০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

তারেক রহমান- লিউ হাইশিং সাক্ষাৎ: উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সমর্থন ‘অব্যাহত থাকার’ বার্তা চীনের

“বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 02:43 PM

Updated : 04 Nov 2026, 02:43 PM

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের কমিউনিস্টি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং সাক্ষাৎ করেছেন।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই সাক্ষাৎ হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখাসহ দুই রাজনৈতিক দল চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে ছিলেন, ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তারেক রহমানের সাথে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।।

তিন দিনের সফরে লিউ হাইশিং ঢাকায় আসেন মঙ্গলবার রাতে। সিপিসি নেতা হিসাবে লিউ হাইশিংয়ের এই সফরে মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততাই বেশি গুরুত্ব পাবে।

উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

‘রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান সহযোগিতা’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিসির মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন বলে উপ প্রেস সচিব জানিয়েছেন।

শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, তারেক রহমান ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন প্রধানমন্ত্রী।

“লিউ হাইশিং বলেছেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন।”

‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রতি আস্থা’

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন লিউ হাইশিং।

উপ প্রেস সচিব বলেন, লিউ হাইশিং বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

লিউ হাইশিং বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন ‘অব্যাহত থাকবে’। বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া এখন তাদের দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এ ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে।

“সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে, কৃষির উন্নয়ন অবদান রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে সেই সাথে জীববৈচিত্র ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

‘দুই দলের সম্পর্ক বুহমাত্রিক করতে আগ্রহী’

উপ প্রেস সচিব বলেন, বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে আরও জোরদার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

“লিউ হাইশিং বলেছেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী।”

এ সময় বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এই বিষয়টির পাশাপাশি রিজিউনাল কম্প্রেহেনসিভ একোনোমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন লিউ হাইশিং।”