Published : 21 Jun 2025, 06:37 PM
সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ, একে একে ফিরে এসেছেন জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সাত সদস্য।
ছয়জন আগেই ফিরেছিলেন, সবশেষ বাকি থাকা সুগা ফিরেছেন শনিবার।
এখন প্রশ্ন একটাই, ভক্ত-অনুরাগীদের সামনে বিটিএস তারকারা তাদের পরিবেশনা নিয়ে আসছেন কবে। ভ্যারাইটি লিখেছে, বিটিএসের মূল প্রতিষ্ঠান হাইবের বরাতে কোরিয়া হেরাল্ড জানিয়েছে, আগামী বছরের মার্চে ফিরছে বিটিএস।
বাধ্যতামূলক ১৮ মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন আরএম, জিন, জে–হোপ, জিমিন, ভি ও জাংকুক।
শনিবার দলের সবশেষ সদস্য সুগার সামরিক সেবা শেষ হয়।
তবে এই র্যাপার গীতিকার দুর্ঘটনায় কাঁধে আঘাতের কারণে সামরিক বাহিনীর বদলে বিকল্প হিসেবে ‘সোশ্যাল সার্ভিস এজেন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২২ সালের ১৫ অক্টোবর ‘ইয়েট টু কাম’ কনসার্টে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল বিটিএসের পারফরম্যান্স। সেখানে বিটিএস সদস্যরা তাদের ভক্তদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সামরিক প্রশিক্ষণ থেকে ফিরে এসে আরও দারুণ সব গান উপহার দেবেন তারা। সেই সময় এসে গেছে।
ফেরার পর প্রায় তিন বছর পর একসাথে হবেন বিটিএসের সাত সদস্য। ভক্তরা অপেক্ষায় আছেন, কবে আবার তাদের একসঙ্গে মঞ্চে দেখা যাবে।
হাইবের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আগামী বছরের মার্চে বিটিএস ফিরছে।
অন্যদিকে বিটএসের মিউজিক এজেন্সি ‘বিগ হিট’ বলছে, বিটিএস তারকাদের প্রত্যাবর্তনে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তারিখ ঠিক হয়নি।
বিটিএস তারকা জিন ২৮ জুন থেকে তার একক কনসার্ট ট্যুর শুরু করতে যাচ্ছেন। যা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে বিটিএসের ফেরার সম্ভাবনা কম।
হাইবের আরেক গ্রুপ ‘টুমরো টুগেদার’ও আগামী বছরের মার্চে ফিরবে। তবে বিটিএস নাকি টুমরো টুগেদার—কোন ব্যান্ড আগে ফিরবে, তা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি।
হাইবের আরেক গ্রুপ এনহাইপেন প্রথমে মার্চে ফেরার পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে বিটিএসের কারণে সেটা এগিয়ে জানুয়ারিতে নিয়ে আসা হয়েছে।
কোরীয় তরুণদের এই প্রশিক্ষণ পর্বের প্রস্তুতি শুরু হয় সাধারণ ১৮ বছর বয়স থেকে। ২০ বছর বয়সের মধ্যে তাদের শারীরিক পরীক্ষা করা হয় যে, আদৌ সেই তরুণ সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত কী না। পরীক্ষায় পাস করলে পরে সুবিধাজনক সময়ে টানা ১৮ মাসের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে যেতে হয় তরুণদের।
তবে ২০২২ সালে আইন সংশোধন করে বিশেষ ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিল করে ৩০ বছর করা হয়। এই 'বিশেষ ক্ষেত্রের' মধ্যে পড়েন বিটিএসের সদস্যরা।
২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বিটিএস। সে সময় তাদের ডাকা হত 'পুচকে' নামে।

সে সময় বিটিএসের বেশির ভাগ গান কোরিয়ান ভাষায়, শুরুর দিকে বিটিএসের গানে কোনো সাবটাইটেল থাকত না। পরে ইংরেজিতেও গান শুরু করে তারা। এবং জনপ্রিয়তায় দক্ষিণ কোরিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
নিজেদের দেশ কোরিয়ায় ব্যাপক সাফল্যের পর ব্যান্ডটি প্রথমে দৃষ্টি দেয় সংগীতের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও। ২০১৭ সালে প্রথম কে-পপ ব্যান্ড হিসেবে পারফর্ম করে আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে।
'ম্যাপ অব দ্য সোল: পারসোনা' অ্যালবাম দিয়ে বিটিএস প্রথম কোরীয় ব্যান্ড হিসেবে ২০১৯ সালে ইউকে টপ চার্টের শীর্ষে জায়গা করে নেয়। এরপর লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে দুটি শো করে। এরপর প্রথমবার বিরতিতে যায় দলটি। অবশ্য কয়েক সপ্তাহ পরই নতুন ট্যুর নিয়ে ফিরে আসে আরএম, জিনরা।
২০২০ সালে বিটিএস এর সাফল্যের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। ওই বছর তাদের তুমুল জনপ্রিয় গান ‘ডিনামাইট’ এর জন্য প্রথম কোরীয় ব্যান্ড হিসেবে বিলবোর্ড হট ১০০ টপ চার্টের শীর্ষে উঠে আসে বিটিএস। একই বছর লেডি গাগা, আরিয়ানা গ্রান্ডে, টেলর সুইফটের মত তারকাদের হারিয়ে এমটিভি ভিডিও মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে বেস্ট পপ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পায় দলটি।
এছাড়া ‘বাটার’ ও ‘পারমিশন টু ড্যান্স’ গানের জন্য টানা যুক্তরাষ্ট্রের সিঙ্গেল চার্টের শীর্ষে ওঠে বিটিএস। একই বছর প্রথম কোরীয় ব্যান্ড হিসেব গ্র্যামি মনোনয়ন পায় বিটিএস।
প্রথম এশীয় ব্যান্ড হিসেবে বিটিএস আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার স্বীকৃতি পায় ২০২১ সালে।
ওই বছর গান থেকে দ্বিতীয়বারের মত বিরতি নেয় ব্যান্ডটি। তবে ফিরেও আসে আগেরবারের মত দ্রুত।