Published : 31 Mar 2026, 01:17 PM
আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের সারাবছর আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
সংস্থার চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, সারাবছর এ সুযোগ দিলেও প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন দাখিলকারীদের জন্য প্রণোদনা বা রিবেট দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে প্রাক-বাজেট অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
চলতি অর্থবছরে রিটার্ন দাখিলের সময় বারবার বাড়িয়ে মার্চ পর্যন্ত ঠিক করা হয়েছে। আর অনলাইনে আবেদন করে বাকি তিনমাস সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “এবার আইন করে করার চিন্তা করছি। প্রথম কোয়ার্টারে (প্রান্তিক) যারা রিটার্ন দেবেন, তারা ইনসেনটিভ বা রিবেট পাবেন।
“পরের কোয়ার্টারে রেগুলার রেটে আয়কর দেবেন। পরের কোয়ার্টারে একটু বাড়বে এবং সবশেষ কোয়ার্টারে আরেকটু বাড়বে।”
এদিনই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রথম দিন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব এবং টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকোর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কর জালের পরিধি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আবদুর রহমান খান বলেন, “আমরা ট্যাক্স নেট বাড়ানোর জন্য কিছু নতুন নতুন সিস্টেম আমরা আনতে চাই, বিশেষ করে ভ্যাটের ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক কাভারেজে নিয়ে আসার কথা। আমাদের ভ্যাট নেটটা অত্যন্ত ছোট এবং আমরা মার্জিনাল ভ্যাট পেয়ারদের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা রাখতে পারি।
“আমরা যেমন ইনকাম ট্যাক্সে আমরা যেটা করেছি, গত মানে ২০১৪ বা তার আগে থেকেই আমাদের ট্যাক্স পেয়ারের সংখ্যা খুব কম ছিল। ট্যাক্স পেয়ার বাড়ানোর জন্য আমরা অনেক জায়গায় বলেছি আপনি যদি ই-টিন না থাকে অথবা আপনি রিটার্ন না দেন, তাহলে আপনার এই এই সার্ভিসগুলো পাওয়া যাবে না। একই কাজ আমরা ব্যবসার জন্য করব এবার ভ্যাটের আইনে।”
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, যেমন আমাদের ১৪ লাখ ছিল ২০১৪ সালে, লেস দেন ১৪ লাখ টিআইএন ছিল; আজকে টিআইএন সংখ্যা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ, যদি আমরা অনেকে ১ কোটি ২০ লাখ রিপোর্ট করি। ১ কোটি ২৮ লাখ।
“এই গ্রোথটা কিন্তু হয়েছে শুধুমাত্র আমার এই আইনি প্রভিশনগুলো থাকার কারণে, আমরা কমপালশন (বাধ্য) করার কারণে।”
আবদুর রহমান খান বলেন, “একই কাজ যদি আমরা ভ্যাটের ক্ষেত্রে করতে পারি— আমাদের ভ্যাটেও আমি যখন জয়েন করি, এখানে ৫ লাখ প্লাস ছিল ভ্যাটের রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা; আমরা অনেক চেষ্টা-তদবির করে কয়েকটা ড্রাইভ নিয়ে এখন ৮ লাখের মত হয়েছে। এটা ৮ লাখ না, এটা ৮০ লাখ হওয়ার কথা মিনিমাম।
“এই বছর যেমন আমাদের বিজনেস কমিউনিটি থেকে উনারা বলেছেন যে, আমাদের ৬০ লক্ষ দোকানদাররা অনেক ভালো ব্যবসা করেছে, প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। তো তাহলে আমার সেই রিফ্লেকশনটা আমার ভ্যাট কালেকশনে কই? নাই তো। এইজন্য আমরা এই জায়গাতে একটা বড় কাজ করব বিশেষ করে ভ্যাটের নেট বড় করার জন্য।”
এ সময় সম্পদ কর এবং সিটি করপোরেশনের ভেতরে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের ক্ষেত্রেও কর বসানোর ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।