Published : 16 Oct 2025, 03:21 AM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে কোনো প্রকার কারচুপি হলে সারাদেশকে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
তার অভিযোগ, ডাকসু ও জাকসুর মত ভোট কারচুপির জন্য যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভূমিকা পালন করে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ঠিক একইভাবে ভূমিকা পালন করেছে প্রশাসন।
ছাত্রশিবির চাকসুর ভোটে নিজেদের পরাজয় বুঝতে পেরে প্রশাসনকে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এই সভাপতি।
বুধবার রাত ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে চাকসুর ভোট কারচুপির অভিযোগে প্রতিবাদ অবস্থানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা তথ্য পাচ্ছি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে জামায়াত-শিবিরের চট্টগ্রাম বিভাগের সকল নেতাকর্মীকে ডেকে নিয়ে এসে এই পাহাড়ের পাশে তারা অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারা এই কার্যকলাপের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সরাসরি হুমকি প্রদান করে তাদের পক্ষে নির্বাচন ফলাফল নেওয়ার জন্য অবস্থান গ্রহণ করেছে।
“তারা হুমকি প্রদান করছে যে অবশ্যই তাদের পক্ষে যেতেই হবে। এই জামায়াতের সন্ত্রাসীরা যদি আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি অবতারণা করে, আমরা শুধুমাত্র জামায়াত নয়, শিবির নয়, আমরা তাদের সবাইকে সমূলে জবাব দেওয়ার জন্য যে ধরনের অবস্থান নেব। আমরা সেই ধরনের অবস্থান গ্রহণ করব।”
চাকসু নির্বাচনের ফল গণনায় কোনো প্রকার কারচুপি যেন না হয় তা নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান রাকিব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ বছর পর হচ্ছে চাকসু নির্বাচন, যাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।
ভোট শেষে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতারা নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তবে তারা ভোট বর্জন না করার কথা বলেন।
পরে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্র শিবিরকে ইঙ্গিত করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিব বলেন, “এই বটবাহিনী, গুপ্তবাহিনী তারা প্রতিনিয়ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে। কিন্তু তারা যেখানে তাদের নিজেদের ক্যান্টনমেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে সেখানেই তারা পরাজয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অর্থাৎ ডাকসু এবং চাকসুতে আমরা যে কারচুপির অভিযোগ করেছি আজ তা সত্যিকার অর্থে প্রমাণ হলো। আমরা সেগুলোর বিষয়েও সুরাহা আনবো।
“কিন্তু আজকে ছাত্রদল স্পষ্ট ভাষায় বলে দিচ্ছে, জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন যদি নির্বাচনের ফলাফলে কোনো কারচুপি করার পাঁয়তারা করে বাংলাদেশকে অচল করে দেওয়া হবে।”
এর আগে রাত ১১টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে চাকসু নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে অবস্থান নেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এসে জড়ো হন। পরে ১২টার দিকে অবস্থানের কারণ তুলে ধরেন ছাত্রদলের সভাপতি।
সেখানে রাত ১টা পর্যন্ত অবস্থান করার পর শাহবাগ থেকে রাজু ভাষ্কর্য পর্যন্ত মিছিল করে রাতের কর্মসূচি শেষ করে সংগঠনটি।
সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবরের উদাহরণ দিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাকিব বলেন, “বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে, চাকসু নির্বাচনে দুই শতাধিক ভোয়া ভোটারকে আটকে দিল প্রশাসন। চাকসু নির্বাচনে মুছে যাচ্ছে কালি বারবার অভিযোগ জানানোর পরও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তারপর চাকসু নির্বাচনে কর্মকর্তার সই ব্যতীত প্রায় ৪০০ ব্যালট বাক্সে পাওয়া গেল।
“আমরা সারাদিন এরকম সবকিছু অবলোকন করেও সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন কমিশন তারাও একটি বিষয়ে বলেছে যে অনেক খুঁজেও অমোচনীয় কালি পাওয়া যাচ্ছে না। কতটা দুঃখজনক বিষয়, আমরা বিগত সময়ে যেভাবে বারবার এই বিষয়গুলোতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি কিন্তু তারা সেই আমাদের যে অভিযোগগুলো আমলে না নিয়েই ডাকসু এবং জাকসুর ন্যায় ভোট কারচুপির করার জন্য যে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়া প্রয়োজন সে ক্ষেত্র তারা প্রস্তুত করে দিল”।
তিনি বলেন, “ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যখন চাকসু নির্বাচনকে অভিযোগ দিতে গেল, সেখানে ‘ছাত্রশিবিরের উগ্রবাদী সন্ত্রাসীরা’ লাঠিসোঠা হাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করতে উদ্যত আচরণ করেছে। আমরা তারপরও ভোট বর্জন করিনি। আমরা এত অনিয়ম, এত অভিযোগ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে ছিলাম।
“ইতিমধ্যে, ডাকসুতে যেভাবে রাত ৮টার পর একটি ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা জেনেছিল যে তারা নাকি বিজয়ী হতে যাচ্ছে। ঠিক একইভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও রাত আটটার পরেই সেই ছাত্র সংগঠনটি জানতে পেরেছে, তাদের বেশ কিছু পদে পরাজয় সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে সেই কারচুপির তালবাহনা আমরা দেখতে পাচ্ছি।”
এলইডি স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ছাত্রদলসহ অন্যান্য সব প্যানেলের প্রতিবাদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেউ কেউ নির্বাচন বর্জনও করেছে। শুধু ইসলামী ছাত্রশিবির এর বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। তাদের এ কার্যক্রমে স্পষ্ট হয়েছে, তারা প্রতিবাদ জানায় না। তারা এর সুবিধাভোগী হিসেবে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।
এ অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন