Published : 28 Apr 2026, 10:09 PM
প্রায় অর্ধশত নৃত্যদলের ছয় শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে বাদ্যের তালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসের প্রথম দিনের আয়োজন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে উদযাপিত হয় এ অনুষ্ঠান।

দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রথম দিন বিকেল ৫টায় জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সামনে দেশের প্রবীণ ও নবীন নৃত্যশিল্পীবৃন্দের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হয়।
পরে মিলনায়তনে শুরু হয় মূল পরিবেশনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
একুশে পদক পাওয়া নৃত্য গবেষক ও নৃত্যপরিচালক আমানুল হক, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন), শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী অসম্ভব রকম সিরিয়াস আমাদের এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে, শুধু নাচ না, গানসহ যা যা আছে৷ এমনকি স্কুলে মোটামুটি সব শিক্ষার্থী কমবেশি একটা-দুটো মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট শিখবে–এরকম স্বপ্ন তিনি দেখেন। যেখানে একটা রাষ্ট্রের সরকারের প্রধান এ ধরনের মানসিকতা রাখেন, আমি আশা করি সেখানে ভালো কিছু হবে।"
তিনি বলেন, "নাচের সাথে ফিজিক্যাল এক্সারসাইজের একটা যোগাযোগ আছে। আমাদের শিশুরা এখন ফিজিক্যাল মুভমেন্ট থেকে সরে যাচ্ছে। যদি নাচ ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে অসাধারণ একটা ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ আমাদের বাচ্চারা ঘরেই করতে পারে।"
অনুষ্ঠানে নৃত্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে আমানুল হক বলেন, "বাংলাদেশে নিত্য দিবস তেমন বড় পরিসরে পালন করা হয় না তবে শিল্পকলা একাডেমির এই উদযাপন ভালো লাগছে। আশা করি এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।"
সন্তানদের সাংস্কৃতিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

তিনি বলেন, "সন্তানদের ব্যাগের বোঝা কমিয়ে সংস্কৃতির দিকে পাঠান। অন্তত অন্য একটি পারফর্মিং আর্ট যেন তারা শেখে। সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন, যদি এখানে সাধারণ মানুষের অনুর্ভূক্তি না থাকে, তাহলে কিন্তু আমরা কোনো কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারব না। আমাদের শিল্প-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে সবাই এগিয়ে আসুন।”
উৎসবের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয় শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দের সমবেত নৃত্য ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। পরিচালনায় ছিলেন ফিফা চাকমা।
একে একে বিভিন্ন সংগঠন শাস্ত্রীয়, লোকজ ও সমকালীন ধারার নৃত্য পরিবেশন করে।

বেনজির সালাম এর পরিচালনায় ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায়’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যছন্দ 'নৃত্যদল' এবং কবিরুল ইসলাম রতন এর পরিচালনায় নৃত্য ‘মোরা ঝঞ্জার মতো’ পরিবেশন করে 'নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র'।
‘মাস্তকালান্দার, মন আমার দেহ ঘড়ি’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে 'স্বাত্তিক শিল্পাশ্রম', নৃত্য পরিচালনা করেছেন আরিফ হোসেন শামীম এবং ‘তোমায় আমি পাইতে পারি’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যযতন, নৃত্য পরিচালনায় মো. নাজমুল হক।
সমমাময়িক নৃত্য ‘চেইজিং ড্রিমস’ পরিবেশন করে 'সাধনা'। পরিচালনায় ছিলেন সাব্বির আহমেদ খান। এছাড়া সাইফুল ইসলাম সাকীর পরিচালনায় ‘এসো প্রিয় মন রাঙায়ে’ পরিবেশন করে ছান্দসিক।

নুসাইবা রহমানের পরিচালনায় ‘মকর পরব’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে নুপুরধ্বনি। বেলায়েত হোসেন খানের পরিচালনায় নৃত্য ‘কলঙ্কিনী রাধা’ পরিবেশন করে গুরুকুল কালচারাল সেন্টার।
এরপর নৃত্য ‘মেলবন্ধন’ পরিবেশন করে কাথ্যাকিয়া-দ্যা সেন্টার অফ আর্টস। পরিচালনায় ছিলেন জুয়েইরিয়াহ মৌলি ও এস এম হাসান ইশতিয়াক। অঞ্জলি নৃত্যাঙ্গন একাডেমি পরিবেশন করে ‘কত্থক -তারানা’ নৃত্য, পরিচালনা করেন মন্দিরা চক্রবর্তী।
মুনমুন আহমেদের পরিচালনায় জাপানি ও রাশিয়ান লোকনৃত্য পরিবেশন করে রেওয়াজ পারফরমার্স স্কুল। নাইমুর শাহাদাৎ এর পরিচালনায় নৃত্য ‘ধিতাং ধিতাং বোলে’ পরিবেশন করে নৃত্যকল্প। আকৃতি নৃত্যদল ‘কত্থক’ নৃত্য পরিবেশন করে, পরিচালনা করেন কচি রহমান। অন্তর দেওয়ানের পরিচালনায় ‘বিজু উৎসবের নৃত্য’ পরিবেশন করে কালারস অফ হিল।
এস আই শফিফের পরিচালনায় নৃত্য ‘আশেকজন দিওয়ানা’ পরিবেশন করে ঝংকার ললিতকলা একাডেমি। ‘ইন্সট্রুমেন্টাল (নির্মাণ) এর সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে ধ্রুপদী নৃত্যালয়; পরিচালনায় ছিলেন স্নাতা শাহরীন ও সংগীত পরিচালনায় ছিলেন নীল কামরুল।
শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, সমাপনী দিনে নৃত্য পরিবেশন করবে ২৩টি দল।