১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সত্য বল সুপথে চল’ থেকে ফরিদা পারভীনের শুরু, এরপর কেবল অপার হয়ে বসে থাকা

সাঁইজির ‘সত্য বল সুপথে চল’ গানটি বদলে দেয় ফরিদা পারভীনের জীবনের বাঁক।

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Sep 2025, 10:07 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:45 PM

সংগীতের সঙ্গে ফরিদা পারভীনের যোগাযোগ শুরু মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। নজরুল, আধুনিক ও দেশের গান গাইলেও লালন ফকিরের গানেই নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। 

তরুণ বয়সে লালনের যে গান একরকম ‘উপেক্ষিতই’ ছিল ফরিদার কাছে, সেই সাঁইজির ‘সত্য বল সুপথে চল’ গানটি বদলে দেয় শিল্পীর জীবনের বাঁক। স্বাধীনতার বছরখানেক পর কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়াতে দোল পূর্ণিমার উৎসবে গুরু মোকছেদ আলীর অনুরোধে গাওয়া এই গানটি পরিবেশন করে নিজের মধ্যে ভেতরে এক ধরনের ‘অনুরণন’ অনুভব করেন বলে ভাষ্য ছিল তার। এরপর আর থেমে থাকেননি তিনি, চলেছেন লালনের পথে।

তবে লালনের গান ছাড়াও ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’সহ আরো কিছু গানে ফরিদা পারভীন নিজেকে পৌঁছে নিয়েছিলেন অন্য উচ্চতায়।

রোগব্যধিতে ধুকে শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যান ফরিদা পারভীন। লালনের এই কিংবদন্তি শিল্পীর কয়েকটি গানের খোঁজ তুলে ধরছে গ্লিটজ।

‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’

ফরিদা পারভীন গ্লিটজকে বলেছিলেন, “আমি লালনের গানে অন্তর আত্নার সাথে আত্মা মিলিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি। কেউ যদি লালনের বাণীগুলো অন্তর থেকে আত্মস্থ করতে পারে সে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন।”

‘সত্য বল সুপথে চল’

ফরিদা পারভীনের কথায়, “এই লালন ফকিরই আমাকে সবার প্রাণের মধ্যে উপস্থাপন করেছে। এই গান দিয়ে আমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলেই সেদিন 'সত্য বল সুপথে চল' গানটি আমাকে দিয়ে করিয়েছিলেন।”

‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’

ফরিদা পারভীন বলেছিলেন, “লালনের গান গেয়ে দর্শক শ্রোতার আশ্বস্ততা অর্জন করেছি।”

‘মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার’

লালনের কোন গানটি পছন্দ জানতে চাইলে ফরিদা পারভীন গ্লিটজকে বলেছিলেন, “সাঁইজির যতগুলো গান আমি গেয়েছি, আন্তরিকতার সঙ্গে গাওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই সবই আমার পছন্দের গান।”

‘জাত গেল জাত গেল’

শিল্পীর ভাষ্য, “এক পর্যায়ে অনুভব করি, লালন ফকির তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে অনবদ্য এক স্রষ্টা হয়ে উঠেছেন। এটা উপলব্ধি করার পর লালনের গান ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারিনি।”

‘সময় গেলে সাধন হবে না’

দীর্ঘ যাত্রায় একুশে পদক পাওয়া ফরিদা পারভীনের আক্ষেপ ছিল, “নতুন প্রজন্ম ‘শুদ্ধভাবে লালন চর্চা করছে না।” 

‘বড় সঙ্কটে পড়িয়া দয়াল’

লালনের গান উপস্থাপনার হালের প্রবণতাও ‘সঠিক নয়’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন ফরিদা পারভীন। তার মতে, হৃদয়ের গভীর উপলব্ধি থেকে লালন চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

‘শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে’

নিজের নামের আগে কোনো উপাধির ব্যবহার পছন্দ ছিল না ফরিদা পারভীনের। তিনি বলেছিলেন, “লালনের গানের সম্রাজ্ঞী হওয়া যায় না, অবগাহন করা যায়, আত্মস্থ করা যায়। এসব সম্রাজ্ঞী, রাণী, লালন কন্যা এসব উপাধি অযথা।”

‘এই পদ্মা এই মেঘনা’

ফরিদা পারভীনের গাওয়া অনবদ্য একটি দেশের গান ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’। এই গানের গীতিকার-সুরকার আবু জাফর ছিলেন ফরিদা পারভীনের সাবেক স্বামী। গানটি ফরিদা পারভীনকে পৌঁছে দিয়েছিল ভিন্ন উচ্চতায়। গানটি বিবিসির জরিপে সর্বকালের সেরা ২০টি গানের মধ্যে স্থান করে নিয়েছিল।

‘তোমরা ভুলেই গেছ মল্লিকাদির নাম’

আবু জাফরের কথা ও সুরে ফরিদা পারভীনের এই গানটিও পায় জনপ্রিয়তা।

‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়’

‘অন্ধ প্রেম সিনেমায়’ ব্যবহৃত ফরিদা পারভীনের এই গানটির গীতিকারও আবু জাফর। গানের সুর করেছিলেন প্রয়াত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।