চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় ফের উদ্যোগী চীন

আনোয়ারা উপজেলায় ৭৮৩ একর জমির উপর হচ্ছে চীনের অর্থনীতিক অঞ্চল।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 August 2022, 07:13 PM
Updated : 11 August 2022, 07:13 PM

দীর্ঘদিন কাজ থেমে থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজে ফের উদ্যোগী হয়েছে চীন।

সেখানে ৭৮৩ একর জমির উপর ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ স্থাপনে বেজার সঙ্গে বৃহস্পতিবার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চীনের চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন।

আগারগাঁওয়ে বেজা কার্যালয়ে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাও লিয়ানঝি এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

২০১৪ সালের জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরকালে চীনা সরকার বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল স্থাপনের আগ্রহ দেখিয়েছিল। এরই প্রেক্ষাপটে চীন সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেজার মধ্যে চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন স্থাপনের জন্য একটি সমঝোতা চুক্তি হয়।

বাংলাদেশের ৩০ শতাংশ ও চীনের ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তখন চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবর ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে (সিএইচইসি) ভূমি উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করেছিল বেজা। অবশ্য কাজ শুরুর আগেই বিভিন্ন কারণে সেই উদ্যোগে ভাটা পড়ে।

ইউক্রেইন যুদ্ধ এবং তাইওয়ানের পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে চীনের টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে আট বছর আগের সেই উদ্যোগ আবার আলোচনায় এল।

বেজা সমঝোতা স্মারক সইয়ের খবর জানিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ইতোমধ্যে আনোয়ারায় ৭৮৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পে দুটি সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য ইউটিলিটি স্থাপনের কাজ শেষ করেছে বেজা। অর্থনৈতিক অঞ্চলের অফ সাইট অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বেজা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, “এ উদ্যোগ এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনামাত্র। একটি পরিকল্পিত চাইনিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির মাধ্যমে তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটবে।”

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি ধারা প্রশংসনীয়ভাবে অর্জন করেছে। চীন সরকার ও তার জনগণ সার্বিকভাবে বাংলাদেশের এই উন্নয়নের সঙ্গে কাঁধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতে চায়।

২০০৯ সালে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় হাত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি, বেসরকারি, জিটুজি ও বিদেশি অর্থনৈতিক অঞ্চল মিলিয়ে ইতোমধ্যেই ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান চিহ্নিতকরণ শেষ হয়েছে। তবে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ করে উৎপাদনে যাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক