তেল শোধনাগার স্থাপনে কুয়েতের প্রস্তাব মেনে কাজ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সরকার সেই শোধনাগার স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে জমি বরাদ্দ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Nov 2022, 02:21 PM
Updated : 17 Nov 2022, 02:21 PM

বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম শোধনাগার স্থাপনে কুয়েতের প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত ফয়সাল মুতলাক আলাদওয়ানি বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম তেল শোধনাগার স্থাপনের বিষয়ে নির্দেশের কথা সাংবাদিকদের জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম শোধনাগার নির্মাণে কুয়েতের প্রস্তাব বাস্তবায়নে কাজ করুন।”

গত বছর প্রধানমন্ত্রীর কুয়েত সফরের সময় কুয়েতের তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ বাংলাদেশে একটি পেট্রোলিয়াম শোধনাগার নির্মাণে তার দেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।

সরকার সেই শোধনাগার স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে জমি বরাদ্দ করেছে।

দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশ-কুয়েত যৌথ কমিশন গঠনের নির্দেশও প্রধানমন্ত্রী দেন বলে জানান প্রেস সচিব।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ও প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি ‘বিশেষ যত্ন’ নেওয়ার জন্য কুয়েত সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে বিশেষ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কুয়েত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কুয়েতের জনগণ বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মসূচিতে কুয়েতের সহায়তার কথা স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, কুয়েতে কর্মরত প্রবাসীরা কুয়েত ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে যাওয়ার আশ্বাস কুয়েতের রাষ্ট্রদূত দিয়েছেন বলে জানান প্রেস সচিব।

অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগের আহ্বান সিঙ্গাপুরকে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বৃহত্তর বিনিয়োগে সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সিঙ্গাপুর সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণের পাশাপাশি টেকসই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। আমি সিঙ্গাপুরের উদ্যোক্তাদের এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”

সিঙ্গাপুরের পরিবহন মন্ত্রী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বাণিজ্য সম্পর্ক মন্ত্রী এস ইশ্বরান বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে যান।

প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক অঞ্চলে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপনের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এস ইশ্বরান বলেন, উভয় দেশেরই পর্যটন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত রয়েছে এবং রিফুয়েলিং সুবিধাসহ কক্সবাজারে একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরপূর্তির বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

ইশ্বরান বলেন, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণ এবং সম্ভাবনাময় খাত অনুসন্ধানে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন বলেও জানান প্রেস সচিব। সিঙ্গাপুরের মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শক্তিশালী হয়েছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক