১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্থী আহমেদ একুশে পদক পাওয়ায় 'আপত্তি' নৃত্যশিল্পীদের

এ বছর নৃত্যকলায় কর্মক্ষেত্রে অবদানের জন্য যে নৃত্যশিল্পীকে একুশে পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেই মনোনয়ন নিয়ে নৃত্যাঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Feb 2026, 07:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

এ বছর নৃত্যকলায় একুশে পদকের জন্য যিনি মনোনীত হয়েছেন, তার 'যোগ্যতা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিদ্ধান্ত 'পুনর্বিবেচনা' করার দাবি জানিয়েছেন নৃত্যশিল্পীদের একটি অংশ।

২০২৬ সালে নৃত্যকলায় পদক নীতিমালা অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সোমবার 'বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীবৃন্দ' নামে একটি ব্যানারে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নৃত্যশিল্পীরা লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, "২০২৬ সালে নৃত্যকলায় একুশে পদকের মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে, নৃত্যাঙ্গনের অভিজ্ঞ, প্রবীণ ও স্বীকৃত ব্যক্তিত্বদের মতামত গ্রহণ করা হোক।"

একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করারও আহ্বান রেখেছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান, আনিসুল ইসলাম হিরু, আমানুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, এম আর ওয়াসেক, শারমিন হোসেন, মনিরা পারভিন, সৈয়দ মিনা নজরুল।

নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী লিখিত বক্তব্যে বলেন, "এই সংবাদ সম্মেলন কোনো ব্যক্তিবিশেষকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সঠিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রয়াস মাত্র। সেই সাথে একুশে পদকের যে মর্যাদা ও গাম্ভীর্য তা যেনো অক্ষুণ্ন থাকে।

"আমরা বাংলাদেশের সকল নৃত্যশিল্পী, নৃত্যকলার ন্যায্য স্বীকৃতি ও মর্যাদার পক্ষে অঙ্গীকারাবদ্ধ।"

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে সরকার চলতি বছরের একুশে পদকের মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। এ বছর নৃত্যকলায় এই পদক পেয়েছেন তরুণ নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ।

দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা অর্থী আহমেদের মত একজন তরুণ নৃত্যশিল্পী পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

অর্থী আহমেদ ছাড়াও এবছর চলচ্চিত্রে ববিতা, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), চারুকলায় অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস এবং ব্যান্ড মিউজিকে ওয়ারফেজ এই পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফারহানা চৌধুরী বেবী বলেন, "একুশে পদক বাংলাদেশের নৃত্যশিল্প ও নৃত্যশিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি এবং আমরা এই সম্মানকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করি।

"তবে এ বছর নৃত্যকলায় কর্মক্ষেত্রে অবদানের জন্য যে নৃত্যশিল্পীকে একুশে পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেই মনোনয়ন নিয়ে নৃত্যাঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।"

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, "একুশে পদক বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও মুক্ত চিন্তা-চেতনার প্রতীক, যা আজীবন সাধনা, সুদীর্ঘ অবদান এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনস্বীকার্য প্রভাবের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। বিশেষ করে নৃত্যকলার মতো একটি গভীর, ঐতিহ্যবাহী ও সাধনাভিত্তিক শিল্পক্ষেত্রে এই সম্মান প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রত্যাশিত।"

এবারের পদক নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, "২০২৬ সালে নৃত্যকলায় একুশে পদকের জন্য যে নামটি ঘোষিত হয়েছে, তার অভিজ্ঞতার পরিসর, বাংলাদেশে নৃত্যচর্চা ও নৃত্যশিক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি অবদান, এই বিষয়গুলো নিয়ে নৃত্যাঙ্গনের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রশ্ন ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।"

বাংলাদেশের নৃত্য ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে লোকনৃত্য, ধ্রুপদী নৃত্যের দেশীয় ধারার অভিযোজন, সমকালীন ও সৃজনশীল নৃত্যচর্চার ধারাবাহিক বিকাশের মাধ্যমে।

অর্থী আহমেদ নৃত্যচর্চা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের নৃত্যভূমিতে কী ধরনের মৌলিক, দীর্ঘস্থায়ী ও জাতীয়ভাবে প্রভাবশালী রেখেছেন–সেই প্রশ্ন তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, "বাংলাদেশে অসংখ্য সিনিয়র নৃত্যশিল্পী রয়েছেন, যারা কয়েক দশক ধরে নৃত্যচর্চা, নৃত্যশিক্ষা, গবেষণা, মঞ্চায়ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তাদের আজীবন অবদান থাকা সত্ত্বেও উপেক্ষিত হওয়া নৃত্যাঙ্গনের জন্য গভীরভাবে বেদনাদায়ক এবং হতাশাজনক।"

এছাড়া সোহেল রহমান, আবদুর রশীদ স্বপন, আমিনুল ইসলাম মনি, কচি রহমান, সাব্বির আহমেদ বিজু, আতিকুর রহমান উজ্জ্বল, বেনজির সালাম, অমিত চৌধুরী, চাঁদনী, কস্তুরী মুখার্জী, আরিফ হোসেন শামীম, কামরুল হাসান সাব্বির রবিন, গোলাম মোস্তফা ববি, ফিফা চাকমা, হাসান ইশতিয়াক ইমরান, মাসুম হোসাইন, নাজিব মাহিফুজ লিমন, জসিম হোসেন, ফরহাদ শামীম, আবু নাঈম উপস্থিত ছিলেন।