আমদানিতে কড়াকড়ি: ৩০ লাখ ডলার এলসির তথ্যও আগে জানাতে হবে

এর আগে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির এলসির তথ্য আগে জানাতে ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 July 2022, 06:44 PM
Updated : 28 July 2022, 06:44 PM

ডলার সাশ্রয়ে আমদানি পণ্য আমদানিতে আরও কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবে ৩০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের পণ্যের ঋণপত্র (এলসি) খোলার তথ্য ২৪ ঘণ্টা আগে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলার পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ জুলাই এলসি খোলার আগে ৫০ লাখ ডলার বা এর বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এমন কড়াকড়ি করা হয়েছিল।

ওই সার্কুলারে এলসি খোলার ২৪ ঘণ্টা আগেই নির্দিষ্ট ছক আকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সফটওয়ারে অনলাইনের মাধ্যমে জানানোর নির্দেশনা ছিল।

সেখানে পণ্য সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ তথ্যের মধ্যে মূল্য, পরিমাণ ও ইনভয়েস দিতে হবে।

আমদানি বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম পরিশোধে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সঙ্কটে ডলারের দাম বাড়ছে লাফিয়ে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও দুই বছরের মধ্যে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।

এজন্য ডলার সাশ্রয়ে বিলাসবহুল আমদানি পণ্য নিয়ন্ত্রণসহ আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় বেশি মূল্যের এলসিতে আরও নজরদারি বাড়াতে এমন পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে করে ৩০ লাখ ডলার বা এর বেশি মূল্যর পণ্য আমদানিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবুজ সংকেত নিতে হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।

১৪ জুলাই সাকুর্লার জারির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি এলসি আটকে দেয়। এগুলোতে পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য (যাকে ওভার ইনভয়েসিং বলা হয়) ও রপ্তানিকারক দেশে থাকা প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে।

এ সার্কুলারের উদ্দেশ্য ছিল, দেশে কী পরিমাণ পণ্য আমদানি হতে যাচ্ছে, কারা করছে, সেই পণ্যের মূল্য পরিশোধে কত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হতে পারে - সে বিষয়ে এলসি খোলার আগেই ধারণা পেতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কোভিড-১৯ এর প্রভাব কমে আসায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়; এর ফলে অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি বেড়ে যায়।

এরপর ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ে ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয়। বেড়ে যায় পণ্য পরিবহন ও আমদানি খরচ। এতেই চাপ বাড়ে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে। বিপুল ব্যয় মেটাতে কমতে থাকে রিজার্ভ।

বৈশ্বিক এ অর্থনৈতিক দুর্যোগের প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে আগাম সতর্ক হিসেবে সরকারও কৃচ্ছতার পথ অনুসরণ করতে শুরু করেছে।

খরচ কমিয়ে আনতে ডলার সাশ্রয়ে গত এপ্রিল থেকে বিলাসী পণ্য আমদানিতে লাগাম টেনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Also Read: ফল গাড়িসহ বিলাস পণ্য আমদানিতে ঋণ নয়

Also Read: আমদানির অর্থ পরিশোধে কড়াকড়ি: পণ্যের গতিপথ পর্যবেক্ষণ বাধ্যতামূলক

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক