Published : 09 Apr 2026, 12:57 AM
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বাংলাদেশের আরও ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।
একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার তথ্য দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী এ সংস্থাটি; এর মূলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছে।
বুধবার প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট (এপ্রিল) সংস্করণে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এ উপলক্ষে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এদিন সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংস্থাটি।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যে সব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা রয়েছে সেগুলোতে নিশানা করে হামলা হামলা চালায় ইরান।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হারানোর পাশাপাশি ব্যাপক হামলার মুখেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে সম্মত হওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে বিশ্ব ব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, গত তিন বছর তথা ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব, শ্রম আয়ের ধীরগতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল কমিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার টানা তৃতীয় বছরের মতো বেড়ে ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ২১ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর ধারণা তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
দেশের খানা আয়-ব্যয়ের জরিপ করে সবশেষ ২০২২ সালে সার্বিক দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ হওয়ার তথ্য দিয়েছিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস।
আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা (দৈনিক আয় ৩ ডলার বা তার কম) অনুযায়ী, ওই তিন বছরে আরও ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে বলেও ধারণা দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।
সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুরুর আগে ধারণা ছিল, চলতি বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৫ লাখে।
বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসেবে জানুয়ারির পূর্বাভাস থেকে দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট কম প্রবৃদ্ধির নতুন পূর্বাভাস দেওয়া হল।
এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যা- যেমন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম বিনিয়োগ এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে।
এছাড়া, ২০২৫ সালের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও, আমদানি ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তা এখনও উচ্চ অবস্থায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।