অনুষ্ঠান স্থগিত করে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান সাংস্কৃতিক কর্মীদের
বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে গানে গানে অর্থ ও ত্রাণ সংগ্রহের কর্মসূচিও নিয়েছেন কেউ কেউ।
দেশের পূর্বাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে পূর্বঘোষিত চারটি অনুষ্ঠান স্থগিত করে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে গানে গানে অর্থ ও ত্রাণ সংগ্রহের কর্মসূচিও হাতে নিয়েছেন কেউ কেউ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে শুক্রবার বিকাল ৩টায় কনসার্ট আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছিল ‘জরুরি সংযোগ’ নামে একটি প্লাটফর্ম। বন্যার কারণে সেই কনসার্ট স্থগিত করে সেখানে গানে গানে অর্থ, ওষুধ এবং শুকনো খাবার সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা। এ আয়োজনের তারা নাম দিয়েছেন ‘জরুরি সংযোগ’।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণবার্ষিকী ছিল গত ৭ অগাস্ট। এ উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় ছায়ানট মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ছিল ছায়ানট কর্তৃপক্ষের।
পরে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, “ছায়ানট মনে করে এই দুর্যোগকালে সকলের বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।”
অপরদিকে থিয়েটার অঙ্গনের চলমান সংকট নিয়ে নাট্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা চিল ‘বিক্ষুব্ধ থিয়েটারকর্মীগণ’ নামে একটি প্লাটফর্মের। শুক্রবার বিকালে বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এ আয়োজনে সারা দেশের নাট্যকর্মীদের মিলিত হওয়ার কথা ছিল।
তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে এ আয়োজন স্থগিতের কথা বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন ‘বিক্ষুব্ধ থিয়েটারগণ’ এর অন্যতম সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী হায়দার।
“আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে বানভাসি মানুষের সহযোগিতায় সকলের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ জরুরি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে থিয়েটার সংক্রান্ত মতবিনিময়ের চাইতে বানভাসি মানুষের পাশে থাকা বেশি প্রয়োজন। তাই শুক্রবারের পূর্বনির্ধারিত থিয়েটারকর্মীদের মতবিনিময়ের আয়োজনটি স্থগিত করা হচ্ছে।”
পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পরবর্তী তারিখ ঠিক করে দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া কোটা সংস্কার থেকে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে নিহতদের স্মরণে ‘লাল জুলাইয়ের কবিতা’ শিরোনামে শুক্রবার বিকাল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল ‘সাধারণ আবৃত্তিশিল্পীবৃন্দ’ নামে একটি প্লাটফর্মের।
কিন্তু বন্যা পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করে পরে তারিখ নির্ধারণের কথা জানিয়েছেন আয়োজকরা।
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম বৃষ্টিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ফেনী কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১০ জেলার মানুষ। হঠাৎ অস্বাভাবিক বন্যায় বিপদে পড়া এসব জেলার ৩৬ লাখের বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও দুর্গতদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহ করছে।
আরও পড়ুন-
