Published : 06 Apr 2026, 03:22 PM
রেমিটেন্সে ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি ‘স্থিতিশীল’ জায়গায় পৌঁছানোয় এখন আর টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার নতুন করে না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
সংগঠনের প্রশাসক আব্দুর রহিম খানের নেতৃত্বে এফবিসিসিআইয়ের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে মোট ১২ দফা সুপারিশ করে।
এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর পরে সাংবাদিকদের বলেন, “ডলারের অভাব না থাকায় বিনিময় হার না বাড়ানোর জন্য বলেছি। টাকার মান যেন আর না কমানো হয়।
“গভর্নর আমাদের বলেছেন, দেশে ডলারের কোনো অভাব নেই। এক্সচেঞ্জ রেট বাড়ানোর কোনো সুযোগে নাই। কেউ যদি বাড়িয়ে দেয় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রপ্তানি খাতকে সহযোগিতা করতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) গঠন করা হয়। বর্তমানে তার আকার কমে দুই বিলিন ডলারে নেমেছে। এই পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে এফবিসিসিআই।
ইডিএফ ফান্ড থেকে পাওয়া ঋণের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ৫ বছর এবং সুদহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইডিএফ এর আকার দুই দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য এ তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হয়। এক সময় এর আকার ৭ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল।
এ তহবিলের অর্থ খেলাপি হয়ে যাওয়া, ঋণ নিয়ে ফেরত দিতে গড়িমসি ও একটি গ্রুপের কাছেই চার বিলিয়ন ডলারের মত অর্থ চলে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিবিদদের সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মানতে গিয়ে ইডিএফের আকার কমিয়ে আনা হয়।
এর বিপরীতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে স্থানীয় মুদ্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ‘রপ্তানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিল’ গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘আমরা বলেছি, ধীরে ধীরে কেইস-টু-কেউস বেসিস ধরে ফান্ডের আকার যেন বাড়ানো হয়।’’
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ব্যবসায় খরচ বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বলেছি, ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তা দিতে হবে।’’
সভায় ৫ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।
আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘আমানতকারী ও ঋণ গ্রহীতা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার কথা আমরা বলেছি। ব্যাংকিং খাতে যে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছিল তা ঠিক করা দরকার।’’
একক গ্রাহক ঋণ সীমা তুলে দেওয়ার দাবি তুলে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন তো ব্যবসার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তাই সীমাটি বাড়িয়ে দেওয়া দরকার।”
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘‘রপ্তানিকারকদের সহায়তা করতে পণ্য জাহাজীকরণের সময় একটি ঋণ নেওয়ার সুযোগ ছিল। সেটি এখন বন্ধ করা হয়েছে, আমরা বলেছি সেটি চালু করতে।’’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে চলে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন ব্যবসায়ীদের নীতি সহায়তা দিতে হবে। তাহলে ব্যবসা সচল থাকবে। অর্থনীতি সচল হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে।
বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগ ও উৎপাদন ধরে রাখতে জরুরি নীতি সমর্থন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ বাড়াতে সুদ কমানো, ডলার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় সুদের হার কমিয়ে এক অঙ্কে নামানো, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় জ্বালানি ও কাঁচামালের উচ্চমূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় ঋণের সুবিধা বাড়ানো, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, পুনঃতফশীলকরণ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ কার্যকর করা।