Published : 01 Dec 2024, 04:27 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, তার ‘মনন সৃষ্টিতে’ সিপিডির গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ‘অশেষ ভূমিকা রেখেছে’।
রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে ট্রাস্টি বোর্ডের একজন সদস্য হিসাবে প্রধান উপদেষ্টার ভিডিও বার্তাটি সেখানে দেখান হয়।
তিনি বলেন, “সিপিডির ৩০ বছর পূর্তিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্ট্রি হিসাবে আমি সিপিডির সঙ্গে যুক্ত সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই আমার শিক্ষক সিপিডির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানকে। তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সময়ে তার ব্যতিক্রমী ভূমিকা রেখে চলেছেন।”
৩০ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রায় সিপিডি দেশে ও দেশের বাইরে সিপিডি একটি স্বনামধন্য ‘থিঙ্কট্যাঙ্ক’ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, “সিপিডি সব সময় স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করেছে এবং দেশের স্বার্থে নীতি নির্ধারকদের বিভিন্নসময়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
“দেশের সাধারণ মানুষের সামগ্রিক অবস্থার পরিবর্তন এবং দারিদ্র দূরীকরণের জন্য যে চেষ্টা আমি সারাজীবন ধরে করেছি, সিপিডির কাজে আমি সব সময় প্রতিফলন দেখেছি।”
বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সিপিডি নিয়মিত নীতি সংলাপের আয়োজন করে, সে কথা তুলে ধরে ইউনূস বলেন, ''যার অনেকগুলোতে আমি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকেছি। তাদের নীতি বিশ্লেষণ ও গবেষণা কার্যক্রম দেশের সার্বিক চিন্তা কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।''
বিগত ৩০ বছরের যাত্রায় বিভিন্নমুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সিপিডি একটি ‘নির্ভরযোগ্য ও নির্ভীক’ প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে বলে মনে করেন ইউনূস।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে আমি আশা করি সিপিডি অতীতের মতই বর্তমানে ও আগামীতে বুদ্ধিদীপ্ত অবদান অব্যাহত রাখবে। দেশ ও দেশের কল্যাণে অবদান রেখে যাবে।”
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।