আওয়ামী লীগ নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি বুমেরাং হতে পারে: সাইফুল হক
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংসদের ভেতরে বা বাইরে তাদের আর্থসামাজিক কর্মসূচি বা উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে বিতর্ক করতে দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুইদিনব্যাপী সভার প্রথম অধিবেশনে রাজনৈতিক প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, “পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতির মধ্য দিয়ে পরোক্ষভাবে তারা এখনও দেশের রাজনীতির নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠছে কি না, ভেবে দেখা দরকার।”
অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের সম্ভাবনা কোনো হটকারিতা বা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বাংলাদেশ নিয়ে দেশি-বিদেশি কোনো অপশক্তির তৎপরতাও আর বরদাস্ত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন সাইফুল হক।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংসদের ভেতরে বা বাইরে তাদের আর্থসামাজিক কর্মসূচি বা উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে বিতর্ক করতে দেখা যায় না। তারা এখনও দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া ও ভাইরাল হওয়ার ব্লেম গেমের পুরোনো রাজনীতির মধ্যেই বন্দি হয়ে আছে।”
দেশব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে সাইফুল হক বলেন, “রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে যে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, আরেকবার তা দেখা গেল।”
সাইফুল হকের সভাপতিত্বে সভায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, মাহমুদ হোসেন, রাশিদা বেগম, মাহবুবুল করিম টিপু, সজীব সরকার রতন, সাইফুল ইসলাম, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, সাইফুর রেজা মামুন, মীর রেজাউল আলম, ফিরোজ আলী, আওয়াল মাহমুদ, জামাল সিকদার, আবুল কালাম আজাদ, আইয়ুব আলী ও মোহাম্মদ স্বাধীন মিয়া বক্তব্য দেন।
সভার শুরুতে দলের প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামালসহ প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
