চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবপ্রযুক্তি সম্মেলনে ছিলেন ৫২০ গবেষক

সম্মেলনে মোট ২২০টি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Jan 2024, 04:34 PM
Updated : 27 Jan 2024, 04:34 PM

দেশ বিদেশের ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের ৫২০ জন গবেষকের অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে গেল আন্তর্জাতিক জীবপ্রযুক্তি সম্মেলন। 

এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ভারত, অস্ট্রিলিয়াসহ আটটি দেশের গবেষক ও শিল্প উদ্যোক্তারা এতে অংশ নেন। 

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদে যৌথভাবে দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)। 

সম্মেলনের সমন্বয়ক এবং চবির জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আদনান মান্নান জানান, সম্মেলনে মোট ২২০টি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। 

এছাড়া জীবপ্রযুক্তিতে নারী শীর্ষক একটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জীবপ্রযুক্তি গবেষণায় চড়াই-উতরাই পার করে সফল হওয়া নারী গবেষকরা তাদের গল্প তুলে ধরেন। 

অধ্যাপক মান্নান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০ জন অনুর্ধ্ব ৪০ বয়সের তরুণ বিজ্ঞানীকে এ সম্মেলনে সেরা তরুণ জীবপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ‘ইয়াং ইমার্জিন বায়োটেকনোলজিস্ট’ শীর্ষক পর্বে তারা গবেষণা তুলে ধরেন। 

সমাপনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধে ভারতের বিজ্ঞানী অধ্যাপক উৎপল বড়ুয়া বলেন, “মানুষের ডিএনএর অ্যাপটামার্স নামের এক ধরনের নিউক্লিক এসিডের সিকোয়েন্স নিয়ে আমি কাজ করছি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প বয়সেই ক্যান্সারের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।”

নতুন প্রজন্মকে জীবপ্রযুক্তিতে উদ্বুদ্ধ করায় সম্মেলনের আয়োজকদের ধন্যবাদ দেন তিনি। 

সম্মেলনে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শীপন দাশগুপ্ত বলেন, “সি-৪ নামে মাত্র একটি জিনকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে গাছের অন্তত ১০টি রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একই সাথে গাছের প্রজনন ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা যায়।” 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু রেজা তার পপুলেশন জেনেটিক্স নিয়ে গবেষণা সম্পর্কে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কার্ডিয়াক রোগগুলোকে আমরা মনে করি ধূমপান এবং লাইফস্টাইলের কারণে হয়। কিন্তু এখানে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ হয় জেনেটিক্যাল কারণে।” 

সম্মেলেনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “দেশের শিল্প উদ্যোক্তারা জীবপ্রযুক্তি গবেষণায় বিনিয়োগ করলে এর সুফল দেশের মানুষ পাবে। বিশেষভাবে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।” 

সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ড. মুস্তাফিজুর রহমান, এনআইবির গবেষক ড. মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ এবং চবির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফুরকান, আইসিডিডিআরবির জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. রুভানা রাকিব। 

এর আগে সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এমেরিটাস অধ্যাপক ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতি একে আজাদ চৌধুরী, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক আবু তাহের, সাবেক সচিব জিয়াউল আমিন।