বাড়ইপাড়া খাল প্রকল্পে সাড়ে ৯ কোটি টাকা পেলেন ক্ষতিগ্রস্তরা

চট্টগ্রাম নগরীর বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন; ২০২৪ সালের জুনে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Jan 2023, 03:07 PM
Updated : 19 Jan 2023, 03:07 PM

চট্টগ্রাম নগরীর বাড়ইপাড়া খাল খনন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪ জনের মাঝে সাড়ে ৯ কোটি টাকার চেক বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বাড়ই পাড়া মসজিদ মাঠে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

চেক বিতরণের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দালালের খপ্পরে পড়ে যাতে কোনোরকম হয়রানির শিকার না হয়ে ক্ষতিপূরণ নিতে পারেন, সেজন্য আমরা ইতোপূর্বেও মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এল.এ (ভূমি অধিগ্রহণ) চেক বিতরণ করেছি; যাতে অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সরাসরি আমাদের কাছে সমস্যার কথা বলতে পারেন।

“ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জমির প্রয়োজনীয় সকল উপযুক্ত কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল.এ শাখায় সরাসরি যোগাযোগ করলে অতি সহজে স্বল্প সময়ে হয়রানিমুক্তভাবে ক্ষতিপূরণ পাবেন।”

এছাড়া যে কোনো অভিযোগ ও প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক আবুল বাসার।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে ৪৪ জনকে ৯ কোটি ৫২ লাখ ৭৬ হাজার ১১৫  টাকার এল.এ চেক দেওয়া হয়।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মাসুদ কামাল, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এহসান মুরাদ, বাড়ইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ ফরহাদ, পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফুল আলম, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নগরীর বাড়ইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।

২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি হবে ৬৫ ফুট চওড়া। খালের দুই পাশে ২০ ফুট করে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি রাস্তা হবে এবং ছয় ফুট প্রস্থের দুটি করে ওয়াকওয়ে হবে।

বারইপাড়া হাইজ্জারপুল থেকে শুরু হয়ে খালটি নূর নগর হাউজিং, ওয়াইজের পাড়া, বলিরহাটের বলি মসজিদের উত্তর পাশ দিয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিশবে।

খাল খনন শেষ হলে পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ শুলকবহর, চান্দগাঁও, নাসিরাবাদ, মোহরা, পূর্ব ও পশ্চিম ষোলশহর, বহদ্দারহাট, বাকলিয়া ও চাক্তাই সংলগ্ন এলাকার মোট আটটি ওয়ার্ডের ১০ লাখ বাসিন্দা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে বলে কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা ।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ১৯৯৫ সালে করা ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খালটি খননের সুপারিশ করা হয়।

তার প্রায় দুই দশক পর ২০১৪ সালের জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন পায়।

তখন ঠিক হয়েছিল, ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন বছরের মধ্যে এ কাজ শেষ করা হবে। কিন্তু সরকারি অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় এবং জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতায় প্রথম মেয়াদে প্রকল্পের কোনো কাজই করতে পারেনি সিটি করপোরেশন।

এরপর ২০১৭ সালের নভেম্বর একনেকে প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনা করে আবারও অনুমোদন দেওয়া হয়। গত বছরে এপ্রিলে সবশেষ সংশোধনে প্রকল্পের সময় নির্ধারণ করা হয় ২০২৪ সালের জুন মাস; ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা।

এই ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ১০৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকাই যাবে প্রায় ২৫ দশমিক ২৩৫ একর জমি অধিগ্রহণে।

আরও পড়ুন-

Also Read: দ্বিতীয় দফায় চট্টগ্রামের বারইপাড়া খালের ব্যয় বাড়ল ৮.৪%

Also Read: চারগুণ ব্যয় বাড়িয়ে দ্বিতীয়বার উদ্বোধন হচ্ছে বারইপাড়া খাল খননের কাজ

Also Read: চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক উন্নয়নে ২৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প

Also Read: প্রকল্প গড়াল ৫ বছরে, ব্যয় ৩ গুণ বেড়ে

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক