০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সালমানের ‘মা হয়ে উঠতে পেরেছিলাম’: ডলি জহুর

সালমান শাহর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে নিয়ে গ্লিটজের কাছে স্মৃতিচারণ করেন অভিনেত্রী ডলি জহুর।

সালমানের ‘মা হয়ে উঠতে পেরেছিলাম’: ডলি জহুর
ডলি জহুর ও সালমান শাহ

গ্লিটজ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Sep 2025, 03:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

অভিনেত্রী ডলি জহুরের কাছে প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ কেবল একজন সহশিল্পী ছিলেন না, ছিলেন আত্মজসম।  

তাই নায়কের চলে যাওয়ার এত বছর পরেও শোকাতুর এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। 

দেশের সিনেমা অঙ্গনে চার বছরের যাত্রায় সালমান শাহ বদলে দিয়েছিলেন চলচ্চিত্রের ধারা, পর্দায় এনেছিলেন নায়কোচিত আবেদন।  তাই তার মৃত্যু রহস্য, অভিনয়, ফ্যাশন-নিয়ে কয়েক প্রজন্মের কাছে চর্চিত নাম সালমান শাহ।    

শনিবার এই অভিনেতার ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। সালমানকে নিয়ে গ্লিটজের কাছে স্মৃতিচারণ করেছেন অভিনেত্রী ডলি জহুর। সালমান ছোটবেলায় টেলিভিশনের নাটকে অভিনয় করেছেন, তাকে ওই সময় থেকেই চিনতেন ডলি জহুর। 

ডলি জহুর বলেন, “সালমান আমাকে ‘আম্মু’ বলে ডাকত। যখন সে ছোট তখন টেলিভিশনে আমার সঙ্গে অভিনয় করত। সালমানের বাবা তাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন। সালমানের বাবা মাঝেমধ্যে ছোটখাটো অভিনয় করতেন। সালমান তখন আমার সঙ্গেই থাকত। আমার বাসায় যেত। পারিবারিক একটা সম্পর্ক তৈরি হয় তাদের সঙ্গে। বড় হয়েও পর্দার বাইরে আম্মু বলেই ডাকত।" 

সালমানকে কতটা মনে পড়ে সে কথা তুলে ধরে ডলি জহুর  বলেন, “সালমান তো নেই, ছেলেটার কথা মনে পড়ে খুব, কথা বলতে গেলে খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। আমি তার মা হতে পেরেছিলাম তা ভেবেই আমার ভালো লাগে।”

ডলি জহুরের কথায় সালমান ছিলেন উদার মনের এক মানুষ।

“বিরাট বড় আত্মা ছিল সালমানের। সবাইকে খাওয়াতে ভালোবাসত। একজন প্রোডাকশন বয়কেও গুরুত্ব দিত। ইন্ডাস্ট্রির গরিব সদস্যদের বাজার করে দিত, সাহায্য করত। এমন উদার মন খুব কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়। সালমান বেঁচে থাকলে তার অভিনয়, তার গুণ সবাইকে ছাপিয়ে যেত।”

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের দারিয়াপাড়ায় নানাবাড়িতে জন্ম সালমান শাহর। শৈশবে সংগীতের পাঠ নিয়েছিলেন ছায়ানটে, গেয়েছেন গানও।  

বিনোদনজগতে সালমানের যাত্রা শুরু হয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে।

সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় নায়িকা মৌসুমীর বিপরীতে প্রথম সিনেমা 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' করে ১৯৯৩ সালে বাজিমাত করে দেন সালমান। 

এই সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি উপহার পায় সালমান-মৌসুমী জুটি।তবে সালমানের ক্যারিয়ারের ২৭টি সিনেমার ১৩টির নায়িকাই ছিলেন শাবনূর।

'তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্নেহ’, ‘প্রেম যুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’, ‘দেনমোহর’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘আঞ্জুমান’, ‘মহামিলন’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘বিচার হবে’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘প্রিয়জন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেমপিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’সহ আরো সালমানের আরো কিছু সিনেমা সাড়া তোলে।

সিনেমায় আসার আগেই সামিরা হককে বিয়ে করেছিলেন সাল মান। ১৯৯৬ সালে ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনে সালমান শাহর বাসা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।  ঘটনায় মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও তা মানতে নারাজ পরিবার ও ভক্তরা। তাদের ভাষ্য, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে।

জনপ্রিয় এ চিত্রনায়কের মা নীলা চৌধুরী বলছেন, “সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে। আর যদি সে আত্মহত্যাও করে- সেটা তো সামিরার কারণে। তার কারণে আমি আমার ছেলেটাকে হারিয়েছি।”

এই মামলা যদি না চলে, নতুন করে হত্যা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:

আসছে সালমান শাহর বায়োপিক

মায়ের আপত্তিতে বন্ধ হলো সালমান শাহর বায়োপিকের কাজ