১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রেস্তোরাঁ মালিককে 'মারধর', সোহমের বিরুদ্ধে মামলা

রেস্তোরাঁ মালিক আনিসুল আলম বলছেন, পুলিশকে অভিযোগ জানিয়ে কোনো কাজ না হওয়ায় তিনি মামলার পথে হাঁটলেন।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2024, 02:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:46 AM

পশ্চিমবঙ্গের চণ্ডীপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এক রেস্তোরাঁ মালিককে মারধরের অভিযোগ গড়াল আদালত পর্যন্ত। 

বাদানুবাদ এবং মারধরের ওই ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় বুধবার অভিনেতার বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা ঠুকে দিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিক আনিসুল আলম।

আনন্দবাজার লিখেছে, পুলিশের কাছে আনিসুল দাবি করেছিলেন, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এরপর কলকাতা হাই কোর্টে জীবনের নিরাপত্তা ও তাকে মারধরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আবেদন করেন তিনি। 

হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা সেই আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে শুনানি হবে শুক্রবার। 

আনিসুলের আইনজীবী বলেছেন, তার মক্কেল (রেস্তোরাঁ মালিক আনিসুল আলম) এবং তার পরিবারকে সোহম হুমকি দিচ্ছেন। পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় আনিসুল আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার কলকাতার নিউ টাউনে একটি রেস্তোরাঁয়। ওই রেস্তোরাঁর দোতলায় সোহমের শুটিং চলছিল।

শুটিং চলার সময় রেস্তোরাঁর মালিক আনিসুল সেখানে রাখা সোহমের গাড়ি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আনিসুলের হট্টগোল সোহমের কানে পৌঁছালে তিনি শুটিং ফেলে নিচে চলে আসেন। রেস্তোরাঁ মালিকের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে আনিসুলকে মারধর শুরু করেন অভিনেতা।

এ অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আনন্দবাজার।

সে সময় তিনি তার আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন, “আগে আমার ও আমার প্রযোজনা সংস্থার কর্মীদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল। অকথ্য গালিগালাজ করা হয়, কুকথা বলা হয়। সেই সময়ে মাথা ঠিক রাখতে পারিনি। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন কাজ করা উচিত হয়নি। আমার ভুল হয়েছে।”

এই অভিনেতার ভাষ্য, “সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসছে না। গোটা হার্ড ডিস্কটা নিয়েই চলে গিয়েছেন ওই রেস্তোরাঁর মালিক আনিসুল। সেটা খুঁজে বের করা দরকার। তবে বিষয়টা প্রথমেই প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।”

অন্যদিকে আনিসুলের অভিযোগ, রোস্তোরাঁর সামনে ‘বেআইনিভাবে’ পার্কিং নিয়ে সমস্যা শুরু হয়। সোহম রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। কথা কাটাকাটির সময় সোহম রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের মারধর করেন।

মালিকের অনুমতি নিয়েই ওই রেস্তোরাঁয় শুটিং করতে গিয়েছিলেন জানিয়ে সোহম বলেন, “শুটিং শুরুর পরে নানা রকম আপত্তি তোলেন মালিক।”

সোহমের প্রযোজনা সংস্থা আনন্দবাজারকে বলেছে, রেস্তেরাঁয় শুটিং করার জন্য নগদ ১০ হাজার রুপি দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষকে, কিন্তু তারপরেও ঝামেলা শুরু হয়।

রেস্তোরাঁর মালিক শুটিংয়ের নানা মুহূর্ত ভিডিও করে করে কোনো এক ব্যক্তিকে পাঠাচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে প্রযোজনা সংস্থা।

সোহম বলেছেন, ঘটনার রাতেই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করতে চেয়েছিলেন।

“কিন্তু থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে বলেছিলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পরে প্রয়োজন হলে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হবে। এখন আমি প্রয়োজন মনে করলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারি।”

জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন কাজ করা কি উচিত হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তরে সোহম বলেন, “মানুষ হিসেবে আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছিল। তাই ঘটনাটা ঘটে গিয়েছে। এখন অনুশোচনা হচ্ছে।’’

তবে লিখিত অভিযোগ করার আগেই সোহমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলেন আনিসুল আলম।

পুরনো খবর

রেস্তোরাঁ মালিককে মারধরঅনুতাপে পুড়ছেন সোহম