Published : 01 Feb 2026, 02:01 PM
মিষ্টি খেতে ভালো লাগে, কিন্তু স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা? তবে দীর্ঘদিন ধরেই পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব মিষ্টি এক রকম নয়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ধরনের চকলেট শুধু মন-ই ভালো করে না, শরীরের ভেতরে বয়স বাড়ার গতিকেও ধীর করতে পারে।
‘কিংস কলেজ লন্ডন’, যুক্তরাজ্যের ‘গ্রেট অর্মন্ড স্ট্রিট হসপিটাল চিলড্রেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’, ‘জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল হেল্থ’, কাতারের ‘ওয়েইল কর্নেল মেডিসিন’- এর মিলিত গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান সাময়িকী ‘এজিং ইউ-এস’-এ।
গবেষকেরা বিশেষভাবে নজর দিয়েছেন কোকো ও কফিতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের দিকে। আর এই পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কোকোতে থাকা একটি বিশেষ উপাদান ‘থিওব্রোমিন’ মানবদেহের বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণার পদ্ধতি
এই গবেষণায় সব মিলিয়ে ৫০৯ জন নারী অংশগ্রহণ করেন এবং তারা সবাই যমজ। কেউ অভিন্ন যমজ আবার কেউ ভ্রাতৃ যমজ।
গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস ও দেহের বিপাকসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। একই ধরনের জিন থাকার পরও খাদ্যাভ্যাসের পার্থক্য কীভাবে বয়সের ওপর প্রভাব ফেলে, সেটিই ছিল এই গবেষণার মূল খোঁজ।
কোকো ও কফি থেকে পাওয়া ছয়টি বিপাকজাত উপাদান পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ‘থিওব্রোমিন’ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।
থিওব্রোমিন কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গবেষণার তথ্যানুসারে, ‘রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়- ‘থিওব্রোমিন’ একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা কোকো বীজে প্রচুর পরিমাণে থাকে। এই উপাদান চকলেটের স্বাদ ও গুণাগুণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই থিওব্রোমিনের সঙ্গে মানুষের দীর্ঘায়ু এবং অনুকূল জিনগত বয়সের সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ যাদের শরীরে এই উপাদানের উপস্থিতি বেশি, তাদের জৈবিক বয়স তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে বাড়ে।
জিনগত বয়স ও বার্ধক্যের ব্যাখ্যা
শরীরের ভেতরে জিন কখন সক্রিয় হবে আর কখন নিষ্ক্রিয় হবে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় জিনগত নিয়ন্ত্রণ।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। যা শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রভাব ফেলে।
বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে এমন কিছু নির্দেশক তৈরি করেছেন, যেগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত জৈবিক বয়স এবং বয়স বৃদ্ধির গতি নির্ণয় করা যায়।
এই গবেষণায় দেখা গেছে, ‘থিওব্রোমিন’ এসব বিষয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কোকো বনাম কফি: কোনটি এগিয়ে
গবেষণায় কোকো ও কফি দুটোকেই তুলনা করা হয়েছে। কারণ দুটাতেই কিছু মিল থাকা উপাদান ধারণ করে। তবে বিশ্লেষণে দেখা যায়, কফিতে থাকা ক্যাফিইনের তুলনায় কোকোর ‘থিওব্রোমিন’ জৈবিক বয়সের ওপর বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সংবেদনশীল বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে গবেষকেরা নিশ্চিত হন, দীর্ঘায়ুর সঙ্গে থিওব্রোমিনের সম্পর্ক সবচেয়ে শক্তিশালী।
মস্তিষ্ক, হৃদ্যন্ত্র ও অন্ত্রের সম্ভাব্য উপকার
এই নতুন গবেষণায়, আগে প্রকাশিত কিছু গবেষণার তথ্যও উল্লেখ করা হয়। ছোট পরিসরে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষাগারে প্রাণীর শরীরে সীমিত মাত্রায় ‘থিওব্রোমিন’ প্রয়োগ করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে।
বেশি মাত্রায় এই উপাদান গ্রহণে রক্তে চর্বির মাত্রা উন্নত হয়, রক্তচাপ কমে এবং অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টি আরও স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। যদিও এসব তথ্য মানুষের ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
ধূমপায়ীদের জন্য বিশেষ ইঙ্গিত
গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। যারা ধূমপান করেন, তাদের জৈবিক বয়স সাধারণত দ্রুত বাড়ে।
তবে গবেষকদের মতে, ধূমপান বন্ধ করার পাশাপাশি থিওব্রোমিন-সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করলে জিনগত বয়সের উন্নতি হতে পারে।
একই সঙ্গে থিওব্রোমিন কোকোতে থাকা উদ্ভিদজাত উপাদানের রক্তনালির ওপর ইতিবাচক প্রভাব বাড়াতেও সহায়তা করে।
চকলেট খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
গবেষণাটি চকলেটের উপকারিতার কথা বললেও, এখানে পরিমিতিবোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের চকলেট সমান নয়।
বেশি চিনি ও চর্বিযুক্ত চকলেট নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে।
গবেষণায় যেটি গুরুত্ব পেয়েছে, তা হল কোকোসমৃদ্ধ চকলেট, যেখানে থিওব্রোমিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।
আরও পড়ুন