Published : 12 May 2026, 09:49 PM
প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ‘বিক্রির জন্য উৎপাদন’ পদ্ধতিতে কৃষকের গড় আয় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সহায়তায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিচালিত ‘বাংলা-শেপ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে এই সফলতা মিলেছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন ও পর্যালোচনা কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সেখানে জানানো হয়, ‘বাংলা-শেপ’ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। এর আওতায়, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘শেপ’ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের যথাযথ ধারণা দেওয়া হয়।
এর মাধ্যমে প্রচলিত ‘উৎপাদন করে বিক্রি’র ধারা থেকে সরে এসে কৃষকদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ‘বিক্রির জন্য উৎপাদন’ পদ্ধতিতে উৎসাহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ২ হাজার ৮১৪ জনের বেশি ক্ষুদ্র কৃষক বাংলা-শেপ প্রকল্পে অংশ নেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী রয়েছেন। এছাড়া, বাজারমুখী কৃষিচর্চায় ১১২টির বেশি কৃষক গ্রুপ গঠন করা হয়।
প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরে অনুষ্ঠানে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কৃষকদের গড় আয় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, কৃষিকাজ ও বাজার কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, পারিবারিক আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সরাসরি ভূমিকা এবং আয় ও সঞ্চয়ের সুযোগ বৃদ্ধিতেও এ প্রকল্প সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশে জাইকার মুখ্য প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো অনুষ্ঠানে বলেন, “বাংলা-শেপ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের গুরুত্ব বুঝতে শিখেছেন, যা তাদের আয় ও জীবনমানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই প্রকল্প অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষকদের চিন্তাধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করছে।”
প্রকল্পের সাফল্যের ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে ‘শেপ’ পদ্ধতি সম্প্রসারণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাইকা।
ভবিষ্যতে জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতিমালায় এ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত করা, সরকারি কৃষি কার্যক্রমে এর বিস্তার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার এবং কৃষকদের অর্থায়ন ও বাজারসুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জাইকা আশা করছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শাহীন আখতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের পরিচালক সৈয়দুজ্জামান, বাংলা-শেপ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হুমায়ুন কবির, টিম লিডার মাসাহিরো কাওয়ামুরা এবং এ আর মালিক সিডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউস সোপান মালিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী প্রকল্প, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, তদারককারী এবং প্রকল্পভুক্ত কৃষকরা কর্মশালায় অংশ নেন।