Published : 07 Sep 2025, 04:56 PM
গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত ছয় বছরের শিশু হিন্দ রজবকে নিয়ে নির্মিত ডকুড্রামা ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দ্বিতীয় সেরা সিনেমার পুরস্কার পেয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণা করা হয় শনিবার।
সিএনএন বলছে, এবারের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সবচেয়ে আলোচিত সিনেমা হল ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’। গেল বুধবার সিনেমাটির প্রিমিয়ারের পর ২৩ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন দর্শকরা। করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে ভেনিস উৎসব।
অনুষ্ঠানস্থলে গাজার শিশুদের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ জিতবে সর্বোচ্চ পুরস্কার।
সিনেমাটি বানিয়েছেন ফরাসি-তিউনিসীয় নির্মাতা কাওথের বেন হানিয়া।
পুরস্কার হাতে নিয়ে হানিয়া বলেন, “হিন্দ রজবের গল্প কেবল এক শিশুকন্যার নয়। বরং দুঃখজনকভাবে গণহত্যার শিকার সমগ্র একটি জাতির কাহিনী।”
হানিয়া আরও বলেন, “এই সিনেমাটি রজবকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না, তার ওপর চালানো বর্বরতাও মুছে দিতে পারবে না। যা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তা কোনোদিনই ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে সিনেমা তার কণ্ঠকে সংরক্ষণ করতে পারে, সীমান্ত পেরিয়ে সেটিকে প্রতিধ্বনিত করতে পারে বহুদূর পর্যন্ত।
“তার কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে যতদিন না প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত হয়, যতদিন না ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।”
২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাড়িতে থাকা অবস্থায় হামলার মধ্যে পড়ে রজব এবং তার চাচা-চাচী ও তিন চাচাতো ভাইবোন। ওই সময়ে তারা প্রাণে বাঁচতে গাজার রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

কিন্তু এর পরপরই ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারায় রজব ছাড়া গাড়িতে থাকা সবাই। কিন্তু স্বজনের মরদেহ নিয়ে গাড়িতে আটকে থাকা অবস্থায় রজব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে সাহায্য চাচ্ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা ফোনকলের অডিওটি এই চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।
রজবকে উদ্ধারে যখন উদ্ধারকর্মীরা ওই গাড়ির কাছে পৌঁছে যান, ততক্ষণে ইসরায়েলিদের গুলিতে শিশু রজবের মৃত্যু হয়। প্রাণ হারান উদ্ধার করতে যাওয়া দুজনও।
ভেনিস উৎসবে ‘ফাদার মাদার সিস্টার ব্রাদার’ সিনেমার জন্য ‘গোল্ডেন লায়ন’ জিতে নেওয়া জিম জারমুশও ওই অনুষ্ঠানে গাজায় ইসরায়েলি হামলার ও তীব্র বিরোধিতা জানানোর বার্তা দিয়েছেন।
জারমুশের পোশাকের সঙ্গে একটি ব্যাজ লাগানো ছিল, যেখান লেখা ছিল ‘যথেষ্ঠ হয়েছে’।
সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাওয়া টনি সারভিল্লো ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙতে চেষ্টা করা নৌ অভিযানে যুক্ত কর্মীদের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
হরাইজনস সাইডবার বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছেন অন্নপূর্ণা রায়। ভারতীয় এই নির্মাতা তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সংস অব ফরগটেন ট্রিস’-এর জন্য পুরস্কার পেয়েছেন
তিনিও গাজা প্রসঙ্গে বলেন, “প্রতিটি শিশুই শান্তি, স্বাধীনতা ও মুক্তির অধিকারী। ফিলিস্তিনও এর ব্যতিক্রম নয়। আমি ফিলিস্তিনের পাশে আছি। এতে আমার দেশ অসন্তুষ্ট হতে পারে, কিন্তু এখন আর তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”