Published : 17 Feb 2026, 10:41 AM
চলতি বছর নৃত্যকলায় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন অর্থী আহমেদ। তরুণ এই শিল্পীর 'যোগ্যতা' নিয়ে প্রশ্ন তুলে, এই পদক 'পুনর্বিবেচনা' করার দাবি জানিয়েছেন নৃত্যশিল্পীদের একটি অংশ।
সোমবার 'বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীবৃন্দ' নামে একটি ব্যানারে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন নৃত্যশিল্পীরা।

তারা নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৬ সালে নৃত্যকলায় পদক প্রদান করা হয়েছে কী না, তা যাচাই করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
নৃত্যশিল্পীদের কেউ কেউ বলছেন, "২০২৬ সালে নৃত্যকলায় একুশে পদকের মনোনয়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে, নৃত্যাঙ্গনের অভিজ্ঞ, প্রবীণ ও স্বীকৃত ব্যক্তিত্বদের মতামত গ্রহণ করা হোক।"

একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করারও আহ্বান রেখেছেন তারা।
এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া জানতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যোগাযোগ করেছিল অর্থী আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, "যারা প্রেস কনফারেন্সে ছিলেন, তাদের অনেকেই আমার গুরুজন। আমি তাঁদের অত্যন্ত সম্মান করি।

"আমি প্রথম দিন থেকেই বলে এসেছি, এই স্বীকৃতি আমার গুরুজনদের প্রাপ্য—বিশেষ করে গুরু লুবনা মারিয়ামের।"
এই পদক পাওয়ার জন্য কোনো রকম ‘দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি’ বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অর্থী আহমেদ বলেন, "আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, কোনো ধরনের তদন্তে আমার পক্ষ থেকে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ কেউ পাবেন না। পদ্ধতির সমালোচনা তাঁরা প্রয়োজন মনে করলে অবশ্যই করতে পারেন।

"আমার গুরুজনেরা যদি আমার একুশে পদক বাতিলের জন্য রাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানান, তা জানাতেই পারেন। এটা নিয়ে আমার কোনো কিছু বলার নেই। আর রাষ্ট্র যদি আমাকে একুশে পদক দেওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচনা করে থাকে, তবে তা আমি অবশ্যই গ্রহণ করবো। আমার গুরুজনেরা আমাকে নিয়ে যে সমালোচনা করছেন, তা আমি ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করছি।"
ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে সরকার চলতি বছরের একুশে পদকের মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে। এ বছর নৃত্যকলায় এই পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন তরুণ নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ।

এছাড়া চলচ্চিত্রে ববিতা, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), চারুকলায় অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাসসুম, ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস এবং ব্যান্ড মিউজিকে ওয়ারফেজ এই পদকের মনোনীত হয়েছেন।
আগের খবর