বাজেট নিয়ে সিপিডির সংলাপে উত্তাপ ছড়ালেন মান্নান-খসরু
আমীর খসরু ‘অনির্বাচিত সরকার’ বলার পর মান্নান বললেন, “ডাকুন তো কালকে হরতাল, দেখি ১০০ জন লোক নামাতে পারেন নাকি?”
সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তাপ ছড়াল সিপিডির বাজেট সংলাপ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘অনির্বাচিত’ বলার পর তা নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান।
গত ১ জুন সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের চলতি মেয়াদের শেষ বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বরাবরের মতোই তা নিয়ে সংলাপের আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি।
তাদের সংলাপে সাধারণত সরকারের পক্ষে একজন এবং বিরোধী দলের পক্ষে একজন আমন্ত্রিত থাকেন। রোববার ঢাকার লেইক শোর হোটেলে এবারের আয়োজনে সে ধারাই উপস্থিত ছিলেন মান্নান ও আমীর খসরু।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আমীর খসরু বলেন, “বাজেট কে দিচ্ছে কারা দিচ্ছে? এরা কি জনগণের কাছে জবাবদিহির কোনো সরকার? তারা কি কোনো নির্বাচিত সরকার?
“তারা যদি ইলেক্টেড না হয়ে থাকে, তাহলে তো জবাবদিহির তো কোনো প্রয়োজন নাই। দ্যাট ইজ দ্যা ফান্ডামেন্টাল কোয়েশ্চন।”
“আমার মতে আপনি যখন আন ইলেক্টেড থাকবেন, তখন আপনার মধ্যে কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না,” মন্তব্য করে বিএনপি নেতা বলেন, এই দায়বদ্ধতা এড়িয়ে বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বাজেট প্রণয়ন করা হয়নি।
এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতার কথার সূত্র ধরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মান্নান।
তিনি বলেন, “আপনারা বলে বেড়াচ্ছেন, দেশে সুশাসন নেই। আমরা কোথায় কুশাসন করেছি, তার প্রমাণ দেন। জনগণের আদলতে যান, আইনের আশ্রয় নেন। খেলাধুলা করতে চাইলে গ্যালারীতে নয় মাঠে নামুন।”
“ডাকুন তো কালকে হরতাল, ডাকুনতো। দেখি ১০০ জন লোক নামাতে পারেন নাকি?” বিএনপি নেতার উদ্দেশে বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের দুই পাশে বসেছিলেন মান্নান ও আমীর খসরু।
মান্নান এরপর সিপিডির দেবপ্রিয়র উদ্দেশে বলেন, “আমি আমাদের সরকার, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার অনির্বাচিত সরকার? এই জবাবটা আপনার কাছে চাই।
“তারা (সিপিডি) যদি মনে করে আমরা নির্বাচিত সরকার, আমি তাদেরকে বলব যারা রেবেলাস (বিদ্রুপাত্মক) কথাবার্তা বলেন, অসত্য কথাবার্তা বলেন, অপমান করার চেষ্টা করেন, আপনাদের দায়িত্ব হবে অ্যাজ এ থিংক ট্যাংক ওই সম্বন্ধেও কথাবার্তা বলা।”
উত্তেজনা প্রশমনে তখন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “দ্যা পয়েন্ট ইজ ওয়েল টেইকেন।”
