তরুণদের আর পেছনে তাকানোর সময় নেই: স্পিকার

“গ্রামে-উপজেলায় আজ ফ্রিল্যান্সার তৈরি হয়েছে, যারা বাড়িতে বসে কম্পিউটারে কাজ করে উপার্জন করছে,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 Nov 2023, 01:01 PM
Updated : 24 Nov 2023, 01:01 PM

প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার বিকাশ ঘটাতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “আজকে আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। তোমাদের সবার হাতে মোবাইল ফোন। সেই মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের সাথে তোমরা যুক্ত। এক মুহূর্তেই আমাদের কাছে খবরা-খবর চলে আসছে।

“এই সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়েই নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে বিকশিত করতে হবে। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশ আজ শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রসর হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে। তরুণদের পেছনে তাকানোর আর সময় নেই।” 

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে মিরপুর এগ্রিকালচারাল ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং স্কুলের (মটস) সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কারিগরি শিক্ষায় সরকার গুরুত্বারোপ করছে উল্লেখ করে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, “গ্রামে-উপজেলায় আজ ফ্রিল্যান্সার তৈরি হয়েছে, যারা বাড়িতে বসে কম্পিউটারে কাজ করে উপার্জন করছে। এভাবেই সকলকে সঙ্গে নিয়ে একসাথে স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে কাজ করে যেতে হবে।“

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে মটস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে জানিয়ে স্পিকার বলেন, “মটস পঞ্চাশ বছরে ৪৮ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কারিতাস বাংলাদেশ অবদান রেখেছে, যার অন্যতম প্রমাণ হচ্ছে মটস।”

মটস থেকে কোর্স সম্পন্ন করা শতকরা ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

“এখান থেকে চার বছর বা তিন বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করে যারা বের হচ্ছে, তারা কোনো না কোনো কর্মসংস্থান করে ফেলছে। সেখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, মটস যে ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়, তার চাহিদা আমাদের বাজারে ব্যাপক রয়েছে।”

সকাল থেকেই আনন্দ শোভাযাত্রা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘মট্স’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর আতিউর রহমান অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।

আতিউর রহমান বলেন, “আজকের বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে৷ সেক্ষেত্রে মটস থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অনেক অবদান রাখছে। কারণ তাদের অনেকেই দেশের বাইরে কাজ করছে। 

“মটস অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপ দিয়েছে। দেশ যে আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, সেখানে শুধু সরকারের অবদান নয়, বরং সবারই অবদান রয়েছে। মটসও সেখানে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে। আগামী দিনেও মানবসম্পদ উন্নয়নে আরো কাজ করে যাবে, এই আশা করি।” 

কারিতাস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও মট্স বোর্ড অব ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন সেবাষ্টিয়ান রোজারিও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ঢাকা আর্চডায়োসিসের আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, ঢাকা আর্চডায়োসিসের অবসরপ্রাপ্ত আর্চবিশপ কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, কারিতাস বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও খুলনা ডায়োসিসের বিশপ জেমস্ রমেন বৈরাগী, সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্, জুয়েল আরেং, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আলী আকবর খান, পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নমিতা হালদার, মট্সের পরিচালক জেমস্ গোমেজ।

মট্স কারিতাস বাংলাদেশের একটি ট্রাস্ট। ১৯৭৩ সাল থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।