Published : 10 Aug 2025, 08:09 PM
দক্ষিণ কোরিয়ার চার তরুণী-রোওজি, জেনি কিম, লিসা ও জিসু যখন ‘ব্ল্যাকপিংক’ গড়েছিলেন, তখন অনেকে ভেবেছিলেন, কতদূর আর যাবে মেয়েরা!
অনেকের সংশয়, তাচ্ছিল্যকে ভুল প্রমাণ করে ভিন্নধর্মী গায়কী ও নাচের তালে মাত্র কয়েক বছরেই তরুণ শ্রোতাহৃদয়ে জায়গা করে নেয় ব্ল্যাকপিংক। ইউরোপ থেকে এশিয়া, গানের উন্মাদনায় শ্রোতাদের বুঁদ করে রেখেছে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ডটি।
প্রতিষ্ঠার নবম বছরে এসে ব্ল্যাকপিংকের শিল্পীরা ব্যস্ত আছেন গান নিয়ে তাদের বিশ্ব সফর নিয়ে।
দ্য কোরিয়া টাইমসের প্রতিবেদনে এসেছে, নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত শুক্রবার রোওজি, জেনি কিম, লিসা ও জিসু তাদের শ্রোতাদের ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন। প্রকাশ করেছেন নিজেদের কিছু নতুন ছবি।
জেনি লিখেছেন, ‘সুন্দরীদের সঙ্গে নয় বছর!’
জিসুর ভাষ্য, ‘আমাদের বয়স নয়।’
রোওজি লিখেছেন, “আমরা সূর্যর চেয়েও উজ্জ্বল আলোয় জ্বলছি। সদস্যদের এবং সবাইকে ব্ল্যাকপিংকের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা। সবাইকে অনেক ভালোবাসি।”
‘আমাদের জগতের একজন সদস্য হওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ’, লিখেছেন লিসা।

গান নিয়ে বর্তমানে ‘ডেডলাইন’ নামের এই ওয়ার্ল্ড ট্যুরে আছে ব্ল্যাকপিংক।
ব্ল্যাকপিংকের ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্ট’ জানিয়েছে, গেল জুলাইয়ে সিউলের কাছের গোইয়াং শহরের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে কনসার্ট দিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্যুর শুরু করেছে তারা।
১৬টি শহরে ৩১টি শো করার কথা রয়েছে ব্ল্যাকপিংকের।
লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, টরন্টো, নিউ ইয়র্ক এবং প্যারিসে পরিবেশনার পর, দলটি মিলান, বার্সেলোনা, লন্ডন, কাওশিউং, ব্যাংকক, জাকার্তা, বুলাকান, সিঙ্গাপুর, টোকিও এবং হংকংয়ের প্রধান স্টেডিয়ামগুলিতে পরিবেশনার জন্য প্রস্তুতি ব্ল্যাকপিংক।
মেয়েদের মিউজিক গ্রুপ ব্ল্যাকপিংকের যাত্রা শুরু ২০১৬ সালের ৮ অগাস্ট। ‘হুইসেল’ ও ‘বুমবায়াহ’ গান দুটি নিয়ে ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘স্কয়ার ওয়ান’।
তখনই বিলবোর্ড চার্টে শুরু হয়ে যায় তোলপাড়। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে অ্যালবামটির ১০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়। বিলবোর্ডের টপচার্টে শীর্ষস্থান দখল করে নেয় অ্যালবামটি।
এরপর ২০১৮ সালের শুরুতে আন্তর্জাতিকভাবে নজরে আসে ব্ল্যাকপিংক। ব্রিটিশ শিল্পী ডুয়া লিপার সঙ্গে ব্যান্ডের গাওয়া ‘কিস অ্যান্ড মেকআপ’ গানটি সে বছর সাড়া ফেলে।
২০২০ সালে মুক্তি পায় তাদের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘বর্ন পিংক’। ওই বছরের অগাস্টে ‘পিংক ভেনম’ শিরোনামের গানটি নতুন করে আলোচনায় আনে দলটিকে। এরপর ওই মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের এমটিভি ভিডিও অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চ মাতায় কোরিয়ান ব্যান্ড দলটি।

তাদের সর্বশেষ সাফল্য হল যুক্তরাজ্যের চার্টে শীর্ষস্থান দখল করা। এ দলের পাঁচটি মিউজিক ভিডিও ইউটিউবে ১০০ কোটি বার দেখা হয়েছে। ৮ কোটির বেশি সাবক্রাইবার রয়েছে তাদের।
ব্ল্যাকপিংকের দুনিয়াজোড়া খ্যাতির পেছনে দলের সব সদস্যের জন্মস্থানের বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
রোজের জন্ম নিউ জিল্যান্ডে আর বেড়ে ওঠা অস্ট্রেলিয়ায়, তার মূল নাম রোজেন চেইয়ং। ২৭ বছর বয়সী জেনি কিমের জন্ম দক্ষিণ কোরিয়ায় হলেও এই গায়িকা বড় হয়েছেন নিউ জিল্যান্ডে।
আর দলের নৃত্যশিল্পী লিসা (২৬) থাইল্যান্ডের, তার আসল নাম লালিসা মনোবাল। জিসু কিম (২৮) একমাত্র সদস্য, যার জন্ম এবং বেড় ওঠা সবই দক্ষিণ কোরিয়ায়।
ভিন্নধর্মী গায়কী ও নাচের তালে মাত্র কয়েক বছরেই তরুণ শ্রোতাহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে ব্ল্যাকপিংক। ইউরোপ থেকে এশিয়া, গানের উন্মাদনায় শ্রোতাদের বুঁদ করে রেখেছে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ডটি।
২০২২ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ‘এন্টারটেইনার অফ দ্য ইয়ার’ হয় কোরিয়ান পপের এই ব্যান্ড দল।
ব্ল্যাকপিংকের ভক্তদের বলা হয় ‘ব্লিংক’।
আরও পড়ুন: