ফার্স্ট লুক আর পোস্টার প্রকাশের মধ্যে দিয়ে।
টিজারে দেখা যায়, বাল্লু একজনকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টায় জেল থেকে পালানোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। এক সময় ধূমপানরত ‘বাল্লু’ গাইতে শুরু করেন সেই জনপ্রিয় গান- ‘নায়ক নেহি, খলনায়ক হুঁ ম্যায়’।
‘খলনায়ক’র সিক্যুয়েল নির্মাণের পেছনের গল্প বলেছেন সঞ্জয় দত্ত। তার মতে, এটি ছিল দীর্ঘ একটি যাত্রা, যা সুভাষ ঘাইকে ছাড়া পার হওয়া সম্ভব হতো না।
“তিনি একজন কিংবদন্তী এবং বিনোদন জগতের একজন মানুষ। তিনি এই ‘খলনায়ক’র অংশ হবেন,” বলেন সঞ্জয় দত্ত।
অভিনেতার দাবি, ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ মামলায় তার জেল খাটার সময় নতুন ‘খলনায়ক’ নির্মাণের ভাবনাটি প্রথম তার মাথায় আসে।
“জেলে আমি আমার চারপাশের সবার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কার কার এটা দেখার আগ্রহ আছে?। ৪,০০০ কয়েদি বলেছিল, তারা সবাই আগ্রহী। আমি তাদের সবাইকে এটি (নতুন ‘খলনায়ক’র গল্প) নিয়ে এক পৃষ্ঠা করে লিখতে বলি এবং সেই ৪,০০০ পৃষ্ঠা পড়তে আমার বেশ কিছুদিন সময় লেগেছিল।
“যখন আমি প্যারোলে মুক্তি পেলাম, আমি সুভাষ স্যারকে এটি (লেখাগুলো) একবার দেখতে বলি। এরপর তিনি বলেন, এটি তৈরি করা উচিত।”
ফিল্মফেয়ার বলেছে, পরিচালক সুভাষ ঘাই নিজেও নিশ্চিত করেছেন, সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে গেছে। যদিও সিনেমার বাকি কলাকুশলী এখনো চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে।
“সিনেমাটি (খলনায়ক রিটার্নস) তৈরি করাটা ছিল সঞ্জু এবং মান্যতার ইচ্ছা ও আবেগ। আমি নিশ্চিত, এটি (আগেরটির চেয়ে) আরও ভালো হবে। যেকোনো সাহায়তার জন্য আমি সবসময় আছি,” বলেছেন ৮১ বছর বয়সী এই নির্মাতা।
সিনেমাটি প্রযোজনা করবে অ্যাসপেক্ট এন্টারটেইনমেন্ট, জিওস্টুডিওস এবং থ্রি ডাইমেনশন মোশন পিকচার্স।
অ্যাসপেক্ট গ্লোবাল ভেঞ্চারসের এক্সিকিউটিভ চেয়ারপার্সন অক্ষ কাম্বোজ বলেছেন, ১৯৯৩ সালের মূল সিনেমাটির প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি এমন একটি গল্প উপহার দেওয়াই তাদের লক্ষ্য, যা আজকের দর্শকদের মনে দাগ কাটবে।
নব্বইয়ের দশকে সুভাষ ঘাই পরিচালিত ও প্রযোজিত ‘খলনায়ক’ সিনেমাটি পেয়েছিল ব্যাপক দর্শপ্রিয়তা। সঞ্জয় দত্তের সঙেআগ প্রথম সিনেমায় ছিলেন জ্যাকি শ্রফ ও মাধুরী দিক্ষিত। বাল্লু চরিত্র সঞ্জয়, পুলিশ অফিসার ‘রাম’ চরিত্রে জ্যাকি আর আন্ডার কভার পুলিশ অফিসার ‘গঙ্গা’ চরিত্রে ছিলেন মাধুরী।