Published : 24 Nov 2025, 10:19 PM
দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাউল ও লোকসংগীত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর চলমান হামলা, হুমকি, অনুষ্ঠান বন্ধ ও অপমানজনক আচরণের ঘটনাগুলোকে বাংলাদেশের ‘সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর প্রকাশ্য আক্রমণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ‘বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম’।
সংগঠনটি এ ধরনের হামলা, হুমকি বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিসহ কয়েকটি দাবি তুলেছে।
সোমবার শর্ট ফিল্ম ফোরামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “এসব হামলা কেবল কয়েকজন শিল্পীর বিরুদ্ধে নয়, বরং জাতির মানবতাবাদী চেতনার বিরুদ্ধে সংগঠিত অপতৎপরতা।”
বৃহস্পতিবার ঘিওর উপজেলায় এক গানের আসরে ‘ইসলাম ধর্ম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি’র অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।
এ ঘটনায় রোববার মানববন্ধন কর্মসূচি ঘিরে ‘তৌহিদী জনতা’র হামলায় বাউল শিল্পী আবুল সরকারের তিন সমর্থক আহত হন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় ‘পরিকল্পিতভাবে বাউল গানের অনুষ্ঠান ভেঙে দেওয়া, মঞ্চ জবরদখল, শিল্পীদের ভয় দেখানো’ এবং মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর অঘোষিত ‘নিষেধাজ্ঞা’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
শর্ট ফিল্ম ফোরামের ভাষ্য, “এ ধরনের হামলা- এই দেশের সংস্কৃতি, সংবিধান এবং নাগরিক অধিকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া আর কিছু নয়। বাংলাদেশে বাউল, লালন ও লোকসংগীত শুধু শিল্প নয়- এটি স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য, মানবতাবাদ ও সাম্যের চেতনার মূলভিত্তি। এই ঐতিহ্যের ওপর আঘাত মানে দেশের সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব ধ্বংসের প্রচেষ্টা।”
রাষ্ট্রকে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “উগ্র গোষ্ঠীর হুমকি ও সহিংসতার সামনে নীরব থাকা মানে সেই সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেওয়া।”
শর্ট ফিল্ম ফোরামের মতে, সংস্কৃতি রক্ষা কোনো সংগঠনের একার দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব, জাতির দায়িত্ব। কোনো উগ্র শক্তি বাংলাদেশের শেকড় ছিন্ন করতে পারবে না।

“শিল্প-সংস্কৃতি আমাদের অস্তিত্ব-এটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনই জরুরি, নয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এ দায় ক্ষমা করবে না।”
সংস্কৃতির ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি শিল্পীর পাশে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম থাকবে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
শর্ট ফিল্ম ফোরামের দাবি
শর্ট ফিল্ম ফোরামের বিবৃতিতে কয়েকটি দাবিও জানানো হয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে-
>> দেশজুড়ে বাউল শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ওপর হামলার সমস্ত ঘটনা অবিলম্বে মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ বলে এড়ানো যাবে না।
>> জড়িত সকল ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হোক, তারা যে পরিচয় বা গোষ্ঠীরই হোক।
>> আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর স্পষ্ট নির্দেশ জারি করা হোক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কোনো উগ্র গোষ্ঠী হস্তক্ষেপ করতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে।
>> জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কোথায়, কোন ঘটনায় তাদের ব্যর্থতায় অনুষ্ঠান ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তার বিবরণ প্রকাশ করা হোক।
>> সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য জাতীয় পর্যায়ের স্থায়ী নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।
>> বাউল, লালন ও ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুরক্ষিত ‘হেরিটেজ’ ঘোষণা করে এর চর্চা বাধাগ্রস্ত হলে কঠোর আইনি দণ্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।